পুলিশে অপরাধ কমাতে পারে জবাবদিহিতা ও কঠোর শাস্তি? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পুলিশে অপরাধ কমাতে পারে জবাবদিহিতা ও কঠোর শাস্তি?

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমছে না৷ তারা হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন৷ পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ মনে করেন, ‘‘এটা কমাতে হলে সুপারভাইজিং অফিসারদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে৷’’

তবে অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মনে করেন, ‘‘পুলিশে জবাবদিহিতার অভাবেই এই পরিস্থিতি৷’’

ফেনীতে এক স্বর্ণব্যবসায়ীকে আটক করে ২০টি সোনার বার লুটে নেয়ার ঘটনায় পুলিশের অপরাধ আবারো আলোচনায়৷ ফেনী ডিবির ওসি মো. সাইফুল ইসলামসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই ঘটনায় আটক করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তবে ২০টি সোনার বারের মধ্যে ১৫টি ওসির কাছ থেকে উদ্ধার করা হলেও পাঁচটি বার এখনো উদ্ধার করা যায়নি৷ লুটকরা সোনার দাম প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা৷

ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস চট্টগ্রাম থেকে ওই সোনার বার নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে ৮ আগস্ট বিকেলে ডিবির ওই সদস্য তাকে আটক করে ও তিন ঘণ্টা নির্যাতনের পর সোনার বারগুলো লুটে নেয়৷ কাউকে জানালে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়৷ তিনি সোনার বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করেছেন গোপাল কান্তি দাস৷

অডিও শুনুন 04:10

আমার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে তারা: গোপাল কান্তি দাস

বৃহস্পতিবার বিকেলে তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় বলেন, ‘‘আমি এখনো শঙ্কার মধ্যে আছি- এইটুকু বলতে পারি৷ কারণ, বোঝেন তো পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ ক্রসফায়ারে দেয়া ছাড়াও আমাকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়৷ আমার কাছে এক কোটি টাকাও দাবি করেছিল তারা৷’’

এই ঘটনার মধ্যেই বুধবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআিই)-র এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন পুলিশেরই এক নারী ইন্সপেক্টর৷

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ আরো অনেক আছে৷ গত বছরের ২৯ জানুয়ারি ঢাকার সদরঘাটে সোহেল নামের এক ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ে সাত পুলিশ সদস্য জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়৷

৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডিবি পরিচয়ে আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে তাকে তুলে নিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আটক হন৷

গত বছরের অক্টোবরে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ছিনতাইকারী সাজিয়ে রায়হান নামের এক যুবককে আটক করা হয়৷ পরে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ৷ টাকা না পেয়ে তাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়৷

২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের আউটপাড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর পুলিশের এক কনস্টেবলসহ দুজনকে আটক করে এলাকাবাসী৷ ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডিবি পরিচয়ে এক গাড়িচালকের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

আর গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের কথা তো সবার জানা৷ ওই মামলায় ওসি প্রদীপসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে৷

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, এখন বছরে পুলিশের বিরুদ্ধে ২৫ হাজারের মতো অভিযোগ জমা পড়ে তাদের কাছে৷ আর গড়ে দুই হাজার পুলিশের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়৷ পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেল ও আইজিপির বিশেষ সেলে সরাসরি অভিযোগ করা যায়৷ আর আদালতে বা থানায় ভুক্তভোগী সরাসরি মামলাও করতে পারেন৷ তাতে কোনো বাধা নেই৷ কিন্তু বাস্তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা অত সহজ নয়৷

পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পুলিশ সদরদপ্তরে আসে তার মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, যৌন হয়রানি, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার মতো অপরাধ৷

অডিও শুনুন 01:47

কঠোর শাস্তি না হওয়ায় বিপথগামী সদস্যরা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন: নূর মোহাম্মদ

পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘‘পুলিশ সদস্যরা যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইনে মামলা উভয়েরই সুযোগ আছে৷ এটা ভুক্তভোগীরাও করতে পারেন৷ যদি সঠিক অভিযোগ করা যায়, তাহলে প্রতিকারও পাওয়া যায়৷ তবে সমস্যা হলো, আমরা কঠোর শাস্তি দেখতে পাচ্ছি না৷ কঠোর শাস্তি না হওয়য়া বিপথগামী সদস্যরা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন৷ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এই প্রবণতা কমে আসতো৷’’

তার মতে , ‘‘এখানে মনিটরিং এবং সুপারভিশনের সমস্যা আছে৷ যারা মনিটরিং ও সুপারভিশনের দায়িত্বে আছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার৷ কারণ, আমার অধীনস্থ কেউ অপরাধ করছেন আর আমি জানি না এটা তো হতে পারে না৷”

আর অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান মনে করেন, ‘‘পুলিশ পাওয়ার স্ট্রাকচারের সঙ্গে যুক্ত, ফলে তারা অনেক ক্ষমতাবান৷ এটা শুধু এখন নয় , অনেক আগে থেকেই৷ আর সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করায় তাদের কেউ কেউ বেপরোয়া হয়ে ওঠে৷ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে৷ আর কেউ ধরা পড়লেও তেমন কোনো শাস্তি হয় না৷ বদলি বা সাসপেন্ড হয় বড়জোর৷ ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে না৷ আমাদের বিচার ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করে না৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘দীর্ঘদিনেও পুলিশ সংস্কার হয়নি৷ ফলে পুলিশ জনবান্ধব না হয়ে ভয়ের কারণ হিসবেই থেকে গেছে৷”

এ বিষয়ে চেষ্টা করেও পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়