পোপ ফ্রান্সিসের ‘রোহিঙ্গা′ বলার দরকার ছিল না | বিশ্ব | DW | 02.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

পোপ ফ্রান্সিসের ‘রোহিঙ্গা' বলার দরকার ছিল না

মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে সফরের বেশিরভাগ সময় ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি উচ্চারণ করেননি পোপ৷ কট্টরপন্থিদের কারণে যে দেশে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে এই শব্দ এড়িয়ে যাওয়াই উচিত ছিল বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের রোডিওন এবিংহাওসেন৷

নামে কি বা আসে যায়? রোহিঙ্গার মানে, এটা কেন ব্যবহার করা উচিত - এ নিয়ে বিতর্ক যেন সংকটের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে৷ পোপের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের আগে থেকেই এ নিয়ে চলছে আলোচনা৷ মিয়ানমারের আদিবাসী সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠী, যাঁরা রোহিঙ্গা নামেই বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে পরিচিত, তাঁদের পোপ কী বলে সম্বোধন করবেন এ নিয়ে সফরের আগেই চুল চেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে যায়৷

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের কখনোই নাগরিকত্ব দিতে রাজি হয়নি৷ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন৷ মিয়ানমার বরাবরই ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছে এবং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা না করলে সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগে ভাটা পড়তে পারে৷

মুশকিল হলো, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কয়েকটি পক্ষ গড়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই৷ একদল রোহিঙ্গাদের সমর্থনকারী, যেমন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি৷ এই ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী এবং এদের সমর্থকরা ‘রোহিঙ্গাদের রক্ষার' দায়িত্ব নিয়েছে৷ আগস্টের ২৫ তারিখে এই দলটিই রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ৷ আর এর জবাবেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযানে নামে, যার ফলশ্রুতিতে এই সংকটের সৃষ্টি৷

অন্য পক্ষটি হলো অহিংস৷ যেমন রোহিঙ্গা অধিকার কর্মীরা৷ এই রোহিঙ্গারা গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার৷ মিয়ানমারের রাখাইনে যে গণহত্যা হয়েছে, সে বিষয়ে জনমত গড়ে তুলছেন তাঁরা৷ অনেকেই তাঁদের দেয়া তথ্যকে ভুয়া বলে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও, তাঁরা জনসংযোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন৷

তৃতীয় পক্ষ হলো মানবাধিকার কর্মীরা, যাঁরা মনে করেন তাঁদের নীতি মেনে চললে এই সংকট খুব সহজেই সমাধান করা সম্ভব৷ কিন্তু এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস কি তাঁরা জানেন? তাঁরা কি জানেন এই সমস্যার শেকড় কতটা গভীরে?

Ebbighausen Rodion Kommentarbild App

রোডিওন এবিংহাওসেন, ডয়চে ভেলে

এই তিন পক্ষই কিন্তু রোহিঙ্গাদের সমর্থন করছে৷ তবে প্রত্যেকেরই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পন্থা ভিন্ন৷ এছাড়া এরা সকলেই চাইছিল যাতে পোপ ফ্রান্সিস ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার করেন৷

যথারীতি রোহিঙ্গা বিরোধীরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন৷ এই বিরোধীদের মধ্যে মিয়ানমারের বৌদ্ধ কট্টরপন্থিরাও রয়েছেন, যারা রোহিঙ্গাদের নিজের দেশের অধিবাসী বলে স্বীকার করেন না৷ অথচ এই রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসছেন৷ এই বিরোধীগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে অনেকটাই সমর্থন করে এবং তারা রোহিঙ্গাদের ‘রাখাইনে বসবাসকারী মুসলিম' হিসেবে বরাবরই উল্লেখ করে থাকে এবং তার চেয়েও বেশি ব্যবহার করে ‘বাঙালি' শব্দটি৷

সমস্যা হচ্ছে, যে তৃতীয় পক্ষটির কথা আমি বলেছিলাম, যারা খুব বাস্তববাদী বা কূটনীতিক, এই পক্ষটি রোহিঙ্গাদের প্রতি পশ্চিমাবিশ্বের সহমর্মিতা আদায়ের জন্য রোহিঙ্গাদের যারা ঘৃণা করে, তাদের পুরোপুরি উপেক্ষা করছে৷ ফলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি কমেনি, বরং বেড়েছে৷

সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কোফি আনান এবং মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিও কিন্তু আজ পর্যন্ত ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি উচ্চারণ করেননি৷ তাঁরাও রাখাইনের মুসলিম হিসেবেই রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করেছেন৷ তাঁরা এ জন্যই ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি এড়িয়ে গেছেন, যাতে সব পক্ষের সাথে কথা বলার পথ খোলা থাকে৷

দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশ সফরে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিস অবশেষে ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি উচ্চারণ করেছেন৷ এর ফলে রাখাইনে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কিনা বলা যায় না৷ যাই হোক, এই শরণার্থীদের কী নামে ডাকা হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে মানবতার খাতিরে এই শরণার্থীদের নিরাপদে দেশে ফেরার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া৷


রোডিওন এবিংহাওসেন/এপিবি

আপনি কি তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত? লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন