পাহাড়ে হত্যা, অপহরণের নেপথ্যে কী? | বিশ্ব | DW | 20.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

পাহাড়ে হত্যা, অপহরণের নেপথ্যে কী?

অপহরণের দুইদিন পরও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলকার দুই নারী নেত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি৷ এ অপহরণের ঘটনায় পাহাড়ি সংগঠনগুলো পরস্পরকে দোষারোপ করছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়েছে৷

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়া সোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে গত রোববার সকালে কুতুকছড়ি এলাকা থেকে অপহরণকরা হয়৷ এ  ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২১ মার্চ) খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত তিনটি পাহাড়ি সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন৷

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা সভাপতি রূপসী চাকমা ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘মুখোশ বাহিনী (ইউপিডিএফ-গণতন্ত্র) নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাঁদের অপহরণ করেছে৷ অপহৃতদের এখনো কোনো খোঁজ পওয়া যায়নি৷''

রবিবার দুপুরে দুই নারী নেত্রীকে অপহরণের পর  ইউপিডিএফের রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা ও বিকেলে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা আলাদা আলাদা বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকার গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা ধর্ম সিং চাকমার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় নব্য মুখোশ বাহিনীর সস্ত্রাসীরা৷ সন্ত্রাসীরা গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পিসিপি'র দুই নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে৷ এতে যুব ফোরামের রাঙ্গামাটি জেলা আহ্বায়ক ধর্মশিং চাকমা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন৷ মুখোশ বাহিনীর সস্ত্রাসীরা এসময় ছাত্রদের একটি মেসে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ ভয়ে সবাই পালিয়ে গেলে দৃর্বৃত্তরা দুই নারীকে অপহরণ করে৷

অডিও শুনুন 01:37
এখন লাইভ
01:37 মিনিট

‘মুখোশ বাহিনী নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাঁদের অপহরণ করেছে’

ইউপিডিএফ ভেঙ্গে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ইউপিডিএফ গণততন্ত্র নামে আলাদা সংগঠন করা হয় তপন জ্যোতি চাকমা'র নেতৃত্বে৷ সেই থেকে দুই ভাগে বিভক্ত সংগঠনের নেতারা পরস্পরকে ‘সরকারের দালাল' এবং ‘সন্ত্রাসী' বলে আখ্যা দিয়ে আসছে৷

ইউপিডিএফ (গণতন্ত্র) মূখমাত্র তপন জ্যোতি চাকমা  ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ওই দুই নারী নেত্রীকে অপহরণের সঙ্গে আমরা কোনোভবেই জড়িত না৷ তারা নিজেরাই জানে, ওই দুই নারী কোথায় আছেন৷ তা না হলে তারা কিভাকে জানেন যে, তাদের বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে৷ তাদের নেতারা বলছেন আমরা মুক্তিপণ দাবি করছি৷ আমার প্রশ্ন, আমরা কোথায় কত টাকা মুক্তিপন দাবি করেছি তার প্রমাণ কী?''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আসলে তারা এখন আন্দোলন করে, অবরোধ করে রাজনীতি করতে চাইছে৷ তাই এ ধরনের কথা বলছে৷ তারা নিজেরা সব জানে৷''

মূল ইউপিডিএফ-এর সহযোগী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন দুই নারীনেত্রীকে অপহরণের জন্য সরাসরি ইউপিডিএফ-এর বের হয়ে যাওয়া অংশকে দায়ী করলেও ইউপিডিএফ-এর সংগঠক মাইকেল চাকমা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারি বাহিনীর সহযোগিতায় সন্ত্রাসীরা হাটের দিন সকালে কুদুকছড়িতে হামলা চালায় এবং দু'জন নারীকে অপহরণ করে৷''

অডিও শুনুন 02:07
এখন লাইভ
02:07 মিনিট

‘আসলে তারা রাজনীতি করতে চাইছে, তাই এ ধরনের কথা বলছে’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ইউপিডিএফ-গণতন্ত্র নামের কোনো সংগঠনের কার্যক্রম নাই৷ তাদের কোনো অস্তিত্ব নাই৷ কিছু সন্ত্রাসী সরকারের দালাল হিসেবে কাজ করে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের বিরুদ্ধে  অবস্থান নিচ্ছে৷''

পাহাড়ে থেমে নেই অপহরণ, গুম, খুন ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা৷ দিন দিন এসব বেড়ে যাওয়ার কারনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কর্মী, নারী নেত্রীসহ সাধারণ মানুষ৷ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নিজেদের অন্তঃকোন্দলের শিকার হচ্ছেন পাহাড়ের মানুষ৷ আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজি এবং এলাকা বিস্তারের কারণে কিছু দিন পরপর খুন, গুম ও  অপহরণের ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনায় রূপান্তরিত হয়েছে৷

পাহাড়ে এখন পাহাড়িদের সংগঠনগুলো দুইভাগে বিভক্ত৷ শান্তি চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষের কথা বলেই এই বিভক্তি৷ ফলে পাহাড়ে অপহরণ, গুম, খুন ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ অভিযোগ আছে, আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজি এবং এলাকায়  প্রভাব বিস্তার নিয়ে কিছু দিন পরপর খুন, গুম ও  অপহরনের ঘটনা ঘটছে৷

অডিও শুনুন 03:20
এখন লাইভ
03:20 মিনিট

‘সরকারি বাহিনীর সহযোগিতায় সন্ত্রাসীরা দু'জন নারীকে অপহরণ করে’

শান্তিচুক্তির  পক্ষ-বিপক্ষ ইস্যুতে ২০০৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা ) নামের আরেকটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে৷

পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের দাবিতে গঠিত ইউপিডিএফ গত বছরের নভেম্বরে দুই ভাগ হয়ে যায়৷ তাই পাহাড়ে এখন চারটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন সক্রিয়৷ তারা আবার পরস্পরের প্রতিপক্ষ৷

এদিকে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়া দুই নারীকে অপহরণের বিষয়ে বলেন, ‘‘এখন  পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অপহরণের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি৷ তবে আমরা মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি৷ দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনায় সময় লাগছে৷''

ইউপিডিএফ-এর দুই গ্রুপের নেতারাই ডয়চে ভেলের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন৷তাঁদের  কথায় স্পষ্ট যে, গত কয়েক বছরে তাঁদের কোন্দলে হামলা, অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে৷

অডিও শুনুন 01:11
এখন লাইভ
01:11 মিনিট

‘পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিভক্তির প্রধান কারণ আর্থিক’

রাঙামাটির সাংবাদিক জিয়াউল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিভক্তির প্রধান কারণ আর্থিক৷ আর সে কারণেই তারা এলকাভিত্তিক আধিপত্য বাড়াতে চায়৷ আর এই অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করেই হত্যা, অপহরণ বা হামলার ঘটনার একাংশ ঘটে৷''

তবে তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘তাদের কোন্দলের সুযোগও নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ তারা বলে, দুর্গম এলাকার এসব ঘটনায় আমাদের কিছু করার থাকে না৷'' ইউপিডিএফ-এর সংগঠক মাইকেল চাকমা দাবি করেন, ‘‘পাহাড়িদের আন্দোলন দমাতে সরকারের নানা সংস্থা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে৷ তাদের ছত্রছায়ায় হামলা, অপহরণসহ নানা ঘটনা ঘটে৷ আমরা দুই নারীকে অপহরণের ঘটনা পুলিশকে জানালেও পুলিশ তাঁদের উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়