পুলিশের ভাই জড়িত, তাই ধর্ষণের মামলা নিতে গড়িমসি? | বিশ্ব | DW | 28.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

পুলিশের ভাই জড়িত, তাই ধর্ষণের মামলা নিতে গড়িমসি?

চট্টগ্রামে কর্ণফুলি থানা এলাকায় ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ কেন প্রথমে মামলা নিতে চায়নি? সময়ের সঙ্গে বের হচ্ছে নানা তথ্য৷ জানা গেছে, এ ঘটনার সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাই জড়িত৷ অবশ্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন৷ তারা এরইমধ্যে মোট তিনজনকে ঐধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে৷ তাদের মধ্যে দু'জন আদালতে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন৷ এই তিনজনের একজন হলো আব্দুল হান্নান ওরফে হান্নান মেম্বার৷ তাকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়৷ সে পুলিশের এসআই আব্দুল মান্নানের বড় ভাই৷ এসআই মান্নান কিছুদিন আগেও চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় কাজ করতেন৷ সম্প্রতি খাগড়াছড়ি বদলি হয়ে গেছেন তিনি৷

এর আগে আটক আরেক আসামি আবু সামা আদালতে দেয়া তার জবানবন্দিতে হান্নানকেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জানিয়েছে৷ তার সেই জবানবন্দির ভিত্তিতেই চট্টগ্রামের কোতোয়ালী এলকা থেকে পুলিশ হান্নানকে গ্রেপ্তার করে৷

অডিও শুনুন 02:18
এখন লাইভ
02:18 মিনিট

‘আটকদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাই’

বৃহস্পতিবার আদালতে আবু সামার জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক আব্দুল হান্নান কর্ণফুলি উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার প্রার্থী ছিলেন৷ তাই এলাকায় তিনি হান্নান মেম্বার নামে পরিচিত৷ হান্নান সরকারি প্রজেক্ট থেকে মাছ চুরির করে৷ আর মূলত সেই মাছ চুরি করতে গিয়েই হান্নানের সঙ্গে আবু সামার পরিচয় হয়৷ সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে বড়উঠান এলাকায় পুরুষশূন্য দুবাইওয়ালার বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়৷

চট্টগ্রামে ‘বাংলা ট্রিবিউন'-এর সাংবাদিক হুমায়ূন মাসুদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এই ঘটনায় মোট পাঁচজন জড়িত বলে আটকদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে৷ এছাড়া আটকদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাই৷ কর্ণফূলি থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা নেয়ায় অনেক গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে৷ আদালত ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর এবং শোকজের নির্দেশ দিয়েছে৷''

অডিও শুনুন 02:37
এখন লাইভ
02:37 মিনিট

‘ভিক্টিমরা প্রথমে ধর্ষণের কথা আমাকে জানায়নি’

ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ১২ ডিসেম্বর রাতে৷ কিন্তু কর্ণফুলি থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা ঘটনাস্থল তাঁর থানা এলাকায় না, এমন কথা বলে মামলা নিতে অনেক দেরি করেন৷ পরে একজন মন্ত্রীর নির্দেশের পর ১৭ ডিসেম্বর রাতে মামলা নেয়া হয়৷

ওসি সৈয়দুল মোস্তফা অবশ্য ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ভিক্টিমের স্বজনরাই বাসা কোন এলাকায় ঠিকমত বলতে না পারায় মামলা নিতে দেরি হয়েছে৷ তাছাড়া তারাও প্রথমে ধর্ষণের কথা আমাকে জানায়নি৷''

পুলিশের ভাই জড়িত এ কারণে মামলা নিতে দেরি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘‘আমরা তো মামলা ডিটেক্টই করতে পারিনি৷ জানতেই পারিনি কারা এরসঙ্গে জড়িত৷ এখন পিবিআই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে৷ আমরা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ধরেছিলাম৷ কারা ঘটিয়েছি তা-ই যখন আমরা জানতে পারিনি, তখন পুলিশের ভাই জড়িত থাকায় মামলা না নেয়ার অভিরযোগ কীভাবে আসে?''

অডিও শুনুন 02:05
এখন লাইভ
02:05 মিনিট

‘প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতেই মামলা না নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ’

একইভাবে ঢাকায় বনানির রেইন্ট্রি হোটলে ধর্ষণের মামলাও পুলিশ প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল৷ তবে সংবাদমাধ্যমে ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয় পুলিশ৷ চট্টগ্রামের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে আসার কারণে ধামাচাপা দিতে পারেনি পুলিশ৷

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতেই মামলা না নেয়ার চেষ্টা করেছিল পুলিশ৷ এই ঘটনায় পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাইও জড়িত৷ অতীতেও পুলিশ ধর্ষণের একাধিক ঘটনায় প্রভাবশালীদের বাঁচাতে এরকম নানা ফন্দি করেছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘সাসপেন্ড বা প্রত্যাহার নয়, কর্ণফূলি থানার ওসির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন৷''

এ সম্পর্কে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন