পোশাক শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় ইউরোপের চাপ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.09.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পোশাক শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় ইউরোপের চাপ

বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকের দুরবস্থার কথা বাঙালির জানা৷ ইদানিং সেটা জানছে ইউরোপ সহ উন্নত বিশ্বের মানুষ, যারা পরে থাকেন বাংলাদেশী শ্রমিকের তৈরি পোশাক৷ এক্ষেত্রে কাজ করছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা৷

default

আন্দোলনরত এক গার্মেন্টস শ্রমিক

২০১০-এর ফেব্রুয়ারি মাস৷ স্থান, গাজীপুরের সোয়েটার কারখানা ‘গরিব অ্যান্ড গরিব'৷ হঠাৎ আগুন৷ ঝরে গেল ২১টি প্রাণ৷ টিভি, পত্রপত্রিকা সব জায়গায় হৈচৈ৷ তদন্ত কমিটি গঠন৷ কারখানায় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা রাখার জন্য মালিকদের ওপর সরকারের আবারও চাপ৷ তারপর? তারপর একসময় সব স্বাভাবিক৷ কেউ চিন্তা করলনা ঐ ২১টি প্রাণের কথা৷ তাদের পরিবারের কথা৷

কিন্তু বাংলাদেশে কেউ চিন্তা না করলে কী হবে৷ আছে ‘ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন' বা সিসিসি৷ ইউরোপের সংস্থা এটি৷ পোশাক শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কাজ করে তারা৷ আগামী সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে একটি আলোচনা ও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে সিসিসি৷ উদ্দেশ্য - ‘গরিব অ্যান্ড গরিব' কোম্পানির কারখানার আগুনে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা৷

কিন্তু আগুন লাগল বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় আর ক্ষতিপূরণের জন্য বিক্ষোভ জার্মানিতে! ঘটনা হলো, ‘গরিব অ্যান্ড গরিব' যে সোয়েটার তৈরি করে সেটা কেনে জার্মানির বিখ্যাত এইচঅ্যান্ডএম কোম্পানি৷ তাই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাদেরও, এমনটাই দাবি সিসিসি'র৷ কারণ এইচঅ্যান্ডএম-এর কাছে কম দামে সোয়েটার বিক্রির জন্য গরিব এন্ড গরিব শ্রমিকের সুযোগ সুবিধার দিকে নজর দেয়নি৷ তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করেনি৷ তাই পরোক্ষভাবে দায়ী এইচঅ্যান্ডএম'ও৷

Unruhen der Textilarbeiter in Bangladesch

এবার সিসিসি সম্পর্কে কিছু তথ্য৷ প্রতিষ্ঠিত ১৯৮৯ সালে, নেদারল্যান্ডসে৷ বর্তমানে কাজ করছে ইউরোপের ১৪টি দেশে৷ আর সারা বিশ্বে আড়াইশো'রও বেশি ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে রয়েছে তাদের সম্পর্ক৷

এই ক্যাম্পেইনের সঙ্গে জড়িত একজন ইরমগার্ড বুজেমান৷ তিনি বললেন, শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ ও সেটা যেন জীবিকার জন্য পর্যাপ্ত হয় তা নিশ্চিত করা, কাজের পরিবেশ নিরাপদ ও উন্নত করা এবং একটা নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা ঠিক করা৷ এসব বিষয় নিশ্চিত করতে সিসিসি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি ‘কোডস অব কন্ডাক্ট' তৈরি করেছে৷ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে মিল রেখে এটা তৈরি হয়েছে৷ রপ্তানিকারকরা যেন তাদের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই কোডস অব কন্ডাক্ট মেনে চলেন সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করে সিসিসি৷

শুধু রপ্তানিকারকই নয়, আমদানিকারকদেরও সচেতন করতে কাজ করে সিসিসি৷ বুজেমান বলেন, বাংলাদেশের যেসব কারখানা কোডস অব কন্ডাক্ট মানছেনা, তাদেরকে যেন কোন কাজের অর্ডার দেয়া না হয়, সে ব্যাপারে ইউরোপীয় আমদানিকারকদের অনুরোধ করেছেন তারা৷

তিনি বলেন, সিসিসি বাংলাদেশের নারী পোশাক শ্রমিকের অধিকার নিয়ে চিন্তিত৷ কারণ তাঁরা কাজ করতে গিয়ে অনেক ধরণের বৈষম্যের শিকার হন৷ অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরেও তাদের কাজ করতে হয়৷ এবং এজন্য তারা আলাদা কোন টাকা পাননা৷ অনেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাননা, বা পেলেও ছুটিতে থাকাকালীন তারা কোন বেতন পাননা৷ কারণ এধরণের কোন নিয়ম নেই কারখানাগুলোতে৷

এসব বিষয় নিশ্চিত করতে তিনি চাকরিতে যোগ দেয়ার সময় সবাইকে নিয়োগপত্র দেয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান৷ আন্তর্জাতিক শ্রম আইন মেনে এসব নিয়োগপত্র তৈরির উপরও জোর দেন তিনি৷

শুধু কোম্পানিই নয়, ক্রেতাদেরও সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে সিসিসি৷ বিজ্ঞাপন দেয়া, আলোচনা সভার আয়োজন, বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণ এসবের মাধ্যমে ক্রেতাদের সচেতন করার কাজ করে থাকে সিসিসি৷

কিন্তু এসব কাজ করে কি কোন সফলতা পাওয়া গেছে? উত্তরে বুজেমান বললেন, ‘‘হ্যাঁ, অনেক দেশেই শ্রম ও মানবাধিকার আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে মামলা করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ আবার আন্দোলন করতে গিয়ে শ্রমিকরা জেলে গেলে তাদের ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ অনেক কারখানার মালিক সিসিসি'র অনুরোধে সাড়া দিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিয়েছেন৷''

এরপর একটি উদাহরণ দিলেন তিনি৷ বাংলাদেশে ঈদের ঠিক আগে আগে মুক্তি পেয়েছে তিন ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী৷ যারা পোশাক কারখানায় বিক্ষোভে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে একমাস ধরে কারাগারে ছিলেন৷ কিন্তু সিসিসির বিবেচনায় তারা ছিলেন নিরপরাধ৷ তাই তাদের ছাড়াবার ব্যাপারে চেষ্টা শুরু করে সিসিসি৷ অবশেষে সফল হয় তারা৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ