পাহাড় যখন সাগর ছিল (১) | অন্বেষণ | DW | 05.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পাহাড় যখন সাগর ছিল (১)

আফ্রিকা আর ইউরোপ মহাদেশের ধাক্কা থেকে আল্পস পর্বতমালা জন্ম নিয়েছে৷ সাগরের গভীর থেকে উঠে আসা এই পাহাড়ের মাথায় আজও প্রবাল ও শামুক থেকে শুরু করে মাছের আঁশ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়৷

মিউনিখ শহরের দক্ষিণে ব্রাউনেক পাহাড়টিকে দেখলে প্রথমে বিশেষ কিছু বলে মনে হবে না৷ কিন্তু বলতে কি, এই পাহাড়টি একটি টাইম মেশিন – এর সাহায্যে বিশ কোটি বছর আগের অতীতে ফিরে যাওয়া যায়!

মার্টিন নোজে ও আলেক্সান্ডার ন্যুটসেল প্রায়ই তা করে থাকেন – কেননা এক হিসেবে টাইম ট্র্যাভেল তাঁদের পেশা৷ তথাকথিত ‘চুনাপাথরের আল্পস'-এ তাঁরা জীবাশ্মের খোঁজ করেন৷ ডাইনোসরের ফসিল নয়, এককালে এখানে যে সাগর ছিল, সেই সাগরের বাসিন্দাদের ফসিল৷

মিউনিখের লুডভিশ মাক্সিমিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ অধ্যাপক আলেক্সান্ডার ন্যুটসেল বললেন, ‘‘আমরা এখানে মেসোজোয়িক যুগের টেথিস বা নিওটেথিস সাগরের অবশিষ্ট দেখছি৷ এটা একটা প্রবালের গুঁড়ি৷ প্রবালের শাখাগুলো লম্বালম্বিভাবে, আবার আড়াআড়ি করেও দেখা যাচ্ছে৷ সম্ভবত এখানে কয়েক মিটার ব্যাসের একটি শৈলশিরা ছিল৷''

‘ আল্পস' পর্বতমালার প্রতিটি পাথর বাস্তবিক প্রবাল ও শ্যাওলার জীবাশ্ম থেকে সৃষ্টি হয়েছে – কেননা, প্রবাল ছাড়া তথাকথিত অতি ক্ষুদ্র শৈবালও চুন সৃষ্টি করতে পারে৷ সেই চুন লক্ষ কোটি বছর ধরে সমুদ্রবক্ষে জমা হয়ে তিন কিলোমিটার পুরু একটি স্তর সৃষ্টি করেছে৷

দুই মহাদেশের টক্কর

দশ কোটি বছর আগে আফ্রিকা যখন ইউরোপের দিকে আসতে শুরু করে,  তখন সাগরের নীচে ভূপৃষ্ঠ ভেঙে আফ্রিকার নীচে ঢুকে যায়৷ শেষমেষ আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপের ধাক্কা লাগে ও দুই মহাদেশের মধ্যে ৬,০০০ মিটার উঁচু একটি ভাঁজ সৃষ্টি হয়, যা কিনা আজকের আল্পস, যদিও কোটি কোটি বছরের ঝড়-বাতাসে তার উচ্চতা অনেক কমে গেছে৷ কিন্তু দুই মহাদেশের ধাক্কা তো এখনও শেষ হয়নি৷ আজকের ভাষায়, অতি স্লো মোশনে আজও চলেছে – যার চাপে আল্পস কোনো এক সময় আবার বাড়তে শুরু করেছে৷

আল্পস বাড়ছে বলে টেথিস সাগরের আদি বাসিন্দারাও ধীরে ধীরে আরো উঁচুতে উঠে আসছে৷ ব্রাউনেক পাহাড়ের কাদামাখা হাঁটাপথ দেখলেও সুদূর অতীতের অনেক ছবি ফুটে ওঠে৷

মিউনিখের লুডভিশ মাক্সিমিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ অধ্যাপক আলেক্সান্ডার ন্যুটসেল বললেন, ‘‘এখানে সব কিছু ফসিলে ভর্তি৷ সর্বত্র ঝিনুক পড়ে রয়েছে, অসংখ্য ঝিনুক৷ বেশ বড় বড় ঝিনুক৷ এখানে যেসব পাথরকুচি পড়ে রয়েছে, তাদের অনেকগুলোই ঝিনুকের টুকরো৷''

বোধহয় কোটি কোটি বছর আগের কোনো ঝড়ে এত বেশি ঝিনুক মারা পড়েছিল৷ কয় কোটি বছর, তা-ও গবেষকরা ঝিনুকের ফসিল দেখে বলে দিতে পারেন৷ এই অ্যামোনাইট সেফালোপডগুলো সম্ভবত বিশ কোটি চল্লিশ লাখ থেকে বিশ কোটি বছর আগে বেঁচে ছিল৷

আরো ওপরে পথের ধারে জীবাশ্মবিদদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেকটি চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার! মাটিতে অসংখ্য ছোট ছোট শামুক, এমন সব শামুক, যা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লেখা হয়নি৷ তার ঠিক পাশেই আবার মাছের আঁশ... সুদূর অতীতের শৈলশিরায় দৃশ্যত জীবনের কোনো অভাব ছিল না৷

হ্যারব্যার্ট  হাকল/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক