প্রতিরোধের মুখে নিরাপদ সড়ক আইন | বিশ্ব | DW | 18.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রতিরোধের মুখে নিরাপদ সড়ক আইন

১৬ দিন সময় দেয়ার পরও নতুন নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন পরিবহণ শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে৷ তবে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘‘কোনো চাপের মুখে এই আইন অকার্যকর করা যাবে না৷’’

১ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক আইন কার্যকরের কথা থাকলেও তা করা যায়নি৷ শুরুর দিনেই নানা জটিলতার মুখে আইন কার্যকর করতে এক সপ্তাহ সময় নেয়া হয়৷ এর উদ্দেশ্য ছিল আইনটি সম্পর্কে পরিবহণ মালিক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগকে সচেতন করা৷ শেষমেশ আরো সময় বাড়িয়ে ১৮ নভেম্বর (সোমবার) থেকে এই আইনটি কার্যকর করা হয়েছে৷
কার্যকরের প্রথম দিনে ঢাকায় বিআরটিএ'র আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করে৷ অভিযানে যেসব যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না, তাদের জরিমানা করা হয়৷
প্রথম দিনে কয়েক ঘণ্টা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়৷ আদালত যতক্ষণ ছিল ততক্ষণই চালক ও পরিবহণ শ্রমিকদের সাথে বেশ কয়েক জায়গায় কথা কাটাকাটি ও ঝামেলার খবর পাওয়া গেছে৷ বিশেষ করে মানিক মিয়া এভিনিউতে৷ সাধারণ যাত্রীরাও ভ্রাম্যমাণ আদালতে গিয়ে নানা ধরনের অভিযোগের কথা জানান৷ এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ভাড়া বেশি নেয়া, সিটিং সার্ভিস বলে লোকাল সার্ভিসের  সেবা দেয়া ইত্যাদি৷

অডিও শুনুন 01:23

আমাদের টার্গেট বেশি জরিমানা আদায় নয়: মাসুদুর রহমান

বিআরটিএ'র পরিচালক একেএম মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘প্রথম দিনে আটটি মোবাইল কোর্ট এক লাখ ২১ হাজার ৯শ' টাকা জরিমানা করেছে৷’’ জরিমানা এত কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের টার্গেট বেশি জরিমানা আদায় নয়৷ আমরা চাই আইনটি সবাই জানুক, সচেতন হোক৷ সে কারণেই আমরা শুরুতে কড়াকড়ি করছি না৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘প্রতিদিনই এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে৷ এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া৷’’
এদিকে দেশের খূলনা এবং রাজশাহী বিভাগের পরিবহণ শ্রমিকরা এই নতুন আইন কার্যকরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পরিবহণ ধর্মঘট ডেকেছে৷ এরমধ্যে রয়েছে রাজশাহী, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুড়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চাঁদপুর৷ এর ফলে দেশের অনেক এলাকার সাথে ঢাকার সড়ক পরিহণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে৷
চালক ও পরিকহণ শ্রমিকরা মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে তার বিরোধিতা করছেন ৷ নতুন এই আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো চালক যদি দুর্ঘটনার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটান, তাহলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায়ই মামলা হবে৷ এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড৷ তবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর জন্য চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর এবং এই অপরাধ জামিনের অযোগ্য৷ আগে এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তা জামিনযোগ্য ছিল৷
আইনে শুধু চালক ও পরিবহণ মালিক নয়, এবার পথচারীদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে৷ পথচারীকেও সড়ক-মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং, ওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার করতে হবে৷ যত্রতত্র রাস্তা পার হলে পথচারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে৷

অডিও শুনুন 02:37

কোনো ড্রাইভার ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না, একটা পিঁপড়াও মারে না: কাজী নুরুল ইসলাম

বিভিন্ন অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ পাঁচ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে৷উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগের আইনে যত্রতত্র হাইড্রোলিক হর্ন বাজালে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিল৷ এখন তা করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড৷
খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা পেশাদার ড্রাইভার৷ আমাদের বেতন বাড়ে নাই৷ কিন্তু জরিমানা বাড়ানো হয়েছে৷ ৫ হাজাার থেকে ২৫ হাজার এক টাকা জরিমানা আমরা কিভাবে দেবো৷ মনে হচ্ছে, আমরা যেন এই দেশের নাগরিক না, সব দায় আমাদের৷ এটা হলে আমাদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়৷ আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে৷’’
তিনি দুর্ঘটনায় শাস্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে৷ কিন্তু কোনো ড্রাইভার ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না, একটা পিঁপড়াও মারে না৷ আর পুলিশের তদন্তে আমাদের আস্থা নেই৷’’
এদিকে সোমবার সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  বলেছেন, ‘‘এই আইন আরো দেরিতে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ এসেছিল৷ সেই চাপ বিবেচনা করেই এই ১৫-১৬ দিন বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ তিনি বলেছেন, সড়ক পরিবহণ আইন বাস্তবায়নে আর সময় দেয়া যাবে না৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন