পুরনো ইট রক্ষার উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা | অন্বেষণ | DW | 27.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পুরনো ইট রক্ষার উপায় খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

পুরনো, ঐতিহ্যবাহী অনেক স্থাপনা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন৷ এই লক্ষ্যে ইউরোপের গবেষকরা একটি পরিবেশবান্ধব উপাদান তৈরির চেষ্টা করছেন, যা দিয়ে পুরনো ইট রক্ষা করা যাবে৷

চতুর্দশ শতাব্দীতে নির্মিত সার্বিয়ার বাচ দুর্গ ৩০০ বছর আগে ধ্বংস হয়েছিল৷ জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ এই দুর্গটি এখন হুমকির মুখে৷ তবে তাকে রক্ষার চেষ্টা চলছে৷ স্থপতি স্লাভিচা ভুজোভিচ বলছেন, ‘‘আমরা এটা রক্ষার খুব চেষ্টা করছি৷ কিন্তু এর কাঠামো এখনও বেশ ভঙ্গুর৷ দেয়াল তৈরিতে যে কাদামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ৷ দেয়ালের কিছু অংশের নীচে ফাউন্ডেশন না থাকায় হুমকি বেড়েছে৷''

প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণ কর্মীদের সঙ্গে মিলে ইউরোপীয় গবেষকরা একটি সমাধান খুঁজছেন৷ তাঁরা এ সব দেয়ালের ভেতর ও নীচে কী আছে, তা জানার চেষ্টা করছেন৷ গবেষণা করে তাঁরা একটি অভিনব পদার্থ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা পুরনো ইটগুলোকে পরিবেশসম্মত উপায়ে রক্ষা করবে৷ প্রকৌশলী অগনিয়েন রুডিচ বলছেন, ‘‘আমরা এখন নতুন পদার্থটি পরীক্ষা করে দেখছি৷ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এটা৷ ফলে কোনো বিষাক্ত উপাদান নেই৷ চাইলে এটি খেতেও পারি আমি৷''

গবেষণার লক্ষ্য, আবহাওয়াজনিত কারণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষয়ে যাওয়া রোধে ‘সবুজ' এক উপায় বের করা৷ প্রকৌশলী ইয়ননইয়াউয়া রানোগাইয়েচ জানালেন, ‘‘আমরা দু'টো উপাদান তৈরি করেছি৷ একটি কাঠামোকে শক্ত করার জন্য, অন্যটি ক্ষয় রোধ করার জন্য৷ দু'টোই পরিবেশবান্ধব৷ সিলিকেট আর কার্বনেট দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছে৷ এছাড়া এই দেয়াল তৈরিতে যে ইট, চুন ও কংক্রিট ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোর কম্পোজিশনের সঙ্গে এদের মিল আছে৷''

মাঠপর্যায়ে গবেষণার সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মধ্যযুগে কীভাবে ইট আর চুন তৈরি করা হতো, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাচ্ছেন৷ এরপর ল্যাবে একই কাদা ও কাচামাল ব্যবহার করে এবং একই পদ্ধতিতে রেপ্লিকা তৈরি করা হয়৷ তারপর শুরু হয় গবেষণা কাজের কঠিন পর্যায়৷

প্রকৌশলী স্নেজানা ভুচেটিচ বলছেন, ‘‘রেপ্লিকা ইট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর আমরা তা পরীক্ষা করে দেখি৷ লবণাক্ত ও হিম পরিবেশে সেগুলো খাপ খায় কিনা, তা দেখা হয়৷ সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও দূষণের জন্য দায়ী বিভিন্ন এজেন্টের মুখোমুখিও করা হয় তাদের৷''

এরপর সংরক্ষণের জন্য ল্যাবে তৈরি উপাদান রেপ্লিকা ইটের উপর ছড়িয়ে দেয়া হয়৷ ফলাফল বেশ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিক ফলাফল বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক৷

প্রকৌশলী অগনিয়েন রুডিচ বললেন, ‘‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংরক্ষণকারী উপাদানের মধ্যে সুরক্ষা গুণ রয়েছে৷ এছাড়া এগুলো জীবাণুবিরোধী এবং ইটের উপরিভাগে পরিবর্তন আনতে পারে, এমন কিছু ধ্বংস করতে সক্ষম৷ আর স্বচ্ছ হওয়ার কারণে যে পদার্থে ব্যবহার করা হয় তার সৌন্দর্য্যেও কোনো পরিবর্তন আনে না এটি৷''

সিমেন্ট ও প্লাস্টার নির্মাণকারী একটি কারখানাও গবেষণায় যোগ দিয়েছে৷ গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া সংরক্ষণকারী উপাদান তৈরি ও পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানে৷ ভালো একটি উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে৷ কারখানার পরিচালক রাইকো ত্রাভিচা বলছেন, ‘‘এটি একটি দারুণ উদ্ভাবনী পণ্য, যা বাজারে আমাদের দর বাড়াতে পারে৷ সাধারণ পদার্থ দিয়ে তৈরি, সহজে মেশানো ও উৎপাদন করা যায়৷ গবেষণা যদি সফল হয় তাহলে তিন বছরের মধ্যে এটি বাজারে আসবে৷''

সেটি সম্ভব হলে শুধু এখানকার ইটের জন্য নয়, ইউরোপের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জন্যও তা ভালো হবে, বলে বিশ্বাস গবেষকদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন