পেরুর মরুভূমিতে চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য | অন্বেষণ | DW | 27.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পেরুর মরুভূমিতে চাষাবাদে অভাবনীয় সাফল্য

মরুভূমির শুকনা পরিবেশে কমলালেবু ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন পেরুর এক চাষি৷ মুরগির বিষ্ঠা ও পোড়া ভুট্টার মতো উপাদান দিয়ে সার তৈরি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন৷ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৃত্তাকার অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করছেন তিনি৷

পেরুর ইকা অঞ্চলের মরুর বুকে জলাধার ঘিরে হুয়াকাচিনা নামের একটি গ্রাম

পেরুর ইকা অঞ্চলের মরুর বুকে জলাধার ঘিরে হুয়াকাচিনা নামের একটি গ্রাম

পেরুর চিনচা আলতা এলাকা অত্যন্ত শুকনা ও রুক্ষ৷ বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে৷ চাষবাসের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়৷ তা সত্ত্বেও সেখানে সবুজ প্লান্টেশন গড়ে উঠেছে৷ প্রায় ৩০ বর্গ কিলোমিটার জুডে কমলালেবুর গাছ শোভা পাচ্ছে৷ এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মুরগি ও মুরগির মালিকের উদ্ভাবনী শক্তি৷ সেই মুরগির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ ডিমের কারণে নয় বরং মালিক হিসেবে বাস্কো মাসিয়াসের সাহায্যে এই প্রাণীগুলি আশ্চর্যজনকভাবে মরুভূমির রূপান্তর ঘটাচ্ছে৷ গ্রুপো আলিমেন্তা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে মরুভূমিতে চাষবাস করছি৷ লোকে প্রথমে আমাদের পাগল  ভেবেছিল, কারণ সাধারণত মানুষ উর্বর জমিতেই চাষাবাদ করে৷ অথচ আজ আমরা মরুভূমিতেই রেকর্ড পরিমাণ কমলালেবু ফলাচ্ছি৷’’

ভিডিও দেখুন 02:56

অভিনব উপায়ে মরুভূমিতে চাষাবাদ

মরুভূমির মাটি উর্বর করে তুলতে তার মুরগির প্রয়োজন হয়৷ প্রায় ৬০ লাখ মুরগি সেই কাজ করছে৷ প্রথমদিকে বাস্কো মাসিয়াস শুধু মুরগির ডিম বিক্রি করতে চেয়েছিলেন৷

কিন্তু বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে তিনি বড়ই সমস্যায় পড়েছিলেন৷ এখন তিনি সেই বিষ্ঠাকে সারে রূপান্তরিত করে কাজে লাগাচ্ছেন৷ মুরগির খোরাকের অবশিষ্ট অংশও সেই সারে ব্যবহার করা হয়৷ ভুট্টা খেলেও মুরগিরা খোরাকের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে৷ বাস্কো মাসিয়াস বলেন, ‘‘এটাই ভুট্টার অবশিষ্ট অংশ৷ আগে আমরা এগুলি পুড়িয়ে ফেলতাম বা ফেলে দিতাম৷ এখন আমরা সেটা ঝলসে উদ্ভিদভিত্তিক সারের উপাদান করতে শিখেছি৷ সারের মৌলিক উপাদান হিসেবেও সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে৷’’

ভাস্কো মাসিয়াস বহু শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভুট্টার মোচা ঝলসে নেন৷ ফলে অনেক পুষ্টি অক্ষত থাকে৷ গাছ পরে ধীরে ধীরে সেই পুষ্টি শুষে নিতে পারে৷

পোড়া ভুট্টা, মুরগির বিষ্ঠা ও কয়েকটি অন্য উপাদান দিয়ে সার তৈরি হয়৷ মাসিয়াস তার কিছু অংশ বিক্রি করেন, বাকিটা কমলালেবু গাছের গোড়ায় দিয়ে দেন৷ গোটা প্রক্রিয়াকে বৃত্তাকার অর্থনীতি বলা হয়৷ বাস্কো বলেন, ‘‘বৃত্তাকার অর্থনীতির মাধ্যমে আমরা সবকিছুর মধ্যে দক্ষতা আনতে পারি৷ ঘটনা হলো, এর কোনোটাই নতুন নয়, প্রকৃতি এভাবেই কাজ করে৷’’

বিষয়টি খুবই সহজ৷ যতকাল সম্ভব কাঁচামাল বার বার কাজে লাগানো হয়৷ প্রচলিত অর্থনীতির মতো জঞ্জাল সৃষ্টি হয় না৷

রুট ক্রাউসে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক