পুলিশের গুলিতে যুবক নিহত, উত্তর লন্ডন উত্তপ্ত | বিশ্ব | DW | 07.08.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পুলিশের গুলিতে যুবক নিহত, উত্তর লন্ডন উত্তপ্ত

উত্তর লন্ডনের টটেনহ্যাম এলাকায় ব্যাপকহারে রায়ট, লুটপাট, দোকান এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর, চল্লিশজন গ্রেপ্তার৷ পরিস্থিতি বেশ অগ্নিগর্ভ সেখানে৷ পাশ্চাত্ত্য সভ্যতার প্রাণকেন্দ্রে এবার উঠছে সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নও৷

default

রাতভর দাঙ্গা চলেছে টটেনহ্যামে

প্রথমে ঘটনাটা ছোট করে বলে নেওয়া যাক৷ লন্ডনের উত্তরাঞ্চলের টটেনহ্যাম নামের একটি জায়গার বাসিন্দা জনৈক মার্ক ডুগান গত বৃহস্পতিবার ট্যাক্সি করে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন৷ তারপরে ক্রমশ অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছিল স্থানীয় মানুষের মধ্যে৷ ডুগানের মৃত্যুর সন্তোষজনক কোন উত্তরও পুলিশ দিতে পারেনি৷ এরপর সপ্তাহান্তের সুযোগটিকে কাজে লাগাতে আর ছাড়েনি যারা গোলমাল পাকাতে চায় তারা৷ ফলে শনিবার রাত থেকে প্রথমে অল্পস্বল্প, পরে ব্যাপকহারে গোলমাল শুরু হয়ে যায় টটেনহ্যামে৷

গোলমালের ধরণটা বেশ চেনা৷ শনিবার সন্ধ্যায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা প্রথমেই রাস্তায় যানবাহন পোড়াতে শুরু করে দেয়৷ পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগে৷ ভস্মীভূত হয় একটি ডাবলডেকার বাস৷ আগুন লাগানো হয় আলডি-র একটি সুপারমার্কেটে৷ আর এই বিক্ষোভ, আগুন ইত্যাদির সুযোগ নিয়ে একদল লুটেরা একের পর এক দোকানপাট লুট করে৷ এমনকি বেশ কিছু বাড়িঘরেও লুটেরারা হামলা চালায়৷

Krawalle in Tottenham London Flash-Galerie

রবিবার সকালে টটেনহ্যামের অবস্থা

ভাঙচুর, আগুন, লুটপাট, এ ধরণের অন্যায়ের ছবিতে বেশ বিপর্যস্ত লন্ডনের প্রশাসন৷ এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ ডেভিড ল্যামি৷ এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিবৃতি শোনা গেছে৷ যাতে ডাউনিং স্ট্রিট বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলছে, এ ধরণের ক্ষোভকে মেনে নেওয়া যায়না৷ পুলিশ জানাচ্ছে, অন্তত দু'জন অফিসার এই রায়ট থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন৷ এছাড়া মোট দশজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে৷ গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যাটা অন্তত ৪০৷

রায়ট পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত করা গেলেও ঘটনাটা এখানেই যে মিটে যাচ্ছেনা, সেটা বলাই বাহুল্য৷ ট্যাক্সি করে যাবার সময়ে হঠাৎ কী করে ডুগান পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন, সে রহস্য এখনও স্পষ্ট নয়৷ ডুগানের শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতে ব্রিটিশ পুলিশের একটি বিশেষ ওয়াচডগ দল রোববার সন্ধ্যাবেলায় যাচ্ছে টটেনহ্যামে৷ এলাকার মানুষের সঙ্গেও তারা কথা বলবেন৷

এলাকার সাংসদ ডেভিড ল্যামি বলছেন, বিক্ষোভ দেখিয়ে কোন সমাধান মিলবে না৷ জানা দরকার, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ডুগানকে গুলি করে মেরে ফেলল পুলিশ৷ কারণটা কী? ল্যামির এ প্রশ্নের কোন স্পষ্ট জবাব এখনও পুলিশ দিতে পারে নি৷ পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত চলছে৷ এই ঘটনার যারা প্রত্যক্ষদর্শী, তাদের সাহায্য চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: জাহিদুল হক