পায়রা পুষতে ভুলে গেছে ঢাকার তরুণরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 26.12.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

পায়রা পুষতে ভুলে গেছে ঢাকার তরুণরা

উঁচু উঁচু দালানকোঠা যেমন নীল আকাশ আর দিগন্ত কেড়ে নিচ্ছে শহুরে মানুষদের জীবন থেকে তেমনি কেড়ে নিচ্ছে অনেক ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিও৷ ঢাকার তরুণদের কাছে পায়রা পোষা আর পায়রা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা ছিল দারুণ আকর্ষণীয় এক ব্যাপার৷

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পায়রা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা আর খুব একটা দেখা যায় না

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পায়রা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা আর খুব একটা দেখা যায় না

উঁচু উঁচু দালানকোঠা যেমন নীল আকাশ আর দিগন্ত কেড়ে নিচ্ছে শহুরে মানুষদের জীবন থেকে তেমনি কেড়ে নিচ্ছে অনেক ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিও৷ ঢাকার তরুণদের কাছে পায়রা পোষা আর পায়রা ওড়ানোর প্রতিযোগিতা ছিল দারুণ আকর্ষণীয় এক ব্যাপার৷

বর্তমানে কিন্তু উঁচু অট্টালিকায় ঢাকাপড়া ঢাকার দিগন্তে এখন আর পায়রা উড়াতে দেখা যায় না৷ ব্যতিক্রমী রুচি-অভ্যাস আর বিশেষ সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য খ্যাত ‘পুরনো ঢাকা' বা ঢাকার পুরনো অংশে একসময় খুবই জনপ্রিয় ছিল পায়রা পোষা৷ উঠতি বয়সের ছেলেদের কাছে এটা ছিল নেশার মতো৷

Stammheim: Gefängis, Fenster mit Taube

পায়রা পোষা আজ যে আর ফ্যাশন নয়

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছোটো ছোটো দোতলা-তিনতলা বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা কার্নিশে, চবুতরায় চোখ পড়লেই দেখা যেত পায়রার খোপ৷ ছাদের ওপর টিভি অ্যান্টেনার মতো করে বাঁশ বা কাঠের তৈরি পায়রা বসার মাঁচা৷

অনেক পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্যই এটা ছিল উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটা আবশ্যিক শখ৷ কিন্তু এখন অন্য অনেক কিছু নিয়ে ব্যস্তসমেস্ত হাল জামানার ঢাকাইয়া তরুণরা এখন আর পায়রা পোষে না৷ ঐতিহ্যবাহী এই ‘হবি' এখন ‘আউট অফ ফ্যাশন'৷

দীর্ঘদিন ধরে পায়রা পোষার সঙ্গে যুক্ত পেশাদাররা বলছেন, অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কৃতির বিকাশ এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য বহুলাংশে দায়ি৷ আর সমতলের ফাঁকা জমি তো উঁচু উঁচু দালানে আকাশ গিলে খাওয়ার আগেই শেষ৷ ফলে পায়রা পোষার জায়গা কোথায়৷ আর কেউ যদি বা তা পোষেও তো সেই পায়রা উড়বে কোথায় ?

Tara Masjid, Moschee in Dhaka, Bangladesch

মসজিদ চত্ত্বরগুলো অবশ্য এখনও পায়রাদের জন্য নিরাপদ আস্তানা

ঘুড়ি কাটাকাটির মতো এ মহল্লা ও মহল্লার ছেলেদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে আকাশে বারবার চক্কর খেয়ে গিরিবাজ, টাট্টু আরও সব বাহারি নামের পায়রা খেলা দেখাবে কোথায় ? ওই রকম খোলা আকাশও নেই, নেই পায়রার খেলা দেখতে জড়ো হওয়া আশপাশের তিন মহল্লার ছাদে উৎসুক এলাকাবাসীর বৈকালিক আড্ডাও৷ সেই সময় বা জায়গা কোথায়৷

এভাবেই বিলুপ্ত হতে বসা পায়রা পোষার সংস্কৃতির নিয়ে আফসোস করছিলেন পুরনো ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকি৷ তিনি বলেন, ‘‘সত্যিকার অর্থেই পায়রা পোষাটা ছিল আমাদের সংস্কৃতির গভীরে শেকড় গাঁড়া খুবই দারুণ একটা অধ্যায়৷''

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত নগরী ঢাকায় এখনও যাদের বাড়িতে এক টুকরো উঠোন আছে মোহাম্মদ জাকি সেই বিরল ভাগ্যবানদের একজন৷ উঠোনে চড়ে বেড়ানো পায়রার দিকে তাকিয়ে জাকি বলছিলেন, ‘‘পায়রাদের মাটিতে এবং আকাশে জায়গা দরকার৷ কিন্তু এ শহরে এখন জায়গাই নেই৷ এই পাখিদের এখন উড়ে এসে বসার জায়গা নেই ঘুরেফিরে খাওয়ার জায়গা নেই৷ ঢাকায় বহুতল দালান নির্মাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পায়রা পোষাও বিলুপ্ত হতে বসেছে৷''

Taube auf Stacheldrahtzaun

একাকী এই পায়রাটা কী ভাবছে ?

কিন্তু এই দু'এক দশক আগেও এই অবস্থা চিন্তাও করা যেত না৷ পুরনো ঢাকার পায়রার বাজারটা তখনো অনেক জমজমাট ছিল৷ ওই বাজার এখনও টিকে থাকলেও দোকান আর পায়রার সংখ্যা কমেছে ক্রেতার সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গেই৷

ঢাকাইয়ারা প্রথাগতভাবে দুই ধরণের পায়রা পুষতো৷ এমনিতেই খাওয়ার জন্য বাড়িতে বাড়িতে পালা হতো ‘গোল্লা'৷ আর তরুণরা গিরিবাজ, টাট্টু এসব পালতো খেলা দেখানো প্রতিযোগিতার জন্য৷ তিনি বলেন, ‘‘এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ এ বিষয়ে তরুণদের আগ্রহ কমে যাওয়া৷ কারণ এখন তাদের জন্য অন্য অনেক বিনোদন আছে৷ তারা সেসব নিয়েই ব্যস্ত৷''

জাকি বলেন, ‘‘মাঝে মধ্যেই লোকে আমাকে পায়রা পাগল বলে খেপায়৷ কিন্তু এটা আমার শখ৷ পাখিগুলোর সঙ্গ আমার ভাল লাগে এবং এটা অন্য অনেক প্রাণী পোষার মতো ব্যয়বহুলও না৷''

প্রতিবেদন : মুনীর উদ্দিন আহমেদ, সম্পাদনা : আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন