পেঁয়াজ এবং রোহিঙ্গা থেকে ভ্যাকসিনের শিক্ষা | বিশ্ব | DW | 20.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

পেঁয়াজ এবং রোহিঙ্গা থেকে ভ্যাকসিনের শিক্ষা

ডাব্লিউএইচও বলছে, এ বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে৷ ভ্যাকসিন এলেই শুরু হবে প্রতিযোগিতা৷ সেই প্রতিযোগিতার জন্য কতটা তৈরি বাংলাদেশ?

ভ্যাকসিন যাতে ‘জোর’ যাদের বেশি, তারাই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি না পায় তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)৷ কিন্তু ডাব্লিউএইচও, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি, সার্ক ইত্যাদি এবং নানা মানবাধিকার সংস্থার বিবৃতির প্রত্যাশা এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতায় বিস্তর ফারাক তো অনেক সময়ই থাকে৷ থাকে বলেই যুদ্ধ থাকে, কোটি কোটি অনাহারী থাকে, রোগে-মহামারিতে-অতিমারিতে মৃত্যু থাকে৷

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুটিকয় বাদে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেরই নাজেহাল অবস্থা৷ সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬৯৯ জনের করোনায় মৃত্যুকে হয়ত ‘খুব বেশি’ মনে করা হচ্ছে না আর তাই বাংলাদেশের অবস্থাকে হয়ত খুব খারাপ ভাবছে না সরকার৷ সে কারণেই হয়ত জার্মানি, স্পেন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশ যখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায়, যখন স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ আবার আসছে বিভিন্ন দেশের সরকারের তরফ থেকে, তখন বাংলাদেশ যেন নির্বিকার৷সরকারে, সরকারের বাইরে, গণমাধ্যমে, সামাজিক মাধ্যমে কোথাও নেই করোনা নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ৷

এমনকি করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যাপারেও তেমন হেলদোল নেই কোনো পর্যায়ে৷

ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে- এ কথা বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে৷ সেই ভরসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আগ্রহী চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডকে আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷

‘কোভ্যাক্স’ সুবিধার অধীনে ডব্লিউএইচও এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি)-র কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ২০ শতাংশ পেতে পারে বাংলাদেশ৷ বিশ্বের সব দেশের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণে ডাব্লিউএইচও ও গ্যাভির এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাকসিন পাওয়া খুব সহজ হবে না, কারণ, ব্যাপক চাহিদার কারণে এখানে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে৷

Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

এছাড়া খ্যাতিসম্পন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ভ্যাকসিন পাওয়ায় অগ্রাধিকারে থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে৷ কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সেরকম কোনো প্রচেষ্টা কি শুরু হয়েছে এখনো?

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে করোনা সংকট মোকাবিলার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রেখেছে সরকার৷ এছাড়া টিকা কিনতে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার, অর্থাৎ চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে৷ সুতরাং তহবিল প্রস্তুত রাখার বিষয়টিকে সরকার যে কিছুটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা মোটামুটি পরিষ্কার৷

তবে ভারত, রাশিয়া, চীন বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে আর ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেই ভ্যাকসিন চলে আসবে - এমনটি ধরে নিলে খুব ভুল হবে৷

ভুল হবে অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে৷

খুব দূরের অতীতের কথা বলছি না৷ পেঁয়াজ সংকট আর চলমান রোহিঙ্গা সংকটের কথাই ধরা যাক৷ অভ্যন্তরীণ সমস্যা প্রকট হওয়ার আগেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ ভারত বারবার বাংলাদেশকে কতটা সংকটে ফেলেছে তা আশা করি সরকার ভুলে যায়নি৷

তাছাড়া মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর ‘ঐতিহাসিক বন্ধু’ ভারত এবং চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, তুরস্কসহ অন্য সব দেশ প্রত্যাবাসন প্রশ্নে কতটা সরব, সক্রিয় তা-ও আশা করি মনে রেখেছে সরকার৷ এসব ভুলে গেলে করোনা ভ্যাকসিন সময়মতো পাওয়ার আশার গুড়ে বালি৷

২৯ আগস্টের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন