পোল্যান্ডের সংসদে প্রতিবন্ধীদের বাবা-মায়ের বিক্ষোভ | বিশ্ব | DW | 27.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের সংসদে প্রতিবন্ধীদের বাবা-মায়ের বিক্ষোভ

পোল্যান্ডে প্রতিবন্ধী সন্তানদের বাবা-মায়েরা অনেক কম রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পান৷ যেটুকুই পান সন্তানের বয়স ১৮ বছর হয়ে গেলে তা-ও বন্ধ করে দেয় সরকার৷ তাই আরো সহায়তার দাবিতে সংসদের নিন্মকক্ষে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল বাবা-মা৷ 

গেল সপ্তাহজুড়ে পোল্যান্ড সরকারের নিন্মকক্ষের সংসদভবন সেইম-এ প্রতিবন্ধী সন্তানদের বাবা-মায়েরা জড়ো হচ্ছেন৷তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য রাষ্ট্রের আরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি না নিয়ে ঐ ভবন ছাড়বেন না৷

নিন্মকক্ষের মেঝেতেই ঘুমাচ্ছেন তাঁরা এবং সেখানেই তাঁদের সন্তানদের পরিচর্যা করছেন৷ তবে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ফিজিওথেরাপিস্টরা সংসদ ভবনে ঢোকার অনুমতি পাননি৷

ভবনের ভেতরে প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য আন্দোলনরত বাবা-মাদের সমর্থনে প্রতিদিন আরও অনেকে বাইরের রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন৷ তাঁদেরকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি৷    

ক্রিস্টভ মারচিনিয়াক নিম্মকক্ষ সংসদ ভবনে নিয়ে এসেছেন তাঁর হুইল চেয়ারে বসা ৪২ বছর বয়সি সন্তান জ্রেসিককে নিয়ে৷ ডাউনসিন্ড্রোম আর মৃগী রোগে আক্রান্ত জ্রেসিক৷ তিনি খুব সুন্দর করে হাসেন, নিজের দুই হাত উপরে তুলে বিজয়ের চিহ্ন দেখাতে পারেন৷

জ্রেসিকের মধ্যে উৎফুল্ল ভাব থাকলেও, তাঁর বাবার কথায় ছিল বিষণ্ণতা৷ তিনি বলেন, ‘‘জ্রেসিক তার দিনগুলো স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে কাটাতো৷ সামাজিক কাজে অংশ নেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সেটা৷ ২৫ বছর ধরে চলার পর বাড়ির কাছের ঐ কমিউনিটি সেন্টারটি বন্ধ হয়ে গেছে৷ কেউ আমাদের মতো হতভাগ্যদের ব্যাপারে তোয়াক্কা করে না৷''   

তিনি জানান, এখন সন্তানের জন্য একটি হুইল চেয়ার কিনতে হবে নিজের পকেটের টাকায়, কেননা, ডাউন সিনড্রোম এবং মৃগী রোগীরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনও অনুদান পান না৷ পোলিশ সরকারের কাছে জ্রেসিকের এই প্রতিবন্ধিত্ব সাহায্য বা অনুদান পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়৷ 

অনেক বছর ধরেই ক্রিস্টভ মারচিনিয়াক পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ-তে একটি প্রতিষ্ঠান চালান৷ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করছে৷

নিন্মকক্ষের আদালত ভবনের ভেতরের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিতেই ক্রিস্টভ নিরাশ কণ্ঠে বললেন, ‘‘আমরা কিছুই অর্জন করতে পারছি না৷ বারবার আমাদের ফিরে যেতে হয়৷ আবার নতুন করে চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলন শুরু করতে হয়৷ সবসময়ই লড়াই করতে হয় আমাদের৷''

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বাকিরাও তাই মনে করেন৷ আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিক্ষোভের মুখপাত্র ইভোনা হার্টউইচ বলেন, ‘‘এটি নতুন কিছু নয়, আমরা পুরনো আন্দোলনই আবার করছি৷''

চার বছর আগেও নিন্মকক্ষের সংসদ ভবন সেইমে একই আন্দোলন হয়েছিল৷  

 

অসাংবিধানিক নিয়ম

পোল্যান্ডে যেসব নাগরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের দেখাশোনা করতে চান, তাঁদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ৩০০ ইউরো দেওয়া হয়৷ কিন্তু এসব পিতা-মাতারা বাইরে কোনো কাজ না করলেই কেবল এই ভাতা পান৷ তাছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলে সেই  ভাতার টাকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷

২০১৪ সালে পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল একে ‘অন্যায্য' বলে অভিহিত করলেও ক্ষমতায় থাকা দেশটির রক্ষণশীল সরকার এবং তার আগের উদারপন্থি সরকারের কেউই তার তোয়াক্কা করেনি৷

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, যাঁরা তাঁদের সন্তানদের দেখাশোনার জন্য সব কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন এবং আয়ের উৎস হিসেবে একমাত্র সরকারের ভাতার ওপরই নির্ভর করছেন, তাঁরা সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলেই বেকার হয়ে পড়ছেন৷ তবে এটি বিক্ষোভের একমাত্র কারণ নয়৷      

সন্তান দেখাশোনার জন্য মাসে বাড়তি ১৩০ ইউরো করে দেওয়া এবং প্রতিবন্ধীদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় অবসরভাতা ১৭০ থেকে আরও বাড়ানোর দাবিও জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা৷

পোল্যান্ড সরকার কেবল শেষের দাবি কিছুটা মানতে রাজি৷ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় অবসর ভাতা প্রতিমাসে ১৭০ থেকে ২৬০ ইউরো করার কথা ভাবছে তারা৷

সমাধান কী?

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছিল৷ ওই বিলে বলা হয়েছিল, প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই তার পরিবারকে ১ হাজার ইউরো এককালীন সহায়তা করা হবে৷

‘‘প্রতিবন্ধী ও তার পরিবারের বাকি জীবন কীভাবে কাটবে তা নিয়ে ক্ষমতাসীনরা থোড়াই তোয়াক্কা করে'', বললেন সেইম-এর বাইরে বিক্ষোভরত এক মা৷ এসময় তাঁর হাতে ধরা ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ‘‘সবচেয়ে দুর্বলকে কীভাবে দেখা হয়, তা দিয়েই মানবতা বিচার করা হয়৷''      

বিক্ষোভরতদের সাথে অনেক সংসদ সদস্য দেখা করেছেন৷ তবে সমস্যা সমাধানের কোনও আশ্বাস দেননি তাঁরা৷

পোল্যান্ডের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে ডুডা এর আগে প্রতিবন্ধীদের বাবা-মায়ের এ বিক্ষোভে এসে লড়াই জারি রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, বিক্ষোভরত বাবা-মায়ের এ লড়াইয়ে পাশে থাকবেন৷ কিন্তু তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি কেবল নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিওতেই দেখা গেছে৷

প্রধানমন্ত্রী মাতাউশ মোরাভিয়েস্কি বিক্ষোভকারীদের একটি প্রকৃত সমাধানের ‘রোডম্যাপ' দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে বলেছেন, সরকারের অর্থের সংকট রয়েছে৷

মনিকা সিরাজকা/এইচআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন