পোকামাকড় ডেকে এনে চাষের উন্নতি! | অন্বেষণ | DW | 16.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পোকামাকড় ডেকে এনে চাষের উন্নতি!

আজকের বিশ্বে খাদ্যের বেড়ে চলা চাহিদা মেটাতে বিশাল আকারে কৃষিকাজ চলছে৷ সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ করে দ্রুত ফসল তোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা পোকামাকড় আকর্ষণ করে এর এক বিকল্প পদ্ধতি তুলে ধরছেন৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কাছের একটি শহরের খেতে নিয়মিত কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন৷ কীটপতঙ্গ দূর করার বদলে কৃষিকাজকেই তাদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তাঁরা৷ সবার আগে খেতের আলের দিকে চোখ চলে যায়৷ ঝোপঝাড় ও জংলি ফুল দিয়ে সাজানো সেই সীমানা৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর টোমাস ড্যোরিং ও তাঁর টিম এভাবে খেতে আরও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করতে চান৷ সেই ঝোপের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির গুবরে পোকা শীতযাপন করে৷ বসন্তকালে তারা আবার জেগে উঠলে খেত বেশি দূরে থাকে না৷ প্রো. ড্যোরিং বলেন, ‘‘এটা এক ধরনের গুবরে পোকা, সেটি নানা রকম অনিষ্টকারী কীট খেয়ে ফেলে৷ তাদের বিশাল ঝাঁক খেতের উপর উড়ে বেড়িয়ে সেই সব কীট ধ্বংস করে৷

কৃষি পরিবেশবিদরা খেতের ধারে এমন সব উপকারী পোকামাকড়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যারা ক্ষতিকারক কীট খেয়ে ফেলে৷ ফলে কীটনাশকের আর প্রয়োজন পড়বে না বলে তাঁদের আশা৷ প্রো. টোমাস ড্যোরিং বলেন, ‘‘এখানেই লেডিবাগ প্রজাতির শূককীট রয়েছে, যারা অ্যাফিড বা জাবপোকা খায়৷ সার্বিক একটা প্রণালী হিসেবে আমরা উপকারী পোকামাকড়ের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কীটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পারি৷ তবে তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হবে না৷ তা সত্ত্বেও আমরা গোটা কাঠামোকে স্থিতিশীল করে তুলতে পারি৷’’

খেতের ধারে গবেষকরা ফুলের সারি সৃষ্টি করেছেন৷ ফুলগুলি একসঙ্গে ফোটে না, একের পর এক তাদের বিকাশ ঘটে৷ ফলে পোকামাকড়ের খাদ্যের অভাব হয় না৷ প্রো. ড্যোরিং বলেন, ‘‘এখানে যেমন দেখা যাচ্ছে, নানা ধরনের পোকা এই ফুল ব্যবহার করতে পারে৷ খেতের ফাঁক দিয়ে ট্রাকটর চলে৷ ফলে সেখানকার মাটি সাধারণত বেশ শক্ত হয়৷ সে কারণে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর তেমন উপযোগিতা নেই৷ মাটির এমন বৈশিষ্ট্যের ফলে সেখান থেকে আয়ের অঙ্ক কম৷ আয়ের চিন্তা না থাকায় সেই জায়গা পোকামাকড় আকর্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে৷’’

শুধু ধারে নয়, এই খেতের উপরের অংশও জার্মানির বেশিরভাগ খেতের থেকে ভিন্ন৷ গবেষকরা আগাছা ধ্বংস করতে কোনো রকম রাসায়নিক ব্যবহার করেন না৷ ফলে পোকারা খেতের মধ্যেও খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে, যেমন বীজ, পরাগ, ক্যামোমিল ইত্যাদি৷

খেতের ধারে ফুলের মেলা, কোনো কীটনাশক নয়, সারের পরিমাণও কম এবং ফসল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ বেশ সফল হচ্ছে৷ প্রচলিত কৃষিক্ষেত্রের তুলনায় এখানে জীববৈচিত্র্য প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি৷ সেইসঙ্গে পরাগবহনকারী পোকাদের মাত্রা ৫০ শতাংশ বেশি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন