পেঁয়াজ আমদানির হিসেবে ফাঁকি? | বিশ্ব | DW | 03.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পেঁয়াজ আমদানির হিসেবে ফাঁকি?

যেসব হিসাব পাওয়া যাচ্ছে তাতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই৷ উৎপাদন এবং আমদানির হিসাব অনুযায়ী পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত হওয়ার কথা৷ কিন্তু তারপরও পেঁয়াজের দাম ১৬০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যেই ওঠানামা করছে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভারতগত ২৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়৷ এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি৷ ভারত রপ্তানি বন্ধ করার আগের দিনও পেঁয়াজের কেজি ছিল ৮০ টাকা৷

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করেছিল৷ তাদের দায়িত্ব ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বাজার মনিটর করে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা৷ এছাড়া মিয়ানমার, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমানির উদ্যোগও নেয় সরকার৷

বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন বলে ধরা হয়৷ প্রতি মাসে গড় চাহিদা দুই লাখ টন৷ দৈনিক চাহিদা সাত হাজার টনের কিছু কম৷ আর টিসিবির ৫০টি ট্রাকে প্রতিদিন এক টন করে ৫০ টন পেঁয়াজ খোলাবাজারে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে৷ সাত হাজার টনের বিপরীতে এই ৫০ টন পেঁয়াজ কোনোভাবই বাজার প্রভাবিত করতে পারে না৷ নিম্নবিত্ত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পোঁয়াজ কিনতে পারেন, এই যা৷ এটা শহুরে নিম্নবিত্তদের জন্য, সারাদেশে বা গ্রামের মানুষের জন্য নয়৷

অডিও শুনুন 00:38

আসলে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে তা এখন বলা সম্ভব নয়: মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী গেল বছর (২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর) দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৬ লাখ ১৯ হাজার টন৷  কিন্তু এই উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৩০ ভাগ নষ্ট হয়৷ ফলে বছরে ২৪ লাখ টন পেয়াজের চাহিদার বিপরীতে ৮ থেকে ৯ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে৷ তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ২২ লাখ টন৷ নতুন অর্থ বছরে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে ৪ লাখ ৭২ হাজার টন৷

অক্টোবরে সংকটের পর পেঁয়াজ আমদানির যে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে প্রায় এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির কথা জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷ কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই হিসেব নিশ্চিত করতে পারেনি৷ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসি বলেন, ‘‘আসলে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে তা এখন বলা সম্ভব নয়৷ কারণ, এলসির বাইরেও বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে পেঁয়াজ আনা হয়েছে৷’’

কিন্তু ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ পেঁয়াজ আমদানির কথা বললেও তারা পেঁয়াজ আনেনি৷ সংবাদমাধ্যমে ওই পেঁয়াজের হিসাবই ছাঁপা হচ্ছে৷ ৪০  হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকতে পারে৷ এলসি খুললেইতো আমদানি হয়ে যায় না!’’ ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘‘এত পেঁয়াজ আমদানির কথা বলা হচ্ছে সেই পেঁয়াজ কোথায়? আমাদের কাছে তো সরবরাহের ঘটতি আছে৷ আর দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরো ২০ দিন সময় লাগবে৷’’

অডিও শুনুন 03:48

আমদানি বাড়ালে দেশীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি না: ড. মোয়াজ্জেম

চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম একই কথা বলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা পেঁয়াজের বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে দেখেছি অনেক বড় আমদানিকারকই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পেঁয়াজ আমদানি করেনি৷'' বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমরা চট্টগ্রামে কাজ করলেও সারাদেশে সিরিয়াসলি কাজ হয়নি৷ আর কারা বাজার অস্থিতিশীল করেছে তাদের ব্যাপারে আমরা তথ্য দিয়ে ব্যাবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি৷ এখন বাকিটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়৷’’

সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক, অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ লাগে৷ এখন যদি সংকট শুরুর পর থেকে এক লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়, তাহলে মাত্র ১৬ দিনের পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে৷ এই সময়ে আমাদের দেশি পেঁয়াজ থাকে না৷ পুরো চাহিদাই আমদানি করা পেঁয়াজ থেকে মিটাতে হয়৷ সুতরাং পেঁয়াজের ঘাটতি আছে৷ আর টিসিবি'র মাধ্যমে যে পেঁয়াজ দেয়া হয়, তা দিনের মোট চাহিদার খুবই সামান্য অংশ৷’’

তিনি জানান, ‘‘দেশীয় পেঁয়াজ আসতে আরো ২০ দিন সময় লাগবে৷ আর দেশীয় পেঁয়াজ এক সময়ে সব আসে না৷ ধাপে ধাপে আসে৷ তাই এখন আমদানি বাড়াতে হবে৷ আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করতে পারে৷ তারা আমদানির কথা বলেছে৷ এটা শুরু করা উচিত৷’’

তিনি বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ যে সুযোগ নিচ্ছে না, তা নয়৷ তারা কম দামে আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করছে৷ কিন্তু তাদের দোষ দিয়ে পেঁয়াজের দাম কমানো যাবে না৷ সরবরাহ না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না৷ আর আমদানি বাড়ালে দেশীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি না৷ কারণ, দেশি পেঁয়াজ একই সময়ে বাজারে আসে না৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন