পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মেক্সিকোয় মলের সার দিয়ে চাষ | অন্বেষণ | DW | 24.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মেক্সিকোয় মলের সার দিয়ে চাষ

মেক্সিকোর আদিবাসীরা প্রকৃতির মধ্যে দেয়া-নেয়ার এক চক্রে বিশ্বাস করতেন৷ অভিনব উপায়ে তারা মলমূত্রও কাজে লাগাতেন৷ আধুনিক যুগেও কিছু মানুষ সেই ঐতিহ্য কাজে লাগিয়ে অরগ্যানিক পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করছেন৷

মেক্সিকোর স্থপতি সেসার আনিয়োর্ভে ড্রাই টয়লেটের মাধ্যমে একদিকে পানির দূষণ মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ সেই স্যানিটারি সিস্টেমের ক্ষেত্রে নিজস্ব মলের দিকে নজর দিতে হয়৷ শুধু ফ্লাশ করে বেরিয়ে যাবার জো নেই৷ আনিয়োর্ভে বলেন, ‘‘স্থপতি হিসেবে আমি দেখেছি, যে এই পেশায় পানিকে মলমূত্রের বাহক হিসেবে গণ্য করা হয়৷ সেটা আমার ভয়ানক মনে হয়েছিল৷ সমাজে পানি সম্পর্কে এমন ধারণা বদলানোই আমার কাজের লক্ষ্য৷ আমি আসলে আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান আবার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি৷ তাঁরা কিন্তু মলকে মোটেই নোংরা হিসেবে দেখতেন না, বরং জমিতে ফেরত দেবার উপকরণ হিসেবে গণ্য করতেন৷’’

মানুষের মল ও অন্যান্য অরগ্যানিক বর্জ্য জমা করে তাঁরা কৃষিকাজের জন্য চিনাম্পা নামের এক ধরনের কৃত্রিম দ্বীপ সৃষ্টি করতেন৷ মেক্সিকো সিটির মতো বিশাল শহরের উপকণ্ঠে এমনই এক চিনাম্পায় লুসিও উসোবিয়াগা সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ কীভাবে আরও প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি করতে পারে, চিনাম্পা তার অন্যতম বিরল দৃষ্টান্ত৷ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাঁচার সুন্দর উদাহরণ এটা৷’’

তিনি এখানে ‘আর্কা তিয়েরা’ নামের এক রিজেনারেটিভ কৃষি প্রকল্প চালাচ্ছেন৷ সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যের মাধ্যমে অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে৷ মেক্সিকো সিটির অনেক রেস্তোরাঁয় সেই কৃষিপণ্য বিক্রি করা হয়৷

শুকনো কম্পোস্টিং টয়লেট ছাড়া এখানে চলে না৷ চিনাম্পাগুলি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত৷ তাছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ও কলের পানিও নেই৷ লুসিও-র কাছে সেখানে জমা মল মোটেই বর্জ্য নয়, বরং এক সম্পদ৷ তিনি বলেন, ‘‘জমি থেকে আমরা যে খাদ্য পাই, আমাদের তা ফিরিয়ে দিতে হবে৷ তা না হলে ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং কীটপতঙ্গ ও ঘাটতি দেখা দেবে৷ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পুষ্টির জন্য সব অবশিষ্ট অংশ তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে৷’’

প্রাথমিক পর্যায়ে তারা শুধু ফলের গাছের গোড়ায় মল দিয়ে তৈরি কম্পোস্ট সার দিতে চান৷ রোগের জীবাণু, হরমোন ও ওষুধের অবশিষ্ট অংশ নিরাপদে পুরোপুরি দূর করতে পারলে শাকসবজির খেতেও সেই সার দেওয়া হবে৷

ওলিন চিয়ালির অরগ্যানিক খামারেও এমন উদ্যোগ চলছে৷ টোমাস ভিলানুয়েভার গ্রাহকরা অবশ্যই সারের বিষয়ে জেনেশুনেই কৃষিপণ্য কেনেন, এমনকি এমন পদ্ধতির কদরও করেন৷ টোমাস বলেন, ‘‘সমাজে মলের ভাবমূর্তি বড়ই খারাপ৷ কিন্তু আমরা জানি যে মল কম্পোস্টিং-এর মাধ্যমে স্যানিটেশন সম্ভব৷ আমাদের এখানে একটা প্রবাদ রয়েছে – মল দিলে ফসল কখনো নষ্ট হয় না৷’’

এ হলো দেয়া-নেয়া এবং খাওয়া ও মলত্যাগের এক চক্র৷ অন্য জায়গায় যা ঘেন্না ও ভয়ের কারণ, এখানে তা একেবারেই স্বাভাবিক৷

গোরেস্কি/সালদানিয়া/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়