পারলো না ইরান, শেষ ষোলতে স্পেন-পর্তুগাল | খেলাধুলা | DW | 25.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফুটবল

পারলো না ইরান, শেষ ষোলতে স্পেন-পর্তুগাল

গ্রুপ বি যেনো শেষ ম্যাচের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল সমস্ত উত্তেজনা৷ মরডোভিয়ায় পর্তুগাল-ইরান, কালিনিনগ্রাদে স্পেন-মরক্কো দেখলো মাঠের স্নায়ুযুদ্ধও৷

গ্রুপ এ ও গ্রুপ বির খেলা শেষ হওয়ায় নিশ্চিত হয়েছে শেষ ষোলোর দু'টো ম্যাচ৷ শেষ ষোলতে ৩০ জুন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল, ১ জুলাই স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন৷

পর্তুগাল-ইরান

ড্র করলেও চলতো পর্তুগালের৷ কিন্তু শেষ ষোলতে যেতে জয়ই প্রয়োজন ছিল ইরানের৷ ফলে শেষ দিকের পেনাল্টিতে পর্তুগালের সাথে ড্র করেও বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো এশিয়ার দেশটির৷

ম্যাচের ৭৪ শতাংশ সময়ই বল ছিল পর্তুগালের দখলে৷ ম্যাচ শুরু দিকে কয়েকবার আক্রমণে গেলেও, এরপর থেকে চিরাচরিত রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় চলে যায় ইরান৷

প্রথমার্ধে আরেকটু হলেও কাজে লেগে যাচ্ছিল ইরানের রক্ষণ নীতি৷ কিন্তু শেষরক্ষা ইরানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেননি পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রিকার্ডো কোয়ারেসমা৷

১৮ গজ দূর থেকে ইরানি ডিবক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক শট করেন কোয়ারেসমা৷ ডিফেন্ডার ও গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে গোলপোস্টের কোনা দিয়ে বল ঢুকে যায় জালে৷ ডানে ঝাঁপিয়ে পড়লেও বল স্পর্শও করতে পারেননি গোলকিপার আলিরেজা বাইরানভারলদ৷

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ পেয়েও বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোল করতে পারলেন না রোনাল্ডো৷ ৫০ মিনিটে ডিবক্সের ঠিক ভেতরে রোনালদো ফাউলের শিকার হলে ভিএআর প্রযুক্তি দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান রেফারি৷

রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোয় হলুদ কার্ড দেখতে হয় ইরানের এহসান হাজসাফিকে৷ পেনাল্টি নিতে নিজেই ডিবক্সে আসেন রোনাল্ডো৷ কিন্তু বলে গতি থাকলেও, তা যায় সোজা ইরানের গোলরক্ষকের হাতে৷

বিপজ্জনকভাবে ফাউল করায় বল দখলে মরিয়া রোনাল্ডোকে ৮৩ মিনিটে দেখতে হয় হলুদ কার্ড৷

মরিয়া ছিলো ইরান৷ সে সুযোগে করা এক আক্রমণে ডিবক্সে পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলে পেনাল্টির আবেদনে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি৷ সিদ্ধান্ত আসে ইরানের পক্ষেই৷

অতিরিক্ত সময়ে ৯৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে খেলায় সমতা ফেরান করিম আনসারিফার্দ৷

স্পেন-মরক্কো

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগেই৷ কিন্তু মাঠে কোনো কমতি রাখলেন না মরোক্কোর খেলোয়াড়রা৷ শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে দু'বার এগিয়ে থেকেও ম্যাচ শেষ করলো ২-২ সমতায়৷

স্পেনের খেলোয়াড়রাই বল দখলে রাখলেন বেশিরভাগ সময়, প্রায় ৭৫ ভাগ৷ কিন্তু বাকি যে ২৫ ভাগ সময় বল নিয়ন্ত্রণে পেয়েছেন মরোক্কোর খেলোয়াড়েরা, তাতেই ১৪ মিনিটে প্রথম গোল যোগ হয় আফ্রিকার এই দেশের স্কোরে৷

দুই স্পেনিশ ডিফেন্ডার ইনিয়েস্তা এবং রামোসের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে যান মরোক্কোর খালিদ বোতাইব৷ পিকে পেছনে পেছন দৌঁড়ালেও আটকাতে পারেননি বোতাইবকে৷ নিখুঁত শটে গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে স্কোর পরিণত করেন ০-১ এ৷

মরিয়া স্পেন ৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে ফেরায় সমতা৷ ডিবক্সের মধ্যে অসাধারণ দ্রুতগতির পাস এবং উপস্থিতবুদ্ধির সমন্বয় দেখান ইনিয়েস্তা ও ইসকো৷

ম্যাচের তখন ১৯ মিনিট৷ ডিবক্সের ভেতরে গোলপোস্টের দিকে বল নিয়ে দৌঁড়ে গিয়ে শট নেয়ার সময় ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল ঠেলে দেন পেছনে থাকা ইসকোর দিকে৷ বল পেয়ে দ্রুতগতির শটে স্কোর করেন ১-১৷

দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় দুই দলই৷ ৬১ মিনিটে ইসকোর দারুণ একটি হেড গোলকিপারকে ফাঁকি দিলেও গোললাইন পেরোনোর মুহূর্তে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান ডিফেন্ডার৷

৮১ মিনিটে আবার আফ্রিকান ঝলক৷ কর্নার থেকে ফজরের দারুণ প্লেসমেন্ট৷ লাফিয়ে যে দুর্দান্ত হেডটি করলেন ইউসেফ এন-নেসিরি, তাতে গোলকিপারের করার ছিলো না কিছুই৷ ম্যাচ তখন ১-২৷

অতিরিক্ত সময়ে ৯১ মিনিটে গোল করে শেষ পর্যন্ত মরোক্কোর কাছে হার ঠেকান স্পেনের ইয়াগোস আসপাস৷ তবে সাইড রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে থেমে যায় খেলা৷ কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গোলেরই সিদ্ধান্ত জানান রেফারি৷ ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়