প্রকল্প চালাতে প্রয়োজন আরো ঋণ, বোঝা কত বাড়বে? | বিশ্ব | DW | 25.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

প্রকল্প চালাতে প্রয়োজন আরো ঋণ, বোঝা কত বাড়বে?

স্থানীয় প্রশাসনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি প্রকল্পের বিপুল খরচ সামলানোর লক্ষ্যে এই নিদান। কিন্তু কী হবে পুরসভার টাকার উৎস।

Indien TMC-Kandidatin Mamata Banerjee nach dem Wahlsieg

ফাইল ফটো

 ঢালাও সরকারি অনুদানের জেরে কি রুগ্ন হয়ে পড়বে রাজ্যের কোষাগার?

একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে অনুদান তুলে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ জন্য টাকার সংস্থান করতে গিয়ে যে রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের উপর অনেকটাই চাপ পড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। সম্প্রতি তিনি জেলাস্তরে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি মন্ত্রী, নেতা, জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছেন, "কেউ আর কিছু চাইবেন না। চাইলে আমি দিতে পারব না। নিজেরা করে নিন।"

প্রশাসনের অনুমান ছিল, ২ কোটি মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যুক্ত হবেন। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষের আবেদন এসেছে। দেড় কোটি আবেদনে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর সিংহভাগই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ অর্থ মাসিক ৫০০ টাকা পেয়েছেন, যা তফসিলি জাতি-উপজাতির ক্ষেত্রে হাজার টাকা। এ বাবদ মাসে ৮০০ কোটি টাকা রাজ্যের খরচ। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

আগামী বছরের গোড়ায় প্রকল্পে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়লে এই খরচ আরও বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমার অগ্রাধিকার। ওটা চলবে। এই প্রকল্পে খরচ বছরে ১৬ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আমি অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করব। টাকা দাও, টাকা দাও করবেন না। অত টাকা সরকারের নেই।"

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ছবিটা কী? দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য, ইতিমধ্যে দুই কোটি ৩০ লাখ পরিবার এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছে। প্রতি পরিবারে গড়ে চারজন করে সদস্য ধরা যেতে পারে। সূত্রের খবর, বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসাথীর ক্ষেত্রে খরচ দাঁড়াতে পারে বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। এই খাতে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য বছরে খরচ হতে পারে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

এই বিপুল খরচ আসবে কোথা থেকে? অর্থনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এ জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হবে। রাজ্য সরকার কমবেশি ওই অঙ্কের টাকাই ঋণ নিতে পারে। এক্ষেত্রে যে সরকার পিছু হটবে না, সেটা বোঝাতে মমতা বলেছেন, "সরাসরি আর্থিক সুবিধার চালু প্রকল্পগুলি চলবে। এগুলিতে কাউকে মাথা গলাতে দেব না।"

পরিস্থিতি যখন এমন, তখন মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে স্বাবলম্বী হওয়ার নিদান দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কামারহাটি পুরসভার উপ মুখ্য প্রশাসক তুষার চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, "স্বাবলম্বী হওয়ার অর্থ কথায় কথায় সরকারের থেকে টাকা না চাওয়া। আমরা পুকুর লিজ দিয়েছি। বড় কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য অর্থ ধার্য করেছি। এ ভাবেই বিভিন্ন পথ খুঁজে নিতে হবে।" দমদম পুরসভার উপ মুখ্য প্রশাসক বরুণ নট্ট ডয়চে ভেলেকে বলেন, "আমরা অনুষ্ঠান বাড়ি করেছি যা থেকে ভাল ভাড়া পাওয়া যায়। ট্রেড লাইসেন্স, বিজ্ঞাপন বাবদ কিছু আয় হয়। যদিও এ সব যথেষ্ট নয়।"

অডিও শুনুন 03:07

‘অনুদান দিয়ে সমস্যা মেটে না, এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ে না’

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারের বিপুল অনুদানে দীর্ঘমেয়াদি কোনো লাভ হবে না। কিন্তু প্রশ্ন, রাষ্ট্র যদি জনতাকে সামান্য সাহায্য করে, তাতে আপত্তি কোথায় যখন বিশ্বজুড়ে মন্দায় কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হচ্ছে? এর জবাবে অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "অনুদান দিয়ে সমস্যা মেটে না। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না, উল্টে সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ে। পরিবারের একজনের অনুদানের বদলে একজন কাজের সুযোগ পেলে ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা উচিত।"

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্যসাথী ছাড়া আরো অনেক প্রকল্প রয়েছে রাজ্যে। দুয়ারে রেশন থেকে কৃষকবন্ধু, কন্যাশ্রী থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। সর্বোপরি, রাজ্যে সরকারের অনিবার্য খরচ হিসেবে ঋণের সুদ-আসল মেটাতে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় । বেতন ও অবসর ভাতা বাবদ দিতে হয় ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিরোধীদের বক্তব্য, এটা শাসক দলের রাজনৈতিক কৌশল। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে না পেরে দানধ্যান করে ক্ষোভ আড়ালের চেষ্টা। শাসক শিবির দেখাচ্ছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। কেন? তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পাঞ্জাবে তাঁর দল আম আদমি পার্টি ক্ষমতা দখল করলে সব মহিলাকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা দেওয়া হবে। মাফিয়াদের শায়েস্তা করে নাকি কেজরি এই টাকার বন্দোবস্ত করবেন!

বাম আমলের ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে তৃণমূল সরকারকে। পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্প চালাতে যদি ঋণ নিতে হয়, তা সুদে-আসলে মেটানোর ভার ভাবী সরকারের উপরই