প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ | বিশ্ব | DW | 01.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পোল্যান্ড

প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

আশি বছর আগে ঠিক আজকের দিনটিতে অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডের ভেস্টারপ্লাটেতে বোমা হামলা দিয়ে সূত্রপাত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের৷ ঠিক একই সময়ে দেশটির ভিয়েলুন শহরেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে৷

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পোল্যান্ডের ভেস্টারপ্লাটেকেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে৷ আর প্রতিবছরই ভেস্টারপ্লাটে থেকে স্মরণ করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে৷ আশি বছর পর এবার ভিয়েলুন শহরেও করা হচ্ছে স্মরণসভা৷

শহরটির বাসিন্দা ইয়ান টিসলার৷ ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর যখন ভিয়েলুন শহরে প্রথম বোমা আঘাত হানে টিসলারের বয়স তখন ছয় বছর৷ শিশু বয়সের এ স্মৃতি এখনো স্পষ্ট তাঁর কাছে, জানালেন টিসলার৷ 

আশি বছর আগের ভোরের বর্ণনা দিতে গিয়ে টিসলার বলেন, ‘‘যুদ্ধ বিমানের সাইরেনের শব্দে শেষ রাতে ঘুম ভাঙ্গে আমার৷ বুঝতে পারছিলাম না এ শব্দ কেন বা কোথা থেকে আসছে৷  বিছানা থেকে উঠে দেখি আমার বাবা-মা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করছেন৷'' তার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বোমা হামলা, যে হামলা আমাদের শহরটিকে তছনছ করে ফেলে মুহূর্তেই, জানান তিনি৷ 

টেসলার বর্ণনায় উঠে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর ভয়াবহ ও আতঙ্কগ্রস্ত মুহূর্তগুলো৷ ‘‘যখন প্রথম বোমাটি আমাদের শহরে আঘাত হানে, আমি আমার বাবার-মায়ের সাথে দৌঁড়ে গিয়ে বাড়ির এক পাশে অবস্থিত গ্যারেজটিতে আশ্রয় নেই৷ আমরা অনেকক্ষণ আটকে ছিলাম ওখানে৷ আর প্রতি মুহূর্তে ভাবছিলাম কিভাবে এড়ানো যায় বোমার আঘাত৷ দিন গড়িয়ে বিকেল হয়৷ আর তখন বুঝতে পারি বোমার আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে আমাদের শহরটি৷ ধারণা করতে পারি আমাদের বাড়িটি ছাড়া শহরের আর বাকী সবগুলো বাড়ি পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে, প্রাণ হারায় প্রায় ১২শ' লোক৷''

টেসলার পরিবার সেদিনই শহরত্যাগ করে৷ তবে এর মধ্যেই নাৎসি বাহিনী ঢুকে পড়ে শহরটিতে৷ সেখানে অল্প কিছু মানুষ তখনো বেঁচে ছিলেন, জানালেন তিনি৷ 

ইতিহাসবিদরা বলছেন, ভিয়েলুন শহরটিকে নিজেদের শক্তিমত্তা পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে দেখছিল নাৎসি বাহিনী৷ তারা জানতো যে, এ শহর থেকে কোন প্রতিরোধ আসবে না৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা করা হয় ভিয়েলুন শহরের এ হামলাকে৷

ভেস্টারপ্লেটে প্রতিরোধ

ভিয়েলুনে হামলা শুরু হওয়ার ঠিক মুহূর্ত আগে ভেস্টারপ্লেট পরিণত হয় রণক্ষেত্রে৷ এসময় দুইদেশের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা  বিরাজ করছিল৷ ভেস্টারপ্লেটের পাশ্ববর্তী শহর ডানসিগে, যার বর্তমান নাম ডানস্ক, অনেক জার্মান নাগরিক বাস করতো কিন্তু শহরটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল পোল্যান্ড সরকারের হাতে৷ পার্শ্ববর্তী দ্বীপ এলাকা ভেস্টারপ্লেটে  ছিল একটি অস্ত্রাগার যেখানে জার্মান বাহিনী হামলা চালায়৷ কিন্তু ভেস্টারপ্লেটের সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে এ হামলায় খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি নাৎসিরা৷ ইতিহাসবিদরা বলছেন, শুরুর এ যুদ্ধটিতে প্রায় তিন হাজার চারশ' জার্মান সেনা নিহত হয়েছিল আর বিপরীতে ১৫ জন পোলিশ সেনা নিহত হয়৷ বলা হয় যে, পোলিশ বাহিনীর এ বীরত্বকে সম্মান দেখিয়ে পরাজিত জার্মান সেনারা তাঁদেরকে স্যালুট জানিয়েছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মরণ সভায় প্রতিবারই পোলিশ বাহিনীর এ বীরত্বকে সম্মানের চোখে দেখা হয়৷

চলছে স্মরণ সভা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশি বছর উপলক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো পোল্যান্ড চলছে স্বরণসভা৷ জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ বিশ্বনেতারা জড়ো হয়েছেন দিনটিকে স্বরণ করতে৷ রবিবার পোলিশ শহর ভিয়েলুনের স্মরণ সভার বক্তৃতায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডোডো একে ‘হৃদয়বিদারক স্মরণ' বলে আখ্যায়িত করেন৷ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রায় দু'হাজার ব্যক্তির উপস্থিতে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নিরবতাও পালন করা হয়৷ 

এদিকে দেশটির ওয়ারসো শহরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশি বছর উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধান স্মরণসভাটি৷ জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী, চেক রিপাবলিক ও ক্রোয়েশিয়ার রাজনৈতিক নেতাসহ অনেকেই এ স্বরণসভায় উপস্থিত থাকবেন৷   

মনিকা সিয়েরাডস্কা/আরআর

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন