পুলিশ দিয়ে, মামলা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলে না | আলাপ | DW | 21.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

পুলিশ দিয়ে, মামলা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলে না

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী মনে করেন, ‘‘কিছুটা ছাড় দিয়ে ছাত্রদের যৌক্তিক কিছু দাবি দাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিতে পারত৷''

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী মনে করেন, ‘‘পুলিশ দিয়ে, ল-এনফোর্সমেন্ট দিয়ে, মামলা দিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় না৷ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটু দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করলে বোধ হয় এই সমস্যা হতো না৷ কিছুটা ছাড় দিয়ে ছাত্রদের যৌক্তিক কিছু দাবি দাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিতে পারত৷ সেটা হলেও এতদূর গড়াতো না৷''

তার পুরো সাক্ষাৎকার এখানে৷

ডয়চে ভেলে: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থির কারণ কী?

অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী: এখানে ছাত্রদেরও অসহিষ্ণুতা আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও অসহিষ্ণুতা আছে৷ যদি অসন্তোষ দেখা দেয়, বিশেষ করে লোকাল ইস্যু নিয়ে৷ হল ইস্যু, অ্যাডমনিস্ট্রেশন, পরীক্ষা ও ক্লাস সংক্রান্ত- এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটু দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করলে বোধ হয় এই সমস্যা হতো না৷ কিছুটা ছাড় দিয়ে তাদের যৌক্তিক কিছু দাবি দাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নিলে এতদূর গড়াতো না
ছাত্রদেরও কিছু অসহিষ্ণুতা আছে৷ তাদের দাবি দাওয়ার পিছনে যদি যুক্তি থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চয়ই মেনে নেবে৷ সেটার জন্য আমি জানি না কেন তারা বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতির সৃষ্টি করলো৷ ছাত্ররা সবাই রাস্তায় নামলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে তেমন কোনো ক্ষমতা থাকে না৷ সেই অবস্থায় হয়তো তারা পুলিশের সাহায্য চেয়েছে৷ এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি পুলিশকে ইনভাইট করে তাহলে তারা তো একশন নিতেই পারে৷ তবে এটা আরো পরে করা যেত৷ পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন যে দমন করা যাবে না তা নয়, তবে এটা কাঙ্খিত নয়৷ এটা শিক্ষকেরাই বসে মিটমাট করবেন৷

আপনি নিজেও তো উপাচার্য ছিলেন৷ কখনো এই ধরনের সমস্যা পুলিশ ডেকে সমাধান করেছেন?

না আমি এটা করিনি৷ আমি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দকে ডেকেছি৷ প্রভোস্ট, হাউসটিউটর, শিক্ষক সমিতি, সিনেট মেম্বারদের ডেকেছি৷ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করেছি৷ কখনো কখনো সিনেট, সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে ছাত্রদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেওয়া ভালো৷ তারা অনেক সময় অনেক ভলো কথা বলে৷ যৌক্তিক কথা বলে৷ সেগুলো শোনা উচিত৷

ছাত্রদের বিরুদ্ধে এখন আবার মামলাও দেয়া হয়েছে-

এটা আবার নতুন সমস্যা তৈরি করেছে৷ এটা ওরা (পুলিশ) আবার ভালো বোঝে৷ এটা রাজনীতি, উন্নয়ন , শিক্ষা সর্বোপরি দেশের জন্য ক্ষতি৷ এটা না বাড়িয়ে কমানোর চেষ্টা করা উচিত৷

অডিও শুনুন 15:23

ভাইস চ্যান্সেলরের পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়: অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী

আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকট অতীতে ছাত্র অসন্তোষ হয়েছে৷ কয়েকজন ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ কোথাও কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?

কিছু তো সমস্যা আছেই৷ আগের চেয়ে পরিস্থিতি আলাদা৷ আমরা মনে হয় এখনো বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষের( শাহজালাল) সুযোগ আছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি দুঃখ প্রকাশ করে, হল অথরিটি দুঃখ প্রকাশ করে৷ ছাত্ররাও যদি দুঃখ প্রকাশ করে৷ দুই তরফ থেকে কিছুটা নমনীয় হলে এই সমস্যার সমাধান হয়৷

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের বিয়ে হয় না৷ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এই বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আমি যতদূর জানতাম শাহজালালের ভিসি একজন গুড একাডেমিশিয়ান, রিসার্চার৷ শিক্ষক সমিতিসহ নানা বডির নেতৃত্বে ছিলেন৷ আমার তো মনে হয় এইসব বিষয় তার জানা উচিত, বোঝা উচিত৷ তবে ভাইস চ্যান্সেলরের পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়৷ নতুন আরেকজন ভিসি আসলে তারও পদত্যাগের দাবি উঠতে পারে৷

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তো হল বন্ধ করে দিয়েছে৷ কিন্তু ছাত্ররা তো এখন ক্যাম্পাস না ছেড়ে আমরণ অনশন শুরু করেছে-বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

আমার সময় তো এমন হয়নি৷ আমি একবার হল খালি করে বহিরাগতদের বের করে দিয়েছি৷ পরে পরিচয় পত্র দেখে ছাত্রদের হলে উঠতে দিয়েছি৷ তখন তো তারা সমস্যা করেনি৷ এখন মনে হয় প্রেক্ষাপট আলাদা৷

যৌক্তিক না হলে ছাত্ররা হয়তো সেটা মেনে নেয় না৷ তারা হয়তো মনে করছে তাদের আন্দোলন দমন করতে হল খালি করতে বলা হয়েছে৷

সেটা ঠিকই৷ ছাত্রদের তো প্রশাসনের ওপর আস্থা থাকতে হবে৷ তা না হলে তো বিশ্ববিদ্যালয় চালানো অসম্ভব৷ পুলিশ দিয়ে, ল এনফোর্সমেন্ট দিয়ে, মামলা দিয়ে তো বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় না৷ এটা তো শিক্ষার জায়গা৷ এটা তো সৃষ্টির জায়গা, মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার জায়গা৷ ট্র্যাডিশনাল কায়দায় তো হবে না৷ ছাত্রদের সাথে বসে সমস্যার সমাধান করতে হবে৷ আমার মনে হয় পুলিশ অ্যাকশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের স্যরি বলতে পারে৷ এটা তাদের বলতে পারা উচিত৷

শামসুন্নাহার হলে পুলিশি হামলার সময় শিক্ষকেরা ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ ওয়ান ইলেভেনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ সেই ভূমিকা কি উল্টে গেল?

শিক্ষকদের মাঝে, আমি বলতে চাই না, আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে৷ সমাজে যদি মূল্যবোধের অবক্ষয় হয় বিশ্ববিদ্যালয়েও তা প্রসারিত হয়৷

ইউজিসির কোনো রোল প্লে করার সুযোগ আছে কী না?

অবশ্যই সুযোগ আছে৷ তারা একটি কমিটি করে এটা দেখতে পারে৷ সেখানে ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও থাকলেন৷

এর আগে তো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ইউজিসি তদন্ত করল, প্রতিবেদন দিলো৷ কোনো ফল তো হলো না৷

৫০ বছর আগে যে অবস্থান ছিলো ইউজিসির তাতে তো এই ধরনের সমস্যা ফেসই করে নাই৷ ইউজিসিকে সময়োপযোগী করার আমি একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম৷  আমি উচ্চশিক্ষা কমিশন করার কাজ এগিয়েছিলাম৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি৷ কেন হয়নি আমি বলতে পারব না৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়