প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার আরো ই-কমার্স ব্যবসায়ী | বিশ্ব | DW | 06.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার আরো ই-কমার্স ব্যবসায়ী

গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযানে এবার গ্রেপ্তার হলেন অনলাইন টিকেটিং এজেন্সি ‘টুয়েন্টিফোর টিকেটি ডটকম' এবং ‘নিরাপদ ডটকম' ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক৷

গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগে গত কিছু দিনে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকমসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ 

‘টুয়েন্টিফোর টিকেটি ডটকম' পরিচালক ৩৫ বছর বয়সি রাকিবুল হাসানকে সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি৷

মো. মুসা মিয়া সাগর নামে এক ‘প্রতারিত' গ্রাহক রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় গত ৩ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রতারণার মামলা করায়কে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানিয়েছেন৷ মামলায় রাকিব ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সিইও প্রদ্যোত বরণ চৌধুরী, আসাদুল ইসলাম, এম মিজানুর রহমান সোহেল, রাজ্জাকের বোন নাসরিন সুলতানাকে আসামি করা হয়েছে৷

ঢাকার দক্ষিণখানের কাওলা এলাকা থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিরাপদ ডটকমের পরিচালক ২৯ বছর বয়সি ফারহানা আফরোজ এ্যানিকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি৷ এ্যানির বিরুদ্ধেও একই ঘটনা অর্থাত প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক প্রতারিত গ্রাহকের করা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার৷

গ্রাহকের টাকা নিয়ে আরো পালিয়েছে ‘আনন্দের বাজার' নামের আরেকটি কোম্পানি৷ আনন্দের বাজার কোম্পানির অফিস গুলশানের জব্বার টাওয়ারের ১৩ তলায়৷ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক গ্রাহক সেখানে গিয়ে অফিসটির তালাবন্ধ দেখেন৷

গত বছরের জুলাই মাসে আনন্দের বাজারের ব্যবসা শুরু হয়৷ নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেল, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করত তারা৷ শুরুতে কিছু গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করলেও পরে পণ্যের জন্য টাকা নিয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করেনি৷ গ্রাহক আফসার উদ্দিন, এম এ হোসাইনের মতো অনেকে মোটা অংকের টাকা জমা দিয়েও তাদের পণ্য় পায়নি৷ কোম্পানিটি সময়মতো পণ্য না দিতে পারায় গরাহকদের কাউকে চেক দেওয়া হয় কিন্তু একাউন্টে টাকা না থাকায় কোনো ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যায়নি জানিয়েছেন গ্রহকেরা প্রথম আলোকে৷ এতে কত গ্রাহক প্রতারিত, কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তদন্তের পর জানা যাবে, ভাষ্য পুলিশের৷

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েক দফায় আনন্দের বাজারের এমডি আহমুদুল হক খন্দকারের সঙ্গে মুঠোফোন, খুদে বার্তা  এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি৷

একের পর এক ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসছে৷ এর মধ্যে ইভ্যালি, ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ, নিরাপদডটকম, কিউকম ও এসপিসি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ৬ কোম্পানি অন্তত ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে৷

ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় যারা এখন কারাগারে আছেন তারা হলেন, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন, ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান এবং প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা আমানউল্লাহ, ই-অরেঞ্জের মূল মালিক বলে পরিচিত পুলিশের পরিদর্শক সোহেল রানা৷ এবং ধামাকা শপিংয়ের সিওও সিরাজুল ইসলামসহ তিনজন কর্মকর্তা৷

বিজ্ঞাপন দেখে টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের ২৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত শুক্রবার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে, তিনিও এখন কারাগারে৷

এ ছাড়াও বিমানের টিকিট বিক্রির নামে ৬৭টি এজেন্টের কাছ থেকে ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ‘২৪টিকেট ডটকম'৷

এনএস/কেএম(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, প্রথম আলো)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়