প্রতিনিধিদের ১০০ ভাগ ভোট পেলেন মার্টিন শুলৎস | বিশ্ব | DW | 20.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

প্রতিনিধিদের ১০০ ভাগ ভোট পেলেন মার্টিন শুলৎস

জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের নতুন সভাপতি ও আগামী সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলেন মার্টিন শুলৎস, যিনি হাই স্কুলের পড়া পর্যন্ত শেষ করেননি৷

অবশ্য সেটাই এই ঝানু রাজনীতিকের একমাত্র পরিচয় নয়, যেমন পুস্তকবিক্রেতার পেশাটা তিনি শিখেছিলেন বটে, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশিদিন কাজ করেছেন একটি ছোট শহরের মেয়র হিসেবে৷ এবং আজ জার্মানিতে তাঁর মূল পরিচয় হলো এই যে, তিনি সোজা আসছেন ব্রাসেলস থেকে, যেখানে তিনি ইউরোপীয় সংসদের সভাপতির পদটি সফলভাবে অলঙ্কৃত করেছেন৷

সাবেক সভাপতি সিগমার গাব্রিয়েল প্রায় কাউকে না জানিয়ে শুলৎসের সঙ্গে কথা বলে এসপিডি দলের এই নবায়ন পরিকল্পনার রূপরেখা স্থির করেন৷ রবিবারের বিশেষ সম্মেলনে সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হলো: প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে মার্টিন শুলৎসকে তাদের দলীয় সভাপতি এবং আগামী সংসদীয় নির্বাচনে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনীত করলেন৷ ৬০৫টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৬০৫টি ভোটই পেয়েছেন শুলৎস৷

‘‘এই ফলাফল চ্যান্সেলরের দপ্তর পুনরাধিকার করার পথে প্রথম পদক্ষেপ, বলে আমার ধারণা'', ফল ঘোষণার পর মন্তব্য করলেন শুলৎস৷

ভোটের আগে প্রদত্ত তাঁর ভাষণে শুলৎস বিশেষ করে সামাজিক সাম্যের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন৷ তথাকথিত ‘শুলৎস এফেক্ট' বা শুলৎস প্রভাবের কারণে এসপিডি জনমত সমীক্ষায় প্রায় দশ শতাংশ এগিয়ে সিডিইউ-সিএসইউ দলকে প্রায় ধরে ফেলেছে; জনপ্রিয়তায় ম্যার্কেল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, শুলৎস তার কাছেই রয়েছেন৷ এই শুলৎস প্রভাব শুধু এই নতুন মানুষটির জন্যই নয়, তিনি যে বার্তা নিয়ে এসেছেন, তার জন্যও বটে৷

‘‘এসপিডি আবার ফিরেছে'', বলেন শুলৎস, ‘‘এবং সেটা জার্মানি ও ইউরোপের মানুষদের জন্য সুখবর৷ আমরা যদি নিশ্চিত না করি যে, সব কিছু সামাজিক ন্যায়সংগত ভাবে চলবে, তাহলে সেটা আর কেউই করবে না৷''

সমাজতন্ত্রী ও ইউরোপপন্থি

দলীয় সম্মেলনে শুলৎস এবং অন্যান্য বক্তারা বারংবার শ্রমিক সংগঠনগুলির নাম করেছেন, কেননা সামাজিক গণতন্ত্রীদলের জনসমর্থনের প্রথাগত ভিত্তিই এখানে৷ অপরদিকে শুলৎস ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি তাঁর দলের সমর্থনের সপক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন৷

‘‘যারা এই জোটকে (ইউরোপীয় ইউনিয়নকে) বাতিল করতে চায়, তারা দেখবে যে, আমি একজন জোরালো প্রতিপক্ষ'', বলেন শুলৎস৷ ‘‘কেউ যদি ভাবে যে, জাতীয় স্বার্থকে ইউরোপ থেকে আলাদা করা যায়, তাহলে সে জার্মানির ভবিষ্যতের অপচয় করছে৷''

শুলৎস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পরোক্ষভাবে একহাত নিতে ছাড়েননি৷ তিনি বলেছেন যে ‘‘ফেক নিউজ'' এবং ‘‘জনগণের বড় বড় গোষ্ঠীকে অপবাদ'' দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ‘‘জার্মানিতে তার কোনো স্থান নেই''৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘‘একজন জার্মান চ্যান্সেলর স্পষ্ট বিপরীত অবস্থান নিতে পারেন'', শুলৎস পরে তাঁর ভাষণে বলেন৷ এর আগে তিনি সাবেক এসপিডি চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডারের প্রশংসা করেন, কেননা শ্র্যোডার ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন৷

গরিব মেহনতি মানুষদের জন্য ‘শ্রদ্ধা'

শুলৎস নিজে এসেছেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবার থেকে; তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও সংকট ও পদস্খলন এসেছে, কিন্তু তিনি সব সত্ত্বেও এগিয়ে যেতে পেরেছেন৷ কাজেই দলীয় সম্মেলনে তাঁর ভাষণ, এবং তার আগে ও পরের বহু মন্তব্য থেকে শুলৎসের ভবিষ্যৎ প্রচার অভিযানের একটি মূলমন্ত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে: তিনি খেটে খাওয়া, নিম্ন আয়ের প্রতিটি মানুষকে ‘‘শ্রদ্ধার সঙ্গে'' বিবেচনা করতে চান৷

ঠিক সেই কারণেই সিডিইউ-সিএসইউ দল যে কর হ্রাস করার, প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোর এবং সামাজিক খাতে খরচ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তার সমালোচনা করেন শুলৎস৷ ‘‘এই সব পরিকল্পনা অত্যন্ত অন্যায় এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এছাড়া এর ফলে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়'', প্রতিনিধিদের হর্ষধ্বনির মধ্যে বলেন শুলৎস – এবং বেকারভাতার মেয়াদ বাড়ানো ও কর্মহীনদের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণের বিষয়ে তাঁর নিজের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করেন৷

তথাকথিত ‘শুলৎস এফেক্ট'-এর একটি ফলশ্রুতি ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে: গত জানুয়ারি মাস যাবৎ এসপিডি দলে ১৩,০০০ নতুন সদস্য যোগদান করেছেন৷

জেফারসন চেজ/এসি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন