‘পুলিশের সংবাদপত্রের কথাগুলোই যে মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই’ | আলাপ | DW | 10.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘পুলিশের সংবাদপত্রের কথাগুলোই যে মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই’

পুলিশের সাবেক আইজি ও কলাম লেখক মোহাম্মদ নুরুল হুদা পুলিশের নিউজ পোর্টাল চালুর উদ্যোগ এবং এর ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷

ডয়চেভেলে: পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ‘পুলিশ নিউজ’ নামে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম চালু করা হচ্ছে৷ পুলিশ সদস্যরাই সাংবাদিকতা করবেন৷ এটা কতটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

মোহাম্মদ নুরুল হুদা : পুলিশ বাহিনী একটি পেশাগত বাহিনী৷ আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ জনগণের সেবা করা তাদের কাজ৷ সেখানে তাদের সেবামূলক কাজ সম্বন্ধে, পেশাগত উৎকর্ষতা, পেশাগত যে সীমাবদ্ধতা, যদি সেগুলো জানাতে চায় জনগণকে, সেগুলো জানানো তো বাঞ্ছনীয়৷ এই কাজটি করা হলে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেই লক্ষ্য তারা অর্জন করতে পারে৷ আমার জানা মতে কোনো আইন বা বিধিগত বাধা নেই এটা করার জন্য৷

আপনার জানা মতে, পুলিশে এ ধরনের উদ্যোগ কি আগে ছিল?

ডিটেকটিভ-এর কথা বলবো৷ কিন্তু ডিটেকটিভ ওই রকম প্রফেশনাল জার্নাল নয়৷ এর মধ্যে সাহিত্য আছে৷ পুরো প্রফেশনাল জার্নাল বলা যায় না৷ এখন যেটা করা হচ্ছে, সেটা হয়তো প্রফেশনাল হবে৷ ডিটেকটিভে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, স্মৃতিকথা আরো অনেক কিছু থাকে৷ যতদূর শুনেছি, এখন যেটা হচ্ছে, সেটা পুরো প্রফেশনাল ব্যাপার হতে যাচ্ছে৷

হ্যাঁ আইজিপি সাহেব বলেছেন৷ তিনি সাংবাদিকতার গোল্ডেন রুলস অনুসরণের কথা বলেছেন...

ভালো৷ দেখা যাক৷ যখন হবে তখন তো দেখাই যাবে৷

পুলিশের কি এরকম একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজন আছেযদি থাকে তাহলে তো তারা পত্রিকা  টেলিভিশনেও যেতে পারে...

নিজেদের প্রতিষ্ঠানগত একটা পরিচিতি আছে৷ সেই প্রতিষ্ঠান যদি তাদের নিজেদের কথা বলতে চায়, তাতে অসুবিধা তো দেখি না৷ অসুবিধা কোথায়?

অডিও শুনুন 08:47

‘নিশ্চয়ই তারা আইন দেখে নিয়েছে, বিধি দেখে নিয়েছে বলে আমি ধরে নেবো’

তারাতো শুধু নিজেদের কথা বলবেন না৷ তারা পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিকতা করবেন৷ নিজেদের বাইরেও অন্যান্য খবর ছাপবেন৷ তারা বলছেন, পুলিশ সদস্যরাই এখানে সাংবাদিকতা করবেন৷ সেক্ষেত্রে টেলিভিশন বা পত্রিকাও কি তারা করতে পারেন?

আইনগত বা বিধিগত কোনো ব্যত্যয় আছে কিনা আমার জানা নেই৷ যদি আইনগত ও বিধিগত দিক ঠিক করে একটি পেশাদার সংবাদমাধ্যম হয়, তাতে তো অসুবিধা দেখি না৷ এখন তো অনেক ধরনের মিডিয়া- ইলেকট্রনিক, অনলাইন৷ পুলিশেরটা তো এখনো চালু হয়নি৷ আগে চালু হোক, দেখি৷

পুলিশের পক্ষে কি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করা সম্ভব? এতে কি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে?

তারা তো এটা স্বচ্ছতার জন্যই করছে৷ তারা তো তাদের কথাগুলোই বলবে৷ তাদের কথাগুলোই যে মেনে নিতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই৷ তারা সাংবাদিকতা করবে, একটা ভিউ আসবে৷ আর নিরপেক্ষতা তো আপেক্ষিক কথা৷ কারো কাছে যেটা নিরপেক্ষ মনে হবে, অন্যের কাছে সেটা নিরপেক্ষ না-ও মনে হতে পারে৷ পুলিশ বাহিনী একটা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটা সংস্থা৷ তারা আইন-কানুন মেনেই কাজ করবে৷

মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক হবে, নাকি ‘কনফ্লিক্ট’ হবে?

কনফ্লিক্ট হওয়ার কিছু তো নেই৷ এটা সম্পূরক হোক, পরিপুরক সেভাবেই তো আসবে৷ কনফ্লিক্ট হওয়ার তো কোনো জায়গা দেখি না৷ আর এখনো তো বের হয়নি৷ বের হোক, তারপর দেখা যাবে৷

এখানে তো একজন সম্পাদক আছেন৷ একইসঙ্গে একজন পেশাদার সম্পাদক ও পুলিশ কর্মকর্তা- এই দুই দায়িত্ব পালন সম্ভব ? দুইটি পদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হবে না তো?

দেখতে হবে এখন সরকারি কর্মচারিদের যে আচরণ বিধি আছে, ১৯৮৯ সালের, সেটার সাথে এটার কোনো সংঘর্ষ হয় কিনা৷ আমার জানা মতে, পুলিশ অফিসাররা তাদের পাবলিকেশন করতে পারবেন, যেগুলো পিওরলি লিটারারি এবং কালচারাল ভ্যালু আছে, যতদূর মনে হয়৷ এই জিনিসটা যখন তারা করছে, নিশ্চয়ই তারা আইন দেখে নিয়েছে, বিধি দেখে নিয়েছে বলে আমি ধরে নেবো৷

পুলিশ তো একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী৷ এখন কি সাংবাদিকতার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ এবং পড়াশুনা চালু করা উচিত?

অসুবিধা দেখি না৷ আধুনিক পুলিশে যতরকম ব্রাঞ্চ তার ততরকমের দক্ষতা থাকে, ভালো তো৷ তার যে নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য আছে, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য জনগণের সহযোগিতা চাওয়া, জনগণকে ইনফর্ম করা- সেই কাজগুলো যদি হয়, সেটা তো সুস্থ সমাজের লক্ষণই বলবো আমি৷

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কিন্তু একটি নিউজ পোর্টাল আছে৷ নাম ডিএমপি নিউজ৷ সেখানে দেখি শুধু উদ্ধার, অভিযান ও তাদের কার্যক্রমের খবর ছাপা হয়৷ শুধুমাত্র এই উদ্ধার অভিযানের খবর দিয়ে একটি পেশাদার সংবাদমাধ্যম  হতে পারে?

সেগুলো ভবিষ্যতে বলা যাবে৷ এখন তো হাইপোথেটিক্যাল হয়ে যায়৷ এটা বের হোক৷ তারা যে অবজেকটিভের কথা বলছে, তার সাথে তখন মিলিয়ে দেখা যাবে৷

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এনজিও বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মাল্টিমিডিয়া ওয়েবাসাইট আছে৷ তারা সেখানে তাদের নানা খবর ও তথ্য দেয়৷ পুলিশেরও যে রকম৷ সেটাকে আমরা সংবাদমাধ্যম বলতে পারি?

এটা তো আমি বলতে পারবো না৷ সংবাদমাধ্যমের সংজ্ঞা কী এটা আমার জানা নেই৷ যদি কোনো স্বীকৃত সংজ্ঞা থাকে, তাহলে সেটা দেখতে হবে৷ সাংবাদিকতা করতে আমাদের দেশে কোনো প্রশিক্ষণের দরকার হয় কিনা, তাদের একটা বডি আছে কিনা৷ কে সাংবাদিক হতে পারবেন, কে পারবেন না- এগুলো আমার জানা নেই৷ অতএব, এটা সংবাদমাধ্যম হতে পারে কি না পারে সেটা তো ওই ধরনের সংজ্ঞার আলোকে দেখতে হবে৷

পুলিশের পোর্টালে কাজ করা পুলিশ সদস্যরা যদি সাংবাদিক হন, তাহলে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যারা কাজ করেন, তারাও তো সাংবাদিক হবেন?

বললাম তো আমি জানি না৷ সাংবাদিক কে, সাংবাদিকতার সংজ্ঞা কী, এটার প্রফেশনাল বডি কার কী আছে, এগুলো আমার জানা নেই৷ একটা রাজনৈতিক দলের একটা প্রচার মাধ্যম থাকে৷ এটা একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান, তার একটা প্রচারমাধ্যম হচ্ছে৷ দুটিকে তো একভাবে দেখা যাবে না৷ সংবাদমাধ্যম হবে কিনা এটা আপনারা বলতে পারবেন৷ আমি বলতে পারবো না৷

এর সঙ্গে তো অর্থ বরাদ্দের প্রশ্ন উঠবে৷ তারা বিজ্ঞাপনও তো নেবেন৷ সরকারি প্রতিষ্ঠান এটা কিভাবে ‘ম্যানেজ’ করবে?

তারা যদি সরকারি ফান্ড না নিয়ে করে, তাদের অন্য জায়গা থেকে ফান্ড আনতে হবে৷ কোথা থেকে ফান্ড আসবে, সেটা জানতে হবে৷ আমার ধারণা সরকারি ফান্ড হবে না হয়ত৷ বেসরকারি ফান্ড থাকে, যেখানে তাদের নিজেদের প্রাইভেট ডোনেশন থাকে৷ প্রাইভেট ফান্ড মানে ফোর্সের মধ্য থেকে, ফোর্সের কন্ট্রিবিউশনে কিছু ফান্ড থাকে৷ সেখান থেকে তারা করতে পারে হয়তোবা৷

বিজ্ঞাপনের প্রশ্নও তো আসবে৷ তাদের তো বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে আর্থিক কারণে...

তারা যদি বেসরকারি বডি হিসেবে কাজ করে, তাহলে তো বিজ্ঞাপন নিতে অসুবিধা নেই৷ যেভাবে ডিটেকটিভ (পুলিশ ম্যাগাজিন) নিয়েছে, সেভাবে তারা নিতে পারবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়