পিতার হাতে কিশোরী হত্যা নিয়ে ইরানে তুলকালাম | বিশ্ব | DW | 03.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

পিতার হাতে কিশোরী হত্যা নিয়ে ইরানে তুলকালাম

ইরানে ‘পারিবারিক সম্মান' রক্ষার জন্য সম্প্রতি ১৪ বছরের এক কিশোরীকে হত্যা করেন তার বাবা৷ এই হত্যা আবারো দেশটিতে নারীর প্রতি বৈষম্য ও মান্ধাতার আমলের আইনি কাঠামো নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে৷

গেল মা মাসের শেষ দিকের ঘটনা৷ ৩৭ বছর বয়সী রেজা আশরাফি নামের ঐ পিতা তার ১৪ বছরের কন্যা রোমিনার মাথা কেটে আলাদা করে দেন৷ কারণ তার মেয়ে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে গোপনে পালিয়ে যান৷ পাঁচ বছর ধরে ঐ যুবকের সঙ্গে প্রেম চলছে তার৷ পিতা সম্মতি দিলেই তারা বিয়ে করতে পারতেন৷ কারণ ইরানে ১৩ বছর বয়স হলেই মেয়েরা বিয়ে করতে পারেন৷

কিন্তু আশরাফি তা মেনে নেননি৷ তিনি পুলিশে খবর দিলে পাঁচ দিন পর রোমিনা ও ঐ যুবককে খুঁজে বের করে তারা৷ আশরাফি মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বলেন৷ কিন্তু তিনি তা না করলে মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন তিনি৷ রোমিনার মা তাকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা করেননি৷ মৃত্যুর পর একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বটে, কিন্তু আত্মীয় স্বজনরা তা করেন ঐ ‘পিতার সম্মানে'৷

Iran | Ehrenmord | Romina Ashrafi

রোমিনা আশরাফির স্মরণে লেখা

নারীরা এগিয়েছেন, তবে এখনো অনেক পেছনে

‘‘ইরানের সমাজের একেবারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে পুরুষতান্ত্রিকতা রয়েছে,'' ডয়চে ভেলেকে বলেন লেখক ও নারী অধিকার কর্মী আসিয়েহ আমিনি৷ ‘‘যতই তারা শিক্ষিত হন কিংবা যতই সুশীল সমাজে তাদের অবস্থান তৈরি হোক না কেন৷''

আমিনি ২০০৯-এর অস্থিতিশীল সময়ে ইরান থেকে পালিয়ে যান৷ এখন তিনি নরওয়েতে থাকেন৷ ‘‘ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শুধু ঐতিহ্যই নয়, আইনও পুরুষদের পক্ষে,'' বলেন তিনি৷

বাইরের পৃথিবীর কাছে ইরানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেক দেশের চেয়ে মেয়েরা এগিয়েছে৷ সৌদি আরবকে যেখানে মাত্রই নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন কিংবা ২০১৫ সালে ভোট দেবার অধিকার পেয়েছেন, সেখানে ইরানে ১৯৪০ সাল থেকে নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন এবং ভোটাধিকার পেয়েছেন ১৯৬৩ সালে৷

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্ধেক ডিগ্রি নারীদের দখলে৷ অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে মুক্তি পেতে নারীরা এখন আগের চেয়ে বেশি ডিভোর্স দিতে পারছেন৷

পুরুষের সমান নন

কিন্তু ইরান ও সৌদি আরবে একটি বিষয়ে মিল আছে, সেখানে পুরুষদের সমান অধিকার নারীদের দেয়া হয়নি৷ সেখানে শরিয়া বা ইসলামিক আইন মানা হয়৷ সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বাবা বা স্বামী নেন, এমনকি তাদের মৃত্যুর পরও৷ যেমন, কোন নারী যদি কোন অপরাধের শিকার হন বা হত্যার শিকার হন, তাহলে অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে, না ক্ষমা করে দেয়া হবে সে সিদ্ধান্তও পিতা বা স্বামী নিতে পারেন৷ সে হিসেবে রোমিনার ঘটনায় যিনি হত্যাকারী, অর্থাৎ তার পিতা, তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন নিজেকে ক্ষমা করবেন না শাস্তি দেবেন৷

আশরাফি একাই শুধু নন যিনি ইরানের আইনি বিধানের সুবিধা নিতে যাচ্ছেন৷ ইরানের পুলিশ একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে যত হত্যা হয় তার ৪৫ ভাগই পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা৷

‘সম্মানই নারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ'

‘পরম্পরাগতভাবে ইরানের সমাজে নারীর সম্মানকেই সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করা হয়,'' বলেন ইরানের সাংবাদিক মাহরোখ গোলামহোসেইনপুর৷ ‘‘কোন পুরুষের স্ত্রী বা কন্যা সেই সম্মান হারালে তাকে প্রত্যাখ্যান, অপদস্থ ও সমাজ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়৷''

মাহরোখ অনেক বছর ধরে ইরানের ‘অনার কিলিং' নিয়ে কাজ করছেন৷ তিনি জানান অনেক ক্ষেত্রেই বাবা বা দাদা ‘অপরাধী' নারীর একজন ভাই বা চাচাত-মামাত ভাইকে হত্যার দায়িত্ব দেন৷ হত্যার পর আদেশকারী ব্যক্তি নিজের ওপর দায়িত্ব নেন বা হত্যাকারীকে ক্ষমা করেন৷

‘‘বেশিরভাগ অনার কিলিংয়ে বাদী বা বাদীর পরিবার কোন অভিযোগ করে না৷ আর বিষয়টি খুব দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হয়,'' বলেন মাহরোখ৷ তবে রোমিনার ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডে পরিণত হত না যদি তারা কোন বড় শহরে থাকতেন, বলে জানান যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী এই ইরানি সাংবাদিক৷

সংস্কারের বিরোধিতা

রোমিনার ঘটনা ইরানের সমাজকে আবারো নাড়া দিয়েছে৷ শুধু ইন্টারনেট নয়, সব পত্রপত্রিকাও বিষয়টি কাভার করেছে৷ প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার মন্ত্রিসভাকে এমন হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন৷

কিন্তু প্রেসিডেন্টও জানেন, সমাজের রক্ষণশীল অংশ এর প্রতিবাদ করবে৷ তাদের যুক্তি, এমন আইনের মাধ্যমে পশ্চিমা মূল্যবোধের আগ্রসন হবে যা ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থি৷

দেশটির উইমেন্স সোশ্যাল ও কালচারাল কাউন্সিল (ডাব্লিউএসসিসি)-র সদস্য কোবরা চাসালি এই যুক্তির সমর্থক৷ তিনি মনে করেন, রোমেনার হত্যার জন্য ইসলামী মূল্যবোধ ও আইনকে দায়ী করা যাবে না৷ বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডাকে দায়ী করতে হবে যেখানে নারীপুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে৷

ডাব্লইএসসিসি সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আল খামেনির কাছে জবাবদিহি করে৷ গত ৩৫ বছর ধরে তারা যেসব কাজকে ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিচায়ক মনে করে, ইরানের সংস্কৃতিতে সেগুলো সমুন্নত রাখার কাজ করে যাচ্ছে৷ এর মধ্যে জাতিসংঘের কয়েকটি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে, যেমন যৌন শিক্ষা কিংবা সমাজে ছেলেমেয়ের সমতা৷

রক্ষণশীলদের মতে, মেয়েদের যত কম বয়সে সম্ভব বিয়ে দিয়ে দিলে ‘অনার কিলিং' বন্ধ হবে৷

শবনম ফন হাইন/জেডএ

২০১৬ সালের ছবিঘরটি দেখুন৷ কিছু কি বদলেছে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন