পৃথিবীর মতো সাতটি নতুন গ্রহ আবিষ্কার | বিশ্ব | DW | 23.02.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান

পৃথিবীর মতো সাতটি নতুন গ্রহ আবিষ্কার

পৃথিবীর আয়তনের সাতটি গ্রহ যে ‘সূর্য’-কে প্রদক্ষিণ করছে, তার আয়তন কিন্তু  সূর্যের দশ ভাগের এক ভাগ৷ এই গ্রহগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সেখানে পানি থাকতে পারে৷

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর আগেও আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন - কিন্তু এক কোপে সাতটি! তাও আবার একটি তারার চারপাশে! চমকটা উপলব্ধি করা যায়৷

আবিষ্কার করেছেন বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশায়েল জিলঁ ও তাঁর সতীর্থরা৷ তাঁদের সমীক্ষা গত বুধবার ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে৷ সদ্য আবিষ্কৃত সব ক’টি গ্রহেই ‘‘উপরিভাগে তরল পানি, এমনকি জীবনের রেশ থাকতে পারে,’’ প্রবন্ধতে লিখেছেন জিলঁ৷

নতুন আবিষ্কৃত গ্রহগুলি যে বামন তারাটির চারপাশে ঘুরছে, তার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ‘ট্র্যাপিস্ট-১’, আয়তনে বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে বেশি নয়৷ পৃথিবী থেকে ৩৯ আলোকবর্ষ দূরত্বে রয়েছে এই বামন তারকা৷

গ্রহ সাতটিকে আপাতত শুধু ১বি, ১সি ইত্যাদি করে ১এইচ অবধি ডাকা হচ্ছে৷ তারা সকলেই ‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর বেশ কাছে, সূর্য থেকে পৃথিবীর যা দূরত্ব, তার চেয়ে অনেক বেশি কাছে৷

এটা সম্ভব, কেননা, ‘ট্র্যাপিস্ট-১’ সূর্যের চেয়ে অনেক ছোট ও অনেক বেশি ঠান্ডা, যার ফলে তথাকথিত নাতিশীতোষ্ণ, বসবাসের উপযোগী এলাকাটি তারকার অনেক কাছে এসে পড়েছে - যেখানে পানি উবে যাবে না অথবা জমে যাবে না, অর্থাৎ তরলই থাকবে - অর্থাৎ শূন্য থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে থাকে এই ‘হ্যাবিটেবল জোন’৷

তারার আলো

‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর আলোও খুব উজ্জ্বল নয়৷ সমীক্ষাটির যৌথ রচয়িতা আমরি ত্রিয় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী৷ তিনি বলেছেন যে, ‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর আলো সূর্যালোকের ২০০ ভাগের এক ভাগের মতো হবে, অর্থাৎ সূর্যাস্তের শেষে যেরকম আলো হয়৷ কিন্তু ‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর আলো অন্তত আমাদের চাঁদের আলোর চেয়ে বেশি জোরালো, কাজেই এই গ্রহগুলি খুব বেশি ঠাণ্ডা হবে না - বলেছেন ত্রিয়৷

‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর আলোকরশ্মির অধিকাংশই অবলোহিত বর্ণালীতে, যা আমরা দেখতে পাই না৷ আকাশটা নাকি হালকা সুড়কি রঙের হতে পারে, বলে ত্রিয়-র ধারণা৷

সেখানে কি জীবন আছে?

‘ট্র্যাপিস্ট-১’-এর গ্রহগুলিতে যদি সমুদ্র থাকে আর সেখানে জীবনের সূচনা ঘটে (থাকে), তাহলে কোনো বিপদ নেই৷ কিন্তু সাগর ছাড়া অন্য কোথাও জীবনের সূচনা ঘটলে তার ‘বাঁচা-মরা’ নির্ভর করবে ‘ট্র্যাপিস্ট-১’ থেকে গ্রহটির দিকে কি পরিমাণ রশ্মি বিকিরণ ঘটছে, তার উপর৷

Infografik Trappist-1 englisch

এর পরের কাজ হবে, এই গ্রহগুলির বায়ুমণ্ডল বা আবহমণ্ডল পরীক্ষা করে দেখা৷ গবেষকরা এ কাজের জন্য জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করবেন - টেলিস্কোপটিকে ২০১৮ সালে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং তা সদ্য আবিষ্কৃত গ্রহগুলিতে মিথেন, অক্সিজেন ও ওজোন, এই তিনটি গ্যাস আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখবে৷ ঐ তিনটি গ্যাস একসঙ্গে থাকার অর্থ: সেখানে জীবনের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি৷

গ্রহ অনেক, কিন্তু বাসযোগ্য গ্রহ?

আমাদের সৌরজগতের বাইরে প্রথম গ্রহটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৯২ সালে৷ দূরের গ্রহগুলি যখন তাদের তারকার সামনে দিয়ে যায়, তখনই সেই গ্রহগুলি ধরা পড়ে৷ এভাবে বিগত দশ বছরে সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে৷ এমনকি এখন ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, অধিকাংশ তারারই গ্রহ আছে ও সেইসব তারকামণ্ডলের ‘হ্যাবিটেবল জোনে’ প্রায়শই পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকে৷ গোটা ব্রহ্মাণ্ডে নাকি ১০০ কোটির মতো পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ আছে, যেখানে তরল পানি থাকা সম্ভব...

নাকি পৃথিবী থাকা সম্ভব?

ব্রিগিটে অস্টেরাথ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন