পেশাদার ফুটবলাররা মানসিক বিষাদে ভোগেন | খেলাধুলা | DW | 03.01.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

পেশাদার ফুটবলাররা মানসিক বিষাদে ভোগেন

যুক্তরাজ্যের ফুটবল পত্রিকা ফের ফের টু একটি সমীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টিকে আবার জনমানসে তুলে ধরেছে৷ যে ১০০ খেলোয়াড়ের মতামত চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৭৮ জনই স্বীকার করেছেন, পেশাদারি ফুটবলে মানসিক বিষাদ একটা সমস্যা৷

২০০৯ সালে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন জার্মান জাতীয় একাদশের গোলরক্ষক রবার্ট এনকে৷ পরে প্রকাশ পায়, তাঁর মানসিক বিষাদের সূচনা ২০০৩ সালে, যখন তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলছিলেন৷ এরপর ২০০৬ সালে আসে একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি: এনকের শিশু কন্যাসন্তান একটি মারাত্মক অসুখে মারা যায়৷ এনকে তলিয়ে যান বিষাদের অতলে৷

আশ্চর্যের কথা এই যে, খেলার মাঠে কিন্তু এনকের এই অসুখের কোনো চিহ্ন দেখেনি কেউ৷ বরং তিনি যেন খেলা থেকে খেলায় ক্রমেই আরো দুর্ধর্ষ হচ্ছিলেন৷

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের গ্যারি স্পিড গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ঠিক একই রকম বিমূঢ়তার সৃষ্টি করেন৷ স্পিড ছিলেন এভার্টন, নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং ওয়েল্স-এর প্রাক্তন প্লেয়ার৷ মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা আগেও কিন্তু স্পিড বিবিসি'র ফুটবল ফোকাস অনুষ্ঠানে খোশমেজাজে কথাবার্তা বলেছেন৷

Fußball Wales Trainer Gary Speed

ইংল্যান্ডের গ্যারি স্পিড গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন

মানসিক বিষাদে সাধারণ মানুষেরাও যেমন ভোগে, তেমনই ভোগেন ফুটবলের আপাতদৃষ্টিতে সফল এবং আর্থিক বিচারে অতীব স্বচ্ছল পেশাদাররা৷ কিন্তু ফুটবল খেলা এবং খেলোয়াড়দের যে পুরুষ, এমনকি বীরপুরুষসুলভ ভাবমূর্তি আছে, তার সঙ্গে মানসিক বিষাদের ছবিটা বিশেষ মেলে না, বিশেষ করে যদি ফুটবল ফ্যানদের কথা ভাবা যায়৷

অথচ একজন পেশাদারি ফুটবল খেলোয়াড়কে অতি কম বয়সে এক ধরণের বিরাট দায়িত্ব এবং প্রত্যাশার চাপ সহ্য করতে হয়; তাঁর সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ি জীবনে ভবিষ্যতের সংস্থান করে নেওয়ার চাপ যুক্ত হয় সেই সঙ্গে৷ এছাড়া থাকে প্রতি সপ্তাহান্তে মাঠে প্রতিপক্ষ এবং ফ্যানদের সঙ্গে মোলাকাত, সুউচ্চ সাফল্যের আশা এবং সুগভীর ব্যর্থতার আশঙ্কা৷ এ সব মিলিয়ে – যত সঙ্গোপনেই হোক না কেন – মানসিক বিষাদের মেঘ ঘনিয়ে আসাটা কিছু আশ্চর্যের নয়৷

এতদিনে লিভারপুলের প্রাক্তন স্ট্রাইকার স্ট্যান কলিমোর-এর মতো ফুটবলাররা ডিপ্রেশন বা মানসিক বিষাদ প্রসঙ্গে মুখ খুলতে শুরু করেছেন৷ মাঠে একজন ভীত, সন্ত্রস্ত তরুণ ফুটবলারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফুটবলের টেস্টেস্টেরন-পরিপূর্ণ জগৎটাকে দেখাতে শুরু করেছেন৷ পারফর্ম না করতে পারার শঙ্কা, মারমুখী ফ্যানদের আতঙ্ক৷ এমন একটা জগৎ, যেখানে কোচই একমাত্র ভরসা৷

কাজেই সৈন্যদের ক্ষেত্রে ‘পোস্ট ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজর্ডার'-কে স্বীকৃতি দিতে যেমন বহুদিন সময় লেগেছে, ফুটবলের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশনেরও স্বীকৃতি পেতে সম্ভবত ঠিক ততটাই সময় লাগবে৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, গার্ডিয়ান, সিএনএন)

নির্বাচিত প্রতিবেদন