পাহাড়ে পয়লা বৈশাখ যেমন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.04.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পাহাড়ে পয়লা বৈশাখ যেমন

পয়লা বৈশাখ আবহমান বাঙালি জনগোষ্ঠীর এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব৷ এই দিনে কিন্তু বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষ, বৃহত্তর সিলেট জেলার মণিপুরি জনগোষ্ঠীও উৎসব আনন্দে মেতে ওঠেন৷

default

বাংলা বর্ষবরণে বাঙালীদের মত পাহাড়িরাও মেতে ওঠে আনন্দ উৎসবে

নতুন বছরকে বরণ করতে এবং বৈশাখ মাসকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় শুরু হয়েছে বৈসাবি উৎসব৷ চলছে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান৷ চারিদিকে আনন্দমেলা৷

চাকমা জাতিগোষ্ঠী এই উৎসবকে ডাকে বিজু নামে, ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসুক এবং মারমারা বলে সাংগ্রাই, তংচঙ্গ্যাদের ভাষায় বিসু এবং অহমিয়াদের ভাষায় বিহু৷ সব মিলিয়ে ‘বৈসাবি৷

খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি আর বান্দরবানে মূলত চাকমা, মারমা, ম্রো-মুরং, তঞ্চ্যঙ্গা, বোম, খিয়াং, পাংখোয়া, লুসাই, ত্রিপুরা, খুমী, চাক জনগোষ্ঠীর বাস৷ বাংলা বছরের শেষ দুদিন থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত এখানকার প্রতিটি জনগোষ্ঠী বেশ ঘটা করে নিজস্ব ভঙ্গি ও রীতিতেই বর্ষবিদায় এবং বর্ষবরণ করে৷ গত সোমবার থেকে পার্বত্য এলাকায় শুরু হয়েছে বৈসাবি উৎসব৷ ১লা বৈশাখ মূল অনুষ্ঠান৷ এই উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ৷ পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব এটি৷

উৎসবকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী খেলাধুলার৷ সেখানে অনুষ্ঠিত হয় কাবাডি, খো খো, বলি খেলা, তুমরু খেলা৷ কিন্তু এইবার অনুষ্ঠানমালায় পাহাড়ে সম্প্রতিক সহিংসতা, আর্থিক সংকট এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বৈসাবি অনুষ্ঠান অনেকটা সংক্ষিপ্ত করে আনা হয়েছে বলেই খবর৷

তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিনটিকে চাকমা ভাষায় বলা হয় ফুল বিজু, দ্বিতীয় দিনকে ‘মূল বিজু' এবং তৃতীয় দিনকে ‘নুয়াবঝর' বা ‘গোজ্যা পোজ্যা দিন৷ ত্রিপুরা গোষ্ঠী এই উৎসবের প্রথম দিনকে ‘হারিকুইসুক' দ্বিতীয় দিনকে ‘বুইসুকমা' এবং তৃতীয় দিনকে ‘বিসিকাতাল' নামেই ডাকে৷

এদিকে, বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখ তথা ১৪ এপ্রিল মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডেও পালিত হচ্ছে এই উৎসব৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল- ফারূক