‘প্রতিবাদে গর্জে ওঠো’ মেয়েদের একটি নেটওয়ার্ক | জার্মানি ইউরোপ | DW | 04.04.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

‘প্রতিবাদে গর্জে ওঠো’ মেয়েদের একটি নেটওয়ার্ক

ইদানীং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের ঘটনা শিউরে ওঠার মতো বেড়ে যাচ্ছে৷ অন্তত কোনো কোনো খবরের শিরোনাম দেখে এই ধারণাই হয়৷

আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে জার্মানি বা পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে নারীরা বুঝি মোটামুটি নিরাপদেই আছেন৷ কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যায় ইউরোপ তথা জার্মানিতেও নানাভাবে নারীরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন৷ তবে এসবের চেহারাটা হয়ত খানিকটা ভিন্ন৷ পারিবারিক নির্যাতন থেকে শুরু করে, কর্মস্থলে, রাস্তাঘাটে সবজায়গাতেই মেয়েরা নিগ্রহ ও বৈষম্যের মুখে পড়ছেন৷

নির্দোষ আমোদ নয়

এক নারী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছিলেন এভাবে: ‘‘আমি অন্যান্য দিনের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম৷ হঠাৎ খেয়াল করলাম, এক কিশোর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আমার পেছনে খোঁচা দিয়ে গেল৷ পেছন ফিরে আবার একটু মুচকি হাসিও দিল৷'' এই ধরনের ঘটনা নির্দোষ মনে হলেও আসলে কিন্তু নয়৷ ভুক্তভোগী মেয়েরা রাস্তাঘাটে এই রকম হয়রানি বা ‘স্ট্রিট হ্যারাসমেন্ট'-কে হালকা চোখে দেখেন না৷ তাঁদের মতে, এইভাবেই মারাত্মক ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়৷ যা পরে সহিংসতায়ও রূপ নিতে পারে৷ বলেন ‘ব্রুল্ট সুরুক' বা ‘হলব্যাক'-এর উদ্যোক্তারা৷ হলব্যাকের অর্থ করলে দাঁড়ায়, ‘প্রতিবাদে গর্জে ওঠ'৷ স্ট্রিট হ্যারাসমেন্টের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে অ্যামেরিকায় গড়ে ওঠে এই নেটওয়ার্ক৷

Screenshot http://berlin.ihollaback.org/share-your-story/ Kampagne holla back!

‘হলব্যাক’ নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইট

গড়ে উঠেছে নেটওয়ার্ক

ইতোমধ্যে জার্মানিসহ ২৫ দেশের ৬২টি শহরে সক্রিয় এই আন্দোলন ‘হলব্যাক'৷ এই নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইটে ভুক্তভোগী মেয়েরা বেনামিতে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে পারেন৷ অন্যান্যদের সঙ্গে সমস্যাটা ভাগাভাগি করতে পারেন৷ যৌন হয়রানির ধরন ধারণ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে৷ যা যৌন ইঙ্গিত, যৌনতা প্রদর্শন থেকে শুরু করে যৌন হামলা পর্যন্ত গড়ায়৷ হলব্যাকের অন্যতম উদ্যোক্তা ইউলিয়া ব্রিলিং বলেন, এই ওয়েবসাইটে মেয়েরা কোনো সংকোচ বা দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই এই ধরনের ঘটনা বর্ণনা করতে পেরে হালকা বোধ করেন৷ এই সব কাহিনি ইন্টারনেটের একটি ফোরামে দেয়া হয়৷ এতে করে অন্যান্য মেয়েরাও সাবধান হতে পারেন৷

হলব্যাকের প্ল্যাটফর্মে ড্রেসডেনের এক মেয়ে লিখেছেন, ‘‘হ্যালো, আমি ১৩ বছর বয়সে আলাউন পার্ক দিয়ে যাওয়ার সময় ধর্ষিত হই৷ আজ পর্যন্ত কাউকে বলিনি একথা৷''

গুগল-এর ম্যাপে লক্ষ্য করা যায়, কোথায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল৷ এটা দেখে অন্য মেয়েরা সতর্ক হতে পারেন৷ জায়গাটি এড়িয়ে চলতে পারেন৷

Screenshot von der Website harassmap

হ্যারাসম্যাপে দেখা যাচ্ছে কোথায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে

হ্যারাসম্যাপ প্রকল্প

হলব্যাকের প্রণোদনা জাগিয়েছিল মিশরের মেয়েরা, যেখানে যৌন হয়রানি প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা৷ সেখানে ২০১২ সালে ‘হ্যারাসম্যাপ’ নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলা হয়৷ কোথাও যৌন নির্যাতন ও যৌন হয়রানি ঘটলে তা তুলে ধরা হয় হ্যারাসম্যাপে৷ ভুক্তভোগী মেয়েরা এসএমএস ও টেলিফোনের মাধ্যমে খবরাখবর জানাতে পারেন৷

ইদানীং ভারত থেকেও এই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই৷ গত ডিসেম্বর মাসে দিল্লির একটি চলন্ত বাসে এক তরুণীকে দুর্বৃত্তরা গণধর্ষণ করে৷ এ ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ৷ সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে ঘটনাটি৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে নতুন একটি আইন পাশ হল সম্প্রতি৷ এতে অপরাধীর জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে৷

অবশ্য ভারতে নারী অধিকারবাদীরা ইন্টারনেটে বেশ কিছুদিন ধরেই সক্রিয়৷ ২০১১ সাল থেকে ‘ফাইটব্যাক' নামে একটি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা৷ মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য এই উদ্যোগটি গড়ে তোলা হয়৷ এতে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল টেলিফোন ব্যবহার করা হয়৷ কোনো মেয়ে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে এসএমএস ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদের জানাতে পারেন এই ঘটনা৷ এর ফলে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷

ডিজিটালের মাধ্যমে প্রতিরোধ এখন মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম টুইটার পর্যন্ত গড়িয়েছে৷‘চিৎকার', ‘শাউটিংব্যাক' ইত্যাদি হ্যাশট্যাগে মেয়েরা তাঁদের নির্যাতন ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন৷

Demonstration gegen sexuelle Gewalt gegen Frauen Delhi Indien

ভারতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সচেতনতা সব ক্ষেত্রে

মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রচারণা খুবই জরুরি৷ বলেন, ইউলিয়া ব্রিলিং৷ নারী বৈষম্য একটি সামাজিক সমস্যা৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতককে প্রশ্ন করা হয় না, কেন তুমি এটা করলে? বরং নির্যাতিতাকেই দোষ দেওয়া হয়৷ কেন তুমি ওখানে গিয়েছিলে? কেন ঐ রকম পোশাক পরেছিলে? ইত্যাদি ইত্যাদি৷ সবার আগে এই ধরনের চিন্তাধারাটা বদলাতে হবে৷ এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে দায়ী না করে অপরাধীকেই সামনে আনতে হবে৷

আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী স্ট্রিট হ্যারাসমেন্টের ওপর একটি বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে৷ এর ফলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমগুলির আগ্রহ জেগে উঠবে৷ রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সচেতনতা বাড়বে৷ নারী অধিকারবাদী ইউলিয়া ব্রিলিং-এর মূলমন্ত্র: ‘‘চালিয়ে যাও, সব ক্ষেত্রে লড়াই কর৷ খানিকটা সময় লাগলেও, ফল একদিন পাওয়া যাবেই৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন