‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ধ্বংস করার কারণেই এত জলজট’ | আলাপ | DW | 04.07.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ধ্বংস করার কারণেই এত জলজট’

জলাবদ্ধতা মানেই চরম জনদুর্ভোগ৷ কেন এই দুর্ভোগ? ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিন এ খান মনে করেন, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থাটা ধংস করার কারণেই এই অবস্থা৷

ডয়চে ভেলে : বৃষ্টি হলেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়৷ এই জলাবদ্ধতা দূর করতে কতটা সফল হয়েছেন আপনারা?

ইঞ্জিনিয়ার তাসকিন এ খান : আমরা আসলে শব্দটা ‘জলাবদ্ধতা' বলি না৷ আমরা এটাকে বলি ‘জলজট'৷ যেমন, রাস্তায় যানজট তৈরি হয়, তেমনি বৃষ্টি হলে নগরীতে জলজট তৈরি হয়৷ আসলে জলাবদ্ধতা হলো যে জলটা বের হতে পারে না৷ আবদ্ধ জায়গায় থাকে৷ কিন্তু রাজধানীতে জলটা একটু দেরি হলেও কিন্তু বের হয়ে যায়৷ তাই এটাকে আমরা বলি জলজট৷ এখন আমাদের দেখতে হবে জলজটটা হচ্ছে কেন? এর মূল কারণে যদি যেতে হয়, তাহলে একটু পেছনে যেতে হবে৷ আমাদের যে পানি ব্যবস্থাপনা, সেটার মধ্যেই একটা ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে৷ আমাদের ঢাকার জন্য যে ব্যবস্থাপনা, সেটাকে কর্ডন অ্যাপ্রোচ বলা হয়৷ এক সময় বলা হলো, আমাদের ঢাকার চারপাশে যে খালগুলো আছে, সেগুলোর উপর দিয়ে যদি আমরা বক্স কালভার্ট করি, তাহলে নিচ দিয়ে পানি যাবে এবং উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে৷ এটা আসলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল৷ এটা করে আমরা স্বাভাবিক যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল সেটা ধ্বংস করে ফেলেছি৷ এটা আসলে কিছুটা মনুষ্য সৃষ্ট এবং কিছুটা প্রয়োজনেই হয়েছে৷ ঢাকা একটা আনপ্ল্যানড সিটি৷ এখানে মানুষকে বসবাসের সুযোগ দিতে গিয়ে আমরা যা করেছি, তা প্রকৃতির বিরুদ্ধে গেছে৷

অডিও শুনুন 12:01

‘‘আমরা ন্যাচারাল ড্রেনেজ সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলেছি’’

জলাবদ্ধতা দূরীকরণে মূল সমস্যাটা কোথায়?

প্রথমত জলজটটা হচ্ছে কেন? সেটা যদি আপনি না অনুধাবন করেন, তাহলে তো সমাধান পাওয়া যাবে না৷ আগে তো আমাদের কারণ জানতে হবে৷ মূল কারণ হচ্ছে, আমাদের ঢাকা শহরে জলাধার নেই৷ বৃষ্টি হলে সেই পানিটাকে তো কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে৷ তা না হলে তো সেটা রাস্তার মধ্যে চলে আসছে৷ রাস্তা ডুবিয়ে দিচ্ছে৷ আমাদের পুকুর, ডোবা বলতে কিছু নেই৷ আমরা যদি ঢাকা শহরকে ৪০০ কিলোমিটার ধরে নিই, তাহলে দেখব এর সাড়ে ৩শ' কিলোমিটারেই হয় বাড়ি, না হয় রাস্তা, না হয় কংক্রিটের কিছু আছে৷ ফলে ওইসব জায়গা দিয়ে পানি যেতে পারে না৷ এই যে বৃষ্টি হয়, তার বড় একটা অংশ কিন্তু মাটিতে চুষে নেয়ার কথা ছিল৷ সেটা হচ্ছে না৷ এখন ঢাকা শহরে আমরা যেভাবে পানি নিষ্কাশণ করি, সেটা আর্টিফিশিয়াল ওয়াটার পাম্পিং৷ মানে আমরা পাম্প করে পানি বের করে দিচ্ছি৷ ঢাকাকে আমরা এখন বালতির মতো বানিয়ে ফেলেছি৷ বৃষ্টি হলে এই বালতিতে পানি জমে৷ আর আমরা সেচে সেটা বের করে দিই৷ এখন ঢাকা শহরে সারাদিন টিপটিপ করে বৃষ্টি হলে পানি জমবে না৷ কিন্তু এক ঘন্টা যদি ৬০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তাহলে পানি জমে যাবে৷ কিছুক্ষণের মধ্যে পাম্প করে আমরা সেটা বের করে দিচ্ছি৷ তাই আমরা এটাকে জলজট বলছি৷

রাজধানীতে জলজট  নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হয়৷ সেখানে বিশেষ নজর দেয়ার সুযোগ আছে কিনা...

সে ব্যবস্থা তো নিশ্চয়ই আছে৷ আমি আগেই তো বলেছি, আমরা ন্যাচারাল ড্রেনেজ সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলেছি৷ এখন আমরা যেটা করছি সেটা আর্টিফিসিয়াল ড্রেনেজ সিস্টেম৷ এখন আপনি ৩২টা দাঁত ফেলে দিয়ে আর্টিফিসিয়াল ৩২টা দাঁত লাগাতে পারবেন৷ কিন্ত খাওয়ার সময় এই দাঁতগুলোতে কিছু না কিছু সমস্যা হবেই৷ আমাদের ১৯৫৩, ১৯৬৪, ১৯৭২, ১৯৭৫ সালে তো এই ধরনের সমস্যা ছিল না৷ এখন হচ্ছে কেন? তখন আমাদের যে জনসংখ্যা ছিল, এখন সেটা অনেক বেড়ে গেছে৷ ঢাকা তো সৃষ্টিকর্তাপ্রদত্ত সুন্দর একটা শহর৷ এই শহরের চারদিকে চারটা নদী বেষ্টন করে আছে৷ তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও বালু৷ ভেতরে ৬৫টা শিরা-উপশিরার মতো খাল আছে৷ প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টিকর্তা এখানে ড্রেনেজ সিস্টেম করে দিয়েছেন৷ যখনই আমরা এটাতে হস্তক্ষেপ শুরু করলাম, তখনই বাধল বিপত্তি৷ 

বৃষ্টির মৌসুম এলেই রাস্তায় খোঁড়াখুড়ি শুরু হয়৷ এটা কি বন্ধ করা যায় না?

আমি ঢাকা ওয়াসার প্রধান নির্বাহী হিসেবে বলতে পারি, আমরা কখনও বর্ষা মৌসুমে খোঁড়াখুড়ি করি না৷ জরুরি কিছু ছাড়া আর দু-একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলে৷ এর বাইরে কিছু হয় না৷ এখন যা দেখছেন, এটা ঢাকা ওয়াসা করছে না৷ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এই মুহুর্তে কিছু স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ করছে৷ তারা বৃষ্টির পানি যাবার জন্য পথ তৈরি করে দিচ্ছে৷ আমি বলব, এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে৷ পানি বের হওয়ার যে ব্যবস্থাপনা, সেটা বর্তমানে ৭ হাতে আছে৷ এটা ঠিকমতো কাজ করতে গেলে এক হাতে আনতেই হবে৷

দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে আমরা ওয়াসা এবং রাজউককে সিটি কর্পোরেশনের অধীনে দেয়ার প্রস্তাব দিতে দেখেছি, তাতে নাকি পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হবে৷ আপনি কী মনে করেন?

এটা নিয়ে আমি সরাসরি কিছু বলব না৷ কারণ, আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি৷ তবে হ্যাঁ, আমি সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি৷ আংশিকভাবে এই প্রস্তাব তো ইতিমধ্যে আছে৷ ঢাকা ওয়াসার তিনটা কাজ৷ প্রথমত, পানি সরবরাহ করা৷ দ্বিতীয়ত, সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা এবং তৃতীয়ত, পানি নিষ্কাশন৷ এই তৃতীয় কাজটা কিন্তু বিশ্বের কোনো ওয়াসাই করে না৷ যেমন ধরেন, দিল্লিতে আছে জলবোর্ড৷ তারা শুধু পানি সরবরাহ করে৷ পানি নিষ্কাশন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই৷ এমনকি চট্টগ্রাম ওয়াসাও এই কাজটা করে না৷

জলাবদ্ধতা নিয়ে আপনাদের কি নতুন করে কোনো পরিকল্পনা আছে?

২০১০ সালে যখন ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বে এলাম, তখন আমরা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দিলাম৷ এক ওয়াটার মাস্টার প্লান, যেটা আমরা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করছি৷ সেকেন্ড সুয়াজে মাস্টার প্ল্যান,৷ সেটারও বাস্তবায়নে যাচ্ছি৷ আর তৃতীয়ত, বর্ষার পানি নিষ্কাশ৷ এটা নিয়ে আমরা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দিয়েছি৷ সেই পরিকল্পনায় ২০৬০ সাল পর্যন্ত একটা পরিকল্পনা দেয়া আছে৷ কিভাবে বৃষ্টির পানি বের করতে হবে৷ আমি বলব, এই মাস্টারপ্লানটা বাস্তবায়ন করতে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷