পুতুল নাচের প্রতি তরুণদের উৎসাহ বাড়ছে: মুস্তফা মনোয়ার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.08.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

পুতুল নাচের প্রতি তরুণদের উৎসাহ বাড়ছে: মুস্তফা মনোয়ার

প্রায় পাঁচশো বছর আগে উপমহাদেশে পুতুল নাচের প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়৷ কালের পরিক্রমায় এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছিল৷ তবে ইদানিং সেটা আবারো ফিরে আসছে৷

বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর৷ আর পরের বছর থেকেই টেলিভিশনে ‘পাপেট শো' বা পুতুল নাচ নিয়ে হাজির হন মুস্তফা মনোয়ার৷ সেই থেকে শুরু৷ এখনো পুতুল নাচ নিয়ে অনেক কাজ করছেন তিনি৷ কথা হচ্ছিল তাঁর সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ‘‘আগে গ্রামে-গঞ্জে যে পুতুল নাচ হতো সেখানে ধর্মের কথা, নীতিকথা ইত্যাদি বলা হতো৷ অর্থাৎ পুতুল নাচের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা দেয়ার একটা ব্যাপার থাকত৷ বিভিন্ন রসিকতার মাধ্যমে এসব করা হতো বলে গ্রামের লোকজন বেশ মজা পেত৷''

তিনি বলেন, পুতুল নাচের মাধ্যমে শুধু যে শিশুরা আনন্দ পেত তা নয়৷ বড়রাও এটা দেখে মজা পেত৷

মুস্তফা মনোয়ার বলেন, প্রায় পাঁচশো বছরে আগে ভারতবর্ষে পুতুল নাচের নিদর্শন পাওয়া যায়৷ মূলত হিন্দুরাই এটা চর্চা করত৷ ফলে পরবর্তীতে যখন দেশ ভাগ হলো, তখন পাকিস্তানে মৌলবাদিদের কারণে পুতুল নাচের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়৷ তাই সব দলগুলো তখন ভারতে চলে যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তান হওয়ার পর মৌলবাদীরা পুতুল নাচকে ‘নাজায়েজ' বলে সেটা হতে দিত না৷ এছাড়া আরও নানাভাবে সমস্যার সৃষ্টি করত৷''

Flash-Galerie Die Sesamstraße wird 40

বিশ্ব বিখ্যাত পুতুল নাচ ’সিসেম স্ট্রিট’...

বাংলাদেশ হওয়ার পর মুস্তফা মনোয়ারই পাপেট শো বা পুতুল নাচকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন৷ মূলত টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সেই চেষ্টাটা চলে৷ তিনি বলেন, সেসময় বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে পাপেটের বিভিন্ন চরিত্র তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে৷ এছাড়া বাংলাদেশি রূপকথাগুলোও পাপেটের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে৷ সে কারণেই তাঁর পরিচালনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত পাপেট শো'এর পারুল, বাউল চরিত্রগুলো শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷

মুস্তফা মনোয়ার বলেন, বাংলাদেশে এখন হাতে গোনা ১৫ বা ১৬টি দল পুতুল নাচ পরিবেশন করছে৷ কিন্তু তাদের বেশিরভাগেরই মান ভালো নয়৷ তবে ইদানিং তরুণদের মধ্যে পাপেট নিয়ে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে৷ ‘এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার'-এর মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়ার চেষ্টা চলছে৷ তবে এ জন্য সরকারি সহায়তা দরকার বলে মনে করেন তিনি৷ এছাড়া বড় বড় কোম্পানি যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পন্সর করছে, তাদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত৷ কেননা তারা কেবল ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে৷ যে বিষয়টা দাঁড়িয়ে গেছে সেটার পেছনে টাকা ঢালে৷ উন্নয়নমূলক কোনো কাজে নয়৷ এই গুণী পাপেট শিল্পী বলেন, ‘‘সিসিমপুরের মতো টেলিভিশনের জনপ্রিয় শো'গুলোতে তরুণরা কাজ করছে৷ এসব তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন৷ অবশ্য শিল্পকলা একাডেমী ইদানিং বেশ কিছু কাজ করছে৷''

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন