পানীয় জলের দূষণ দূর করতে অভিনব প্রক্রিয়া | অন্বেষণ | DW | 10.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পানীয় জলের দূষণ দূর করতে অভিনব প্রক্রিয়া

পানীয় জলে দূষণ বিশ্বের নানা প্রান্তেই বড় সমস্যা৷ জার্মানির মতো শিল্পোন্নত দেশে কলের পানি পান করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না৷ সেই ঝুঁকি এড়াতে বিজ্ঞানীরা নতুন প্রক্রিয়ার খোঁজ করছেন৷

জার্মানির দক্ষিণে সুন্দর, রোমান্টিক পরিবেশ৷ ছোট্ট নদী বয়ে যাচ্ছে৷ শহরের পরিশোধন কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত পানি সেই নদীতে গিয়ে পড়ে৷ খালি চোখে দেখলে পানি পরিষ্কার মনে হয়৷ কিন্তু বাস্তবে তা ঠিক নয়৷ পানিতে ওষুধের অবশিষ্ট অংশ পাওয়া গেছে৷ যেমন ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ৷

জার্মানির অনেক নদীতে ডিক্লোফেনাক নামের ব্যথা কমানোর ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত চিহ্ন পাওয়া যায়৷ অথচ নদী থেকেই পানীয় জল সরবরাহ করা হয়৷ রাজ্য পরিবেশ দপ্তরের পানি রসায়নবিদরা অবশ্য শুধু সে কারণেই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন না৷ পানি রসায়নবিদ ড. ভ্যার্নার রাইফেনহয়সার এ বিষয়ে বলেন, ‘‘আমাদের নিজস্ব গবেষণার ফল অনুযায়ী সামান্য পরিমাণ ডিক্লোফেনাকও পানির জীবজগতের উপর প্রভাব ফেলে৷ যেমন, ট্রাউট মাছের ফুলকা ও কিডনিতে পরিবর্তন দেখা যায়৷ অন্যদিকে, হরমোনের দিকেও আমরা নজর রাখছি৷ জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি কিছু ক্ষেত্রে, এমনকি শুধু নারী জীবের জন্ম ঘটায়৷ তাই প্রতিরোধক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা পানীয় জলে এই সব পদার্থ চাই না৷''

তাই এক পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবিজ্ঞানীদের একটি দল বাভেরিয়ারভাইসেনবুর্গ শহরের পরিশোধানাগারে নর্দমার বর্জ্য পানি থেকে ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ছেঁকে ফেলার চেষ্টা করছেন৷ পরিবেশবিজ্ঞানী সাশা ব়্যোডেল বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে ওষুধের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়, যেমন স্থিতিশীলতা৷ দীর্ঘকাল কার্যকর থাকাও জরুরি৷ ওষুধকে শরীরের নির্ধারিত অংশে পৌঁছাতে হয়৷ এনজাইমের প্রভাবের মুখেও ওষুধকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয়৷''

কিন্তু সেই স্থিতিশীলতার কারণেই আবার শরীর ওষুধ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না৷ মূত্রের মাধ্যমে তা আবার বেরিয়ে যায়৷ ব্যথার ওষুধ ডিক্লোফেনাকের প্রায় ৭০ শতাংশই শরীর ত্যাগ করে৷ মলম ও জেল জাতীয় ওষুধের অবশিষ্ট অংশ স্নানের সময় শরীর থেকে বেরিয়ে বর্জ্য পানিতে মিশে যায়৷ ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে শোধনাগারে নিজস্ব এক চুল্লি তৈরি করা হয়েছে৷

তারপর বর্জ্য পানির উপর ওজন গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে৷ জীবাণু মেরে ফেলতে এই প্রক্রিয়া বেশ উপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে৷ ওষুধের অবশিষ্ট অংশ ভেঙে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছে৷ ওজন নিক্ষেপের পর বর্জ্য পানীয়র নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল যাচাই করা হয়েছে৷ রাজ্য পরিবেশ দপ্তরের কর্মীরা অত্যন্ত নিপুণভাবে সেই নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন৷

যেমন এক হরমোন পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে যে, ওজন প্রক্রিয়ার অভাবে নমুনার রং লালচে কমলা হয়ে ওঠে৷ ওজন নিক্ষেপ করলে রংয়ের কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না৷ ড. ভ্যার্নার রাইফেনহয়সার বলেন, ‘‘হরমোনের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট৷ ওজন নিক্ষেপ করার পর কার্যত কিছুই পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু অন্য কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে তা বলা চলে না, যদিও কিছু সাফল্য এসেছে৷ যেমন, ডিক্লোফেনাকের ৯০ শতাংশ, কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়৷ অবশ্যই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছি না৷ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ধ্বংস হয় না৷ তাছাড়া এর ফলে কিছু গোলমেলে পদার্থও সৃষ্টি হতে পারে৷''

এর অর্থ, ওজোনেশন প্রক্রিয়া এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়৷ তাই ভাইসেনবুর্গ শোধনাগারে বিশেষজ্ঞদের দল দুটি ফিল্টার প্রণালী পরীক্ষা করছেন৷ একটি প্রণালীতে বালু ও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পানি শোধন করা হয়৷ অন্যটিতে গ্র্যানুলার অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ব্যবহার করা হয়৷ প্রাথমিক পরীক্ষায় এই ফিল্টার প্রথমটির তুলনায় বেশি কার্যকর হয়েছিল৷

এর কারণ হলো, ওষুধের অবশিষ্ট অংশ কার্বনের উপর আঠার মতো আটকে যায়৷ তবে এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কমপক্ষে ২ বছরের মধ্যে অ্যাকটিভ কার্বন ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে৷ তখন সেগুলি বদলে ফেলে সাফাই করতে হয়৷ সেই কাজ বেশ শ্রম ও ব্যয়সাপেক্ষ৷

গবেষকরা তাই নতুন এক ধরনের গ্র্যানুলার অ্যাক্টিভেটেড কার্বন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশাল প্রত্যাশা দেখাচ্ছেন৷ সেক্ষেত্রে প্রকৃতিও সাহায্য করে৷ সাশা ব়্যোডেল বলেন, ‘‘এই গ্র্যানুলার অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের বিশেষত্ব হলো, বহু ব্যবহারের ফলে তার কার্যকারিতা শেষ হলে তার উপর একটি জৈব স্তর সৃষ্টি হয়৷ তার মধ্যে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোঅরগ্যানিজম অবশিষ্ট পদার্থ ভেঙে ফেলে৷ ফলে কার্বন নিজেই নিজেকে পরিশোধন করে৷ এর অর্থনৈতিক সুবিধা হলো, ফিল্টারের মধ্যেই অনেককাল ধরে কার্বন রেখে দেওয়া যায়৷ ফলে পরিশোধন প্রক্রিয়ার ব্যয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়৷''

২০১৭ সালে গোটা বিশ্বে প্রায় ৭৯ হাজার কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ কেনা হয়েছিল, যা তার এক দশক আগের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলার বেশি৷

পানি থেকে জীবাণু ও ওষুধের অবশিষ্ট পদার্থ দূর করার সুলভ প্রক্রিয়ার জন্য চাপ বাড়ছে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই৷ কারণ, অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের উপর জৈব স্তর সৃষ্টি হতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে৷ এই প্রক্রিয়া বড় আকারের প্ল্যান্টেও প্রয়োগ করা যায় কিনা, তখনই সেটা বোঝা যাবে৷

সাবিনে ফ্র্যুবুস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন