পায়ে হেঁটে জার্মানি ঘুরে অসাধারণ তথ্যচিত্র | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পায়ে হেঁটে জার্মানি ঘুরে অসাধারণ তথ্যচিত্র

ছয় মাস ধরে পায়ে হেঁটে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করা চাট্টিখানির কথা নয়৷ এক তথ্যচিত্র নির্মাতা এভাবে গোটা জার্মানি চষে বেড়িয়ে অপরূপ নিসর্গ ও আবেগের নানা মুহূর্ত তুলে ধরেছেন৷

জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যের ‘স্যাক্সন সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত অঞ্চলে পাহাড়ের অদ্ভুত আকার-আয়তন ও বন্য উপত্যকা নজর কাড়ার মতো৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলে চেক প্রজাতন্ত্রের সীমান্তে এলবে নদীর যাত্রাপথে বেলেপাথরের এই পর্বতমালা ট্রেকারদের স্বর্গ হিসেবে আকর্ষণীয়৷ তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে এনো সাইফ্রিড সেই অঞ্চল সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘‘দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে আমি ট্রেকিং করতে খুব ভালোবাসি৷ এলবে নদীর যাত্রাপথে স্যান্ডস্টোন মাউন্টেনস আমার কাছে সত্যি অনন্য, কারণ বাস্তবে জায়গাটি বেশ অবাস্তব ও রূপকথার জগতের মতো লাগে৷ আচমকা ভুঁইফোড় সূঁচের মতো টিলা চোখে পড়ে৷ আমার চোখে অন্য কোথাও এমন নিসর্গ নেই৷’’

২০১৯ সালে এনো সাইফ্রিড জার্মানির মধ্য দিয়ে ৩,৪৪২ কিলোমিটার পথে হাঁটার সময়ে এলবে স্যান্ডস্টোন পর্বতমালাও অতিক্রম করেছিলেন৷ শুধু দশ কিলো ওজনের রাকস্যাক সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায় ছয় মাস পথে কাটিয়েছেন৷ আঁকাবাঁকা পথে তিনি জার্মানির উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন৷

উত্তর সাগরের সিল্ট দ্বীপ থেকে তিনি বাল্টিক সাগরের উপকূল হয়ে স্যাক্সন সুইজারল্যান্ড ও টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের অরণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন৷ তারপর দক্ষিণে সারল্যান্ড রাজ্য হয়ে আল্পস পর্বতমালায় পৌঁছেছেন৷ এনো জানান, ‘‘যাত্রার আগে আমি বিস্তারিতভাবে রুটের পরিকল্পনা করি নি৷ মানচিত্রে পছন্দের এলাকা ও জায়গা খুঁজে নিয়েছি মাত্র৷ বেরিয়ে পড়ার পর প্রতি সপ্তাহে যাত্রাপথের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছি, কারণ আমি স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে চেয়েছিলাম৷’’

ভিডিও দেখুন 03:18

তথ্যচিত্রে জার্মানির সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার

ভ্রমণের সময়ে তিনি নিজেই নিজের ভিডিও তুলেছেন৷ নিজের তোলা ভিডিও দিয়ে তিনি ১০৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন৷ ‘পায়ে হেঁটে জার্মানি’ ছবিতে এনো সাইফ্রিড শুধু নিজের দেশের বৈচিত্র্য তুলে ধরেন নি, আবেগের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিও মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন৷ এনো সাইফ্রিড বলেন, ‘‘ভ্রমণের সময় একবারও মনে হয় নি যে হাল ছেড়ে দেবো অথবা বাসায় থাকলেই ভালো হতো৷ এই বিশাল সুযোগ সম্পর্কে আমি সব সময়ে সচেতন ছিলাম৷যেমন সন্ধ্যা হলে নির্জন প্রকৃতির কোলে একা কোথাও ঘুমানোর অভিজ্ঞতা অথবা সূর্যাস্ত উপভোগের সুযোগ তাঁর কাছে অনবদ্য৷ অবশ্যই কিছু নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও হয়েছে৷ যেমন টানা পাঁচ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে অথবা আমার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে৷ তা সত্ত্বেও বলতে হয় সে সব আসলে মোটেই নেতিবাচক নয়, কারণ শুরু থেকেই এমন আশঙ্কা সম্পর্কে আমি সচেতন ছিলাম৷’’

জার্মানির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই ভ্রমণের শেষে, অর্থাৎ ১৬৫ দিন পর এনো নিজের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছান৷ জার্মানির দক্ষিণতম প্রান্তে আল্পস পর্বতের হাল্ডেনভাঙার নামের এক জায়গায় যাত্রা শেষ হলো৷

ডরোটেয়া প্রেচ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়