প্রকৃতিই যখন মঞ্চসজ্জার প্রেক্ষাপট | অন্বেষণ | DW | 15.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রকৃতিই যখন মঞ্চসজ্জার প্রেক্ষাপট

মঞ্চসজ্জা নাটক বা জলসার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে৷ কিন্তু সেই মঞ্চ প্রকৃতির কোলে একটি হ্রদের উপর হলে প্রকৃতি ও নিসর্গও মঞ্চসজ্জার অংশ হয়ে উঠতে পারে৷ এক শিল্পী অস্ট্রিয়ায় এমনই এক জাদুময় পরিবেশ সৃষ্টি করছেন৷

নারীর বিশাল দু'টি হাত উড়ন্ত তাস দিয়ে যুক্ত৷ কারমেনের মুক্তির সংগ্রামের এটাই প্রতীক৷ জর্জ বিসে-র অপেরায় ঊনবিংশ শতাব্দীর সেভিল শহরের এই দৃশ্য অস্ট্রিয়ার ব্রেগেনৎস শহরে ভাসমান মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠছে৷

ব্রিটিশ মঞ্চশিল্পী এস ডেভলিন অনেককাল ধরে সঠিক মঞ্চসজ্জা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছেন৷ তারপর কনস্টানৎস হ্রদে তিনি এক বিশাল ভাস্কর্য সৃষ্টি করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই হ্রদের প্রেক্ষাপটে ২০ বছর ধরে কাজ করা বিশাল দায়িত্বের কাজ৷ চারটি দৃশ্যের জন্য একটি আইডিয়া আঁকড়ে ধরে কাজ করতে হয়৷ চারটি ভিন্ন আইডিয়ার অডিশন করে একটি বেছে নিয়েছি৷ অনেক উৎকণ্ঠা ও বিনিদ্র রাত কেটেছে৷''

কারমেন এমন এক চরিত্র, সব পুরুষ যাকে ভালোবাসে৷ নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখতে শেষ পর্যন্ত সে অবশ্য নিঃসঙ্গ থেকে যায়৷ ৫৯টি বিশালাকার তাস সেই মুহূর্তের প্রতীক তুলে ধরে, যখন কারমেন তার ভবিষ্যৎ দেখতে চায়৷ এস ডেভলিন বলেন, ‘‘এই মঞ্চে কারমেনই সঠিক নাটক, কারণ স্বাধীনতা বা বাতাস, নিয়তি ও পানির একটা টান অনুভব করা য়ায়৷ তাই আমাদের মনে হলো, এই সব তাস উপর ও নীচের টানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে৷''

ভিডিও দেখুন 03:47
এখন লাইভ
03:47 মিনিট

প্রকৃতির কোলে শিল্পীর অভিনব মঞ্চসজ্জা

মঞ্চসজ্জায় হ্রদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে শামিল করা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল৷ এস ডেভলিন মনে করেন, ‘‘নাটকের প্রথম পর্ব প্রকৃতির৷ সূর্যাস্ত বা পানি যা করছে, পাখি ও হাস যা করছে – সেই পর্ব তারই অংশ৷ বৃহত্তর এই মঞ্চ থেকে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করাই আমাদের কাজ৷ নাটক শুরু হওয়ার ২৫, ২৬, ২৭ মিনিট পর আকাশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে ওঠে৷ তখন মঞ্চের প্রতি মনোযোগ অনেক বেড়ে যায়৷ তারপর পুরো অন্ধকার হয়ে যায়৷ প্রকৃতি থেকে শিল্পের কাছে হস্তান্তর ঘটে৷ সমসাময়িক পপ গায়ক হোক আর ঊনবিংশ শতাব্দীর অপেরা শিল্পীর লেখা গানই হোক, প্রক্রিয়াটা একই থাকে৷ গানের কথা পড়তে হয়, নিজের বোধশক্তি কাজে লাগিয়ে সেই গানের গল্প বলতে একটা পরিবেশ স্থির করতে হয়৷''

হ্রদের ধারে অপেরায় কাজ করে ব্যস্ত এই মঞ্চসজ্জা শিল্পী নতুন এক জগত আবিষ্কার করেছেন৷ এস ডেভলিন বলেন, ‘‘এতে সত্যি সবচেয়ে আনন্দ পাই৷ আমি এখানে পাকাপাকিভাবে থাকতে চলে আসবো৷ সেটাই ইচ্ছা৷ পাহাড়ের উপর বাড়ি তৈরি করবো, টিম এখানে নিয়ে আসবো৷''

‘কারমেন' ব্রেগেনৎস শহরে এস ডেভলিন-এর শেষ কাজ নয়৷ ২০শে আগস্ট পর্যন্ত বর্তমান মৌসুম চলবে৷ তারপর আবার পরের বছরের গ্রীষ্মে এই উৎসব ফিরে আসবে৷

গেয়ারহার্ড সনলাইটনার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও