1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Durgapuja West Bengal Coronavirus
ছবি: Prabhakarmani Tewari/DW

পুলিশি পাহারায় পূজা স্বস্তি ফেরাতে পারবে?

হারুন উর রশীদ স্বপন ঢাকা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শরাদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এবার পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে৷

https://p.dw.com/p/4Gh9j

নিরপাত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, পুলিশ-আনসার মোতায়েন করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিতেই বুঝা যায় যে, দেশে একটি আসাম্প্রদায়িক পরিবেশে পূজা উদযাপন করার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি৷          

গতবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজার সময়ে মণ্ডপ, মন্দিরে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে৷ আর তাই প্রশ্ন উঠে- সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারছেন হিন্দু সম্প্রদায় লোকেরা৷ সেইসাথে কতটা নির্ভয়ে তারা পূজা উদযাপন করতে পারবেন সে প্রশ্নটিও সামনে এসেছে৷

এবার সারাদেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী যা গত বছরের চেয়ে বেশি৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আসন্ন দুর্গাপূজায় এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷ এবছর পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়াও ২৪ ঘন্টা আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে৷ পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হচ্ছে সরকার৷’’

তিনি বলেছেন, এবার পূজায় যেকোনো ধরনের গুজবের ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখা হবে৷ বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করা হবে৷ কোনো ধরনের গুজব ছড়ানোকে কঠোর হাতে দমন করা করা হবে৷ 

পুলিশের পাহারায় পূজা করতে হচ্ছে: চন্দ্রনাথ পোদ্দার

তিনি বলেন, ‘‘পূজামণ্ডপে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে৷ এমন জায়গায় পূজামণ্ডপ করা যাবে না, যেখানে গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না৷ পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের বাধ্যতামূলকভাবে হাতে আর্মব্যান্ড পরতে হবে৷’’

পূজার সময় পুলিশ সদরদপ্তর এবং জেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে৷ ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যাবে৷ থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত৷ আর পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি নজরদারির জন্য গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরাও তৎপর থাকবেন৷

রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান৷

তিনি জানান, ‘‘আজানের সময় পূজামণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখতে হবে৷’’

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার৷

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আতঙ্কে থাকলেও সরকারের ওপর তো আমাদের আস্থা রাখতে হবে৷ কাউকে তো আমাদের বিশ্বাস করতে হবে৷''

নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের উপর আস্থা আছে জানালেও উদ্বেগের কথাও শোনা যায় তার মুখে৷   

তিনি বলেন, ‘‘বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের পুলিশের পাহারায় পূজা করতে হচ্ছে৷ আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই যেখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তার ধর্ম এবং উৎসব পালন করতে পারবে৷’’

তার কথা, ‘‘এরজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও মানসিকতার পরিবর্তন দরকার৷ গত বছর তো ঢাকেশ্বরি মন্দিরে পুলিশ ছিল৷ তারপরও তো কিছু উগ্রবাদী মিছিল নিয়ে মন্দিরের সামনে লাফালাফি করেছে৷’’

করোনাকালে দুর্গা পূজা

গতবছর পূজার সময় কুমিল্লার একটি মন্দিরে পবিত্র কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে ব্যাপক হামলা চালানো হয়৷ কুমিল্লায় অনেকগুলো মন্দির ও পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়৷ হিন্দুদের বাড়িতেও হামলা হয়৷ আর কথিত কোরআন অবমাননার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও রংপুরেও হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি কুমিল্লায় স্বেচ্ছাসেবক থাকত, তাহলে ওই ঘটনা ঘটত না৷ কুমিল্লার মণ্ডপে একজন নিরাপত্তাকর্মী ছিল৷ তাও সে মণ্ডপ থেকে অনেক দূরে বেঞ্চে রাতে ঘুমিয়েছিল৷’’

তার এই কথার জবাবে পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘সবখানে সিসি ক্যামেরা থাকলে ভালো হয়৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়৷ এখানে খরচের বিষয়ও আছে৷ কিন্তু কথা হলো সিসি ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক না থাকলে হামলা হবে এটা তো মেনে নেয়া যায় না৷ তাহলে বোঝাই যায় হামলা পরিবেশ আছে৷ আমাদের নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হবে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা সব জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি৷ তাদের ২১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি৷ আমাদের দিক থেকে যতটুকু ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব, তা নিচ্ছি৷ কিন্তু মূল দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের৷’’

তার কথা, ‘‘গত পূজার সময় যে হামলা হয়েছে তার তো বিচার হয়নি৷ বিচার হলে দুর্বৃত্তরা ভয় পেত৷ কিছু মামলায় চার্জশিট হয়েছে৷ যারা ধরা পড়েছে তারা জামিন পেয়েছে৷ যারা মামলা করেছেন তারা তো উল্টো ভয়ের মধ্যে আছে৷ ফলে আমাদের আতঙ্ক কাটেনি৷’’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছেন তার মানে হলো পুলিশ আছে, পূজা আছে৷ পুলিশ নেই, পূজাও নেই৷ এইরকম পরিস্থিতি তো আমরা চাই না৷ পুলিশ পাহারা দিয়ে যদি পূজা উদযাপন করতে হয় তাহলে পরিস্থিতি কেমন তা বোঝাই যাচ্ছে৷’’

দুই সপ্তাহে প্রতিমা ভাঙচুরের সাত-আটটি ঘটনা ঘটেছে: রানা দাসগুপ্ত

তার অভিযোগ, ‘‘গত দুই সপ্তাহে সারাদেশে প্রতিমা ভাঙচুরের সাত-আটটি ঘটনা ঘটেছে৷ আর গত পূজার সময় হামলার পর এই এক বছর তো আর হিন্দুরা হামলার বাইরে ছিলেন না৷ হামলা তো বন্ধ হয়নি৷ নানা গুজব ছড়িয়ে তো মন্দির, হিন্দুদের বাড়ি ঘরে অনেক হামলা হয়েছে৷ তাহলে পরিবেশের তো কোনো উন্নতি দেখতে পাচ্ছিনা৷’’

তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আমরা আশ্বস্ত হতে চাই, কিন্তু বিশ্বাস রাখতে পারছি না৷ এরকম আশ্বাস অতীতে অনেক দেয়া হয়েছে কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি৷’’

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘গত পূজার সময় কুমিল্লায় পরিকল্পিত হামলার পর দেশের ১০-১২ জায়গায় মন্দির, মণ্ডপ ও হিন্দুদের বাড়িতে হামলা হলো৷ দুই-একজন গ্রেপ্তারও হয়েছে৷ কিন্তু বিচার তো পাওয়া যায়নি৷ বিচার না হলে, আইনের সঠিক ও সমান প্রয়োগ না হলে তো হামলা বন্ধ হবে না৷ যারা ওই সব মামলার সাক্ষী তারা তো ভয়ে আছেন৷’’

চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আরো বাড়তি কিছু মন্দিরে পূজার প্রস্তুতি চলছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত কতগুলো মন্দিরে পূজা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি৷

বাংলাদেশে ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু  হবে৷ ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন সম্পর্কিত বিষয়
স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

আদানির কয়লার দামে ‘সংশোধন’ চায় পিডিবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান