প্রধানমন্ত্রীর ‘ইউটার্ন′, কী হবে কোটা আন্দোলনের? | বিশ্ব | DW | 13.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর ‘ইউটার্ন', কী হবে কোটা আন্দোলনের?

তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে৷ কিন্তু গতকাল সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি৷ কোটা তাহলে থাকছে? কতটা থাকছে? এ নিয়ে এখন কে কী ভাবছেন?

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি না রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এরপর কিছুদিন শান্ত থাকলেও প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা৷ আন্দোলনকারীদের কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর সমালোচনাও হতে থাকে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে৷ আন্দোলনকারীরা সেসব হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে৷ তারপর পুলিশও তৎপর হয়ে ওঠে৷ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এখন আন্দোলন চললেও নেতাদের অনেকেই পুলিশের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন৷ এরপরও আন্দোলন চলছে৷ আগামী রবিবার তাঁরা নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করবেন৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী একবার বললেন এটা বাতিল, আবার বৃহস্পতিবার বললেন উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে৷ তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে আগেই বিষয়টা জেনে-বুঝে বলতে হতো৷ প্রধানমন্ত্রী একটা কথা বললে সবাই আশ্বস্ত হয়৷ এখন আদালতের রায়ই যদি বাধা হয়, তাহলে আদালতে আপিল করে সামাধান করতে হবে৷ সবাই বোঝে কোটার একটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন৷ এটা সবাই স্বীকারও করেন৷ তাহলে যেভাবে করলে ভালো হয়, সবাই মিলেই সেটা করতে হবে৷ এটা নিয়ে অযথা ঝামেলা করার দরকার কী? দেখেন, যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, এখন তাদেরই অভিযুক্ত করা হচ্ছে, এটা ঠিক নয়৷ শিক্ষার্থীদের কথা তো ভাবতে হবে৷''

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত৷ এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ৷ কোটা ‘বাতিলে' প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এই কমিটি কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে৷ একটি মিটিংও তারা করেছে৷

গত বৃহস্পতিবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা পরিবর্তন করা যাবে না৷ এটা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে৷ পাশাপাশি কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগে যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, আন্দোলন হলেও তাঁদের ছাড়া হবে না৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘‘কোটা আন্দোলনকারী কাউকে আটক করা হচ্ছে না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছি না৷ শুধুমাত্র যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি৷ যাঁরা ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করেছে বা অগ্নিসংযোগ করেছে, তাঁদের ধরা হচ্ছে৷''

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'-এর যুগ্ম আহবায়ক লুবনা জাহান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কোটা সংস্কার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে পুরো বাংলাদেশের মানুষ হতাশ৷ প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘কোটা বাতিল৷' কিন্তু এখন আবার বলা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমানো যাবে না, ৩০ শতাংশ রাখা হবে৷ কিছুটা রাখুক, আমরাও চাই৷ কিন্তু ৩০ শতাংশ যেভাবে বলা হচ্ছে, আমরা মনে করি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে৷ পুরো জাতিকে হতাশ করেছে তাঁর এই কথা৷ আমরা কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো৷ আগামী রবিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে৷''

অপরদিকে নেতাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছেই৷ কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ৫ দিন ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি অনেক জায়গায়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে বলে জানা গেছে৷ তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই ক্লাস হয়েছে৷ তবে যে বিভাগগুলোতে ক্লাস হয়নি, সেসব বিভাগের শিার্থীদের বলবো, দাবি-দাওয়া থাকলে বিভাগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে উত্থাপন করতে৷ আমরা তার সমাধান করবো৷''

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পাঁচ বছর আগে আমি একটা লেখা লিখেছিলাম কোটার সংস্কারের জন্য৷ আমি নিজে চাই কোটার সংস্কার হোক৷ আসলে একশ' বছর পর তো আর মুক্তিযোদ্ধা কোটার দরকার হবে না৷ থাকবেও না৷ এখন কিছু রাখার প্রয়োজন আছে৷ তবে এই আন্দোলনটা যখন শুরু হয়েছিল, তখন যেভাবে ছিল, এখন কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেছে৷ কিছু কিছু আন্দোলনকারী এমন একটা ভাব তৈরি করেছে যে, মুক্তিযোদ্ধা কোটাই তাদের বিরক্তির কারণ৷ এটা তো উচিত না৷ আমি তো বলব, নারী কোটা আরো বাড়ানো উচিত৷ তবে শেষ কথা বলবো, এর একটা যৌক্তিক সমাধান হওয়া দরকার৷ সরকারের উচিত এটার সমাধান করা৷''এদিকে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘‘সরকারের যদি নিয়ত ঠিক থাকতো, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় এমেন্ড (সংশোধন) করতো৷ হাইকোর্টে এ বিষয়ে কোনো রায় আছে বলে আমার মনে হয় না৷ তারপরও হাইকোর্টের যদি এ ধরনের কোনো রায় থাকে, সেটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ব্যাপারে আছে৷ নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি না৷ তারপরও বলবো, প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা রক্ষা করতে, তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকারই তো হাইকোর্টে গিয়ে সেটাকে সংশোধন করতে পারে৷''

এ বিষয়ে আপনার মতামত লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন