পিরিয়ড নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে মার্কিন নারীর প্রশিক্ষণ | বিশ্ব | DW | 15.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পিরিয়ড নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে মার্কিন নারীর প্রশিক্ষণ

নারীদের পিরিয়ড নিয়ে ছুতমার্গের শেষ নেই৷ এ সমস্যা সমাধানে ব্রতী হয়েছেন মার্কিন মহিলা মেগান নোরিন৷ এপ্রিলেই তাঁর ‘ডিভাইন ফ্লো’ ওয়েবসাইটের উদ্বোধন৷ সেখানে মিলবে পিরিয়ড সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধান৷

প্রচার আর সচেতনতা যতই বাড়ানো হোক না কেন, ভেতরে সেই ঢাক গুড়গুড় রয়েই যায়৷ বিষয়ের নাম ‘মহিলাদের মাসিক' যে! ‘প্যাডম্যান' সিনেমার দৌলতে স্যানিটারি প্যাড নিয়ে বিস্তর প্রচার আর সচেতনতা তৈরি হয়েছে৷ ঢেউ আছড়ে পড়েছে বঙ্গেও৷ রাজ্য সরকার তো এবার রাজ্যের সমস্ত মহিলা কলেজে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসাতে চলেছে৷ অবশ্য বেসরকারি উদ্যোগে কলকাতার ৩০টি কলেজে এমন ব্যবস্থা আছে৷ জেলাস্তরেও বসছে মাসিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সভা৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও সমস্যার শেষ নেই যেন৷ পর্যাপ্ত স্যানিটারি প্যাডের অভাব ছাড়াও সমস্যা রয়েছে অনেক৷ ঋতু চলাকালীন কতক্ষণ একটা প্যাড ব্যবহার করা উচিত? খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো উচিত, নাকি উচিত নয়? এসব হাজারো প্রশ্নের উত্তর যথাযথ জানাই তো সমস্যা৷

‘পাছে লোকে কিছু বলে' মানসিকতায় পুষ্ট তৃতীয় বিশ্বে কে-ই বা কাকে জিজ্ঞেস করবে! সাগর দত্ত হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক হাসি দাশগুপ্ত একবাক্যে মেনে নিলেন এই সমস্যার কথা৷ বললেন, ‘‘সত্যিই তো সে অর্থে খোলামেলাভাবে এমন আলোচনা করার সুযোগ নেই৷ সমস্যা গুরুতর না হলে কে আর শুধু ডাক্তারের কাছে যেতে চান? কয়েকটা টোটকা আর সংস্কার ছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে কিছু জানারও উপায় নেই৷ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে এই প্র্যাকটিসটাই নেই৷''

মহিলাদের পিরিয়ড নিয়ে এখন সরব হয়েছে বলিউড৷ প্যাড নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়াছুঁড়িও হচ্ছে৷ কিন্তু এসবের থেকে দূরে, অলক্ষ্যে গত চার-পাঁচ বছর ধরে মহিলাদের ওই বিশেষ দিনগুলোর সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন প্রথম বিশ্বের এক মহিলা, মেগান নোরিন৷ তা-ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে! সংস্কারবদ্ধ মাসিক সমস্যা নিয়ে তাঁর প্রথম লড়াই ছিল পরিবেশবান্ধব ন্যাপকিন তৈরি দিয়ে৷ কিন্তু লড়াই এখানেই শেষ নয়৷ এবার সারা বিশ্বের মহিলাদের সুরক্ষিত করার দায় নিচ্ছেন৷ কীভাবে? গ্লোবাল দুনিয়ায় হাতের ক্লিকে মিলবে পিরিয়ড সমস্যার অনলাইন সমাধান৷ পিরিয়ড নিয়ে ফ্রি কোচিংয়েরও দুনিয়া এবার খুলল বলে!

না, বিশ্বে ‘ডিভাইন ফ্লো'-ই প্রথম পিরিয়ডের অনলাইন কোচিংয়ের জায়গা নয়৷ রয়েছে অ্যামেরিকার উইম্যান নারিশমেন্ট, ইংল্যান্ডের রেড স্কুল৷ তবে ভারতে এমন উদ্যোগ প্রথমবার৷ চিকিৎসক হাসি দাশগুপ্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন এই চেষ্টাকে৷ বললেন, ‘‘এমনটা করতে পারলে তো খুবই ভালো হয়৷ সংস্কারের ভয়ে অনেকে সমস্যা এড়িয়ে চলেন দিনের পর দিন৷ এতেই ক্যানসারের মতো রোগ বাড়ে৷ খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকলে সুরক্ষা নেওয়া সহজ হবেই তো!''  

কলকাতার বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজের ছাত্রীরাও ডয়চে ভেলেকে একই অভিযোগ জানালেন৷ তাঁদের মতে, সমাজের মতো পরিবারেও পিরিয়ড নিয়ে লুকোচুরির রেওয়াজ চলে৷ দমদম মতিঝিল স্কুলের প্রিয়াঙ্কা সাহা বলল, ‘‘বাড়িতে অভিভাবকরাও পিরিয়ডের মতো শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ে বেশি কিছু বলতে চায় না৷ ফলে আমাদের পক্ষে ছোট-বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয় প্রচুর৷ পিরিয়ডের জন্য এমন ওয়েবসাইট এলে তো খুবই ভালো হবে৷''

অডিও শুনুন 04:16
এখন লাইভ
04:16 মিনিট

‘ভারতের মতো অ্যামেরিকাতেও প্রচুর ট্যাবু পিরিয়ড নিয়ে’

২০১০ সালে একটি মার্কিন সংস্থার হয়ে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের সমীক্ষা করতে কলকাতায় এসেছিলেন মেগান৷ তারপরেই জড়িয়ে গেছেন মহিলাদের উন্নয়নের কাজে৷ ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর কলকাতায় ‘সমতা উইম্যান কেয়ার' সংস্থা তৈরি করে মহিলাদের সুরক্ষিত করার দায় নিয়েছেন তিনি৷ কয়েক বছরে শহর ও শহরতলিতে অনেক আলোচনাসভা করেছেন৷ মেয়েদের মধ্যে ঋতুকালীন সুখ-দুঃখের কথা বলেছেন৷ বুঝেছেন শুধুমাত্র কয়েকটা আলোচনাসভা করে সচেতনতা তৈরি করা যাবে না৷ করতে হবে আরও বড় কিছু৷ সেটা বুঝে এবার ইন্টারনেটে সব মেয়ের কাছে পৌঁছে যেতে চান মেগান৷ তাই ‘ডিভাইন ফ্লো'-র ভাবনা৷

মার্কিন দেশের মহিলা হয়ে তৃতীয় বিশ্বের ট্যাবু সম্পর্কে ধারণা হলো কীভাবে? মেগান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভারতের মতো অ্যামেরিকাতেও প্রচুর ট্যাবু পিরিয়ড নিয়ে৷ এদেশে পিরিয়ড হলে পুজোআর্চা, চুলখোলা, রান্নাঘরে যাওয়া নিষেধ৷ ওদেশেও পরিয়ড নিয়ে খোলামেলা কথা বলা যায় না৷ সবাই এ ব্যাপারে চুপ৷''

দক্ষিণ ভারতের অরুণাচলম মুরুগন্থনম যত্রতত্র সস্তায় ন্যাপকিন তৈরির যন্ত্র বসিয়ে, নিজে সেগুলো বিলি করে ট্যাবুর ভিত ধসিয়ে দিয়েছেন৷ এই উপমহাদেশে জগদ্দল সংস্কারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে ‘ডিভাইন ফ্লো'-তে লগ ইন করলেই অনলাইন ভিডিও কোচিংয়ের দরজা খুলে যাবে৷ স্কাইপ বা জুমের মাধ্যমে যে কোনও দেশের মহিলারা কথা বলতে পারবেন তাঁদের সমস্যা নিয়ে৷ তাঁদের ক্লাস নেবেন মেগান ও তাঁর সহযোগীরা৷ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দেবেন মেগানের পারিষদ৷ মিলবে পিরিয়ড সংক্রান্ত বই, যোগাভ্যাসের লাইভ পরামর্শ৷ ওয়েবে থাকছে ডান্স থেরাপি৷ ওয়েবের সোল মিউজিং ব্লগে মহিলাদের একান্ত আপন কথাগুলো বিলিয়ে দেওয়া যাবে অনায়াসে৷ মাসে একবার করে ১৫-২০ জন মহিলাকে নিয়ে পিরিয়ডের সমস্যা নিয়ে বৈঠকও বসবে বলে জানা গেল৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে মেগান নোরিনের চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠছিল৷ বলছিলেন, মেয়েরা তাদের নিজেদের শরীর চিনুক, জানুক, স্বচ্ছন্দ হোক তার শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ে৷ নিঃশব্দে না, এবার কথা হবে জোরদার৷ ‘‘ইয়েস, ইয়েস, ইয়েস৷ সিচ্যুয়েশন উইল বি চেঞ্জড৷ অবস্থার পরিবর্তন হবেই৷'' পশ্চিমবঙ্গের মেগানের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর ততক্ষণে ছাপিয়ে গিয়েছে ট্যাবু নিয়ে বলিউডের সমস্ত প্রচার আর চ্যালেঞ্জকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন