‌পিতৃপরিচয়েই আটকে সমাজ | বিশ্ব | DW | 28.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌পিতৃপরিচয়েই আটকে সমাজ

সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে, বাবা, অথবা মা, যে কোনও একজনের পরিচয়ই গ্রহণযোগ্য৷ এই স্বীকৃতি আইনের৷ তবু নানাবিধ জটিলতায় দীর্ণ সমাজ৷

শহর কলকাতায় সাম্প্রতিক আলোড়ন ফেলা খবর, কলকাতা পুরসভার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে মেয়রের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের রাতভর ধরনা৷ শেষে মেয়রের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় থানার পুলিশ এসে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করার পর নাটকের যবনিকা পড়ে৷ কিন্তু পরবর্তীতে যে সমস্যার কথা জানা যায়, তা বেদনাদায়ক৷ দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সমস্যার জেরে শোভন এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে এবং আপাতত সেই বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছে৷ কিন্তু ওঁদের দু'‌জনের কন্যা, যে কলকাতার এক নামী বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে, এক ছাত্র-ছাত্রী বিনিময় কর্মসূচির আওতায় তার জার্মানি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল৷ কিন্তু শেঙেন ভিসা চাওয়ার যে আবেদনপত্র, তাতে বাবা এবং মা, দু'‌জনের স্বাক্ষরই প্রয়োজন৷ কিন্তু সই করতে রাজি নন মেয়র, কারণ, তাতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে৷

এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই পুরনো বিতর্ক ফের খুঁচিয়ে তুলেছে যে, কেন আইনের নির্দেশ মেনে বাবা বা মা, কোনও একজনের সম্মতি, স্বাক্ষর যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না৷ সেই সূত্রে জানা গেছে, শুধু দম্পতিদের ক্ষেত্রে নয়, যে একা মা কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, অর্থাৎ বাস্তবজীবনে যে সন্তানের বাবার কোনও অস্তিত্ব নেই, তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা বারবার হয়েছে৷ আজকের দিনে অনেক স্বাধীনচেতা মহিলা এইভাবে মা হচ্ছেন৷ তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং পেশার সূত্রেই নিয়মিত বিদেশ যান৷ তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রে পিতৃপরিচয় না থাকার এই সমস্যা বারবার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এক বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী যেমন স্কলারশিপ পেয়ে অ্যামেরিকায় গিয়েছিলেন, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও নিজের নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে যেতে পারেননি, যেহেতু মেয়েটির বাবা, অর্থাৎ ওই নৃত্যশিল্পীর স্বামীর কোনও খোঁজ ছিল না৷

বিবাহ বিচ্ছেদের পর দু'জনেই যে যার পথে চলে যান এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ কিন্তু ভিসার আবেদনপত্রে সেই ভদ্রলোকের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর জরুরি, যেহেতু নাবালিকা মেয়েটির পাসপোর্টে বাবা হিসেবে তাঁর নাম আছে৷

অডিও শুনুন 07:30
এখন লাইভ
07:30 মিনিট

নিজের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন চিত্রকর ঈলিনা বণিক

সমস্যা আসলে ওখানেই, জানালেন বিশিষ্ট চিত্রকর ঈলিনা বণিক, যিনি নিজে কৃত্রিম পদ্ধতিতে গর্ভসঞ্চার ঘটিয়ে এক কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া দীর্ঘ এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বোঝালেন, যেহেতু পাসপোর্টে পিতৃপরিচয় আছে, সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ক্ষেত্রে ভিসা ফর্মে বাবা-মা, দুজনেরই সই লাগবে৷ ঈলিনা নানাজনের অভিজ্ঞতা থেকে এ ব্যাপারে সচেতন ছিলেন বলেই শিশুকন্যার পাসপোর্টে কেবল মা হিসেবে নিজের নামই রেখেছিলেন, জৈবিক পিতার নাম সীমাবদ্ধ কেবল মেয়ের বার্থ সার্টিফিকেটে৷ এবং তিনি একাই যে মেয়ের অভিভাবক, এই মর্মে আদালতে একটি হলফনামাও দিয়েছিলেন ঈলিনা, যা জোরে তিনি বিভিন্ন জায়গায় একা মা হিসেবে কন্যার অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করেছেন৷ কিন্তু তার পরেও খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর, যা ঈলিনা অকপটে জানিয়েছেন ডয়চে ভেলেকে৷ যেমন মেয়ের পাসপোর্ট করাতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে সবার সামনে হেঁকে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে মেয়ের পিতৃপরিচয় কী কারণে নেই?‌ যদিও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেছেন ঈলিনা, কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা এই পিতৃতান্ত্রিক, আগাগোড়া পুরুষশাসিত সমাজের একপেশে দৃষ্টিভঙ্গিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে৷

পিতৃপরিচয় কি সব? মায়ের পরিচয়ের কোনো দাম নেই? আপনার মতামত লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও