প্যাড কেনার সামর্থ্য নেই তাই বাল্যবিয়ে! | বিশ্ব | DW | 28.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাল্যবিবাহ

প্যাড কেনার সামর্থ্য নেই তাই বাল্যবিয়ে!

উগান্ডায় অনেক দরিদ্র পরিবারের বাবা-মা'র স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা তাঁদের মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন৷ সাহায্য সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য দিচ্ছে৷

সংস্থাটি বলছে, প্যাড কেনার মতো অর্থ না থাকায় অনেক মেয়েকে প্রয়োজনীয় অর্থের বিনিময়ে ছেলেদের সঙ্গে যৌনকর্মেও বাধ্য করা হচ্ছে৷

চলতি বছর প্রখ্যাত এক ক্যাম্পেইনারকে গ্রেপ্তারের পর উগান্ডায় স্যানিটারি প্যাডের ইস্যুটি আলোচিত হয়ে উঠে৷ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক স্টেলা নিয়ানজি ফেসবুকে এক পোস্টে নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণ না করায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনিকে ‘এক জোড়া নিতম্ব' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন৷ নির্বাচনি প্রচারণার সময় মুসেভেনি স্কুলের সব মেয়েকে স্যানিটারি প্যাড দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন৷ তবে চলতি বছরের শুরুতে মুসেভেনির স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ও শিক্ষামন্ত্রী জ্যানেট মুসেভেনি জানান, সবাইকে প্যাড দেয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল নেই৷

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়ানজি হ্যাশট্যাগপ্যাডসফরগার্লসইউজি #Pads4GirlsUg নামে একটি ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন শুরু করেন৷ এর মাধ্যমে তিনি স্কুলে প্যাড বিতরণের জন্য অর্থ জোগাড় করছেন৷

প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য নিয়ানজিকে প্রায় এক মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে৷ তবে সাইবার হয়রানির জন্য এখনও তাঁর বিচার চলছে৷

তবে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্কুলের মেয়েদের প্যাড দেয়ার জন্য একটি দাতব্য সংস্থা ও একটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে৷

ইউনিসেফ বলছে, স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট না থাকায় উগান্ডার প্রায় ৬০ শতাংশ মেয়ে পিরিয়ডের সময় ক্লাসে যায় না৷ এভাবে অনেকে পিছিয়ে পড়ে এবং এক সময় স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেয়৷ আর স্কুল থেকে ঝরে পড়লে তাদের পরিণতি হয় বাল্যবিয়ে৷

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের শিশুরক্ষা প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক প্যাট্রিক আডুপা বলেন, স্কুল থেকে মেয়েদের ঝরে পড়ার একটি অন্যতম বড় কারণ, মাসিকের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব৷ ৪০ শতাংশের বেশি মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে না৷ ‘‘যখন মেয়েরা পিরিয়ড সামলাতে না পেরে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে, তখন তাদের পক্ষে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে যায়,'' বলেন আডুপা৷

উগান্ডায় বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ হলেও ইউনিসেফ বলছে, প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে চার জনের বয়স ১৮ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়৷ আর দশ জনের এক জনের বয়স ১৫ হওয়ার আগেই তাদের বিয়ে হয়৷

আডুপা বলছেন, স্যানিটারি প্যাডের জন্য একজন মেয়েকে মাসে দুই ডলারের মতো খরচ করতে হয়৷ উগান্ডার মতো দেশে সেটি অনেক অর্থ, কারণ, সেখানে প্রতি পাঁচ জনের এক জন দিন প্রতি এক ডলারেরও কম অর্থে জীবনযাপন করে৷

জেডএইচ/এসিবি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন