পানি দিয়ে ওয়েল্ডিং | অন্বেষণ | DW | 01.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পানি দিয়ে ওয়েল্ডিং

মোটর গ্যারেজে অক্সিঅ্যাসিটিলিন গ্যাস দিয়ে ওয়েল্ডিং আমাদের চেনা৷ কিন্তু জল থেকে আগুন তৈরি হয়, এমন একটি আজব ওয়েল্ডিং যন্ত্র বাজারে আনতে চলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গবেষণা প্রকল্প৷

মেকানিকরা যেমন ঝালাই করার সময় অক্সিঅ্যাসিটিলিন ব্যবহার করে থাকেন, ঠিক সেইরকম৷ তবে এক্ষেত্রে পানি থেকে আগুন; আবার কাজ শেষ হলে পড়ে থাকে আগুনপোড়া পানি৷ অর্থাৎ যা জ্বালানি, তাই পোড়ানি – ভাবুন ব্যাপারটা৷

প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক অ্যান্ড্রু এলিস বোঝালেন, ‘‘এটা একটা ইলেক্ট্রোলাইজার প্রণালী৷ মেন্স থেকে আসা বিদ্যুৎ আর পানি মিলে এই প্রণালী৷ ইলেক্ট্রোলিসিসের ফলে পানি হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন গ্যাসে ভাগ হয়ে যায়৷ পরে সেগুলো টর্চের মুখে মিশে একটা অগ্নিশিখা তৈরি হয়, যা দিয়ে ঝালাই করা যায় বা কলকারখানার অন্যান্য কাজ করা যায়৷  কাজেই এটা জল থেকে আগুন তৈরি করা ছাড়া আর কিছু নয়৷''

ইলেক্ট্রোলাইজারের মেমব্রেনগুলির দাম বেশি হওয়ায় ও ক্যাটালিস্ট হিসেবে প্ল্যাটিনাম বা অপরাপর বহুমূল্য পদার্থের প্রয়োজন থাকায়, ব্যবহারিক জীবনে ইলেক্ট্রোলাইজারের ব্যবহার সীমিতই থেকেছে৷ গবেষকরা এই প্রযুক্তিকে আরো সস্তা ও সহজলভ্য করতে চাইছেন৷

এলিস বললেন, ‘‘এখানে একদল রসায়নবিদ নতুন ধরনের মেমব্রেন নিয়ে কাজ করছেন, যার ফলে ইলেক্ট্রোলাইজারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে৷ আমরা ক্যাটালিস্ট নিয়েও অনেক গবেষণা করছি. প্ল্যাটিনামের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছি ও সেলগুলিতে অপেক্ষাকৃত সস্তা পদার্থ ব্যবহার করার চেষ্টা করছি৷ এই গবেষণার ফলে ইলেক্ট্রোলাইজার প্রণালীর দাম ব্যাপকভাবে কমেছে৷''

নরম আগুন

একেবারে টর্চের মুখে গিয়ে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন আবার মিলে যায়৷ এর ফলে যে আগুনের শিখার সৃষ্টি হয়, তা সাধারণ অগ্নিশিখার চেয়ে অনেক কম উত্তাপের; ফলে প্রোপেন বা অ্যাসিটিলিন গ্যাসের সঙ্গে অক্সিজেন মিশিয়ে যে অগ্নিশিখা সৃষ্টি হয়, তার চেয়ে এই ‘জল থেকে সৃষ্ট আগুন' নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি আরামের৷

ওয়েল্ডিং বিশেষজ্ঞ রোরি অলনি বললেন, ‘‘শিখাটা দেখলে বুঝতে পারবেন,  অক্সিঅ্যাসিটিলিনের শিখার চেয়ে এর আগুনটা অনেক বেশি নরম৷ ‘নজল' ছাড়িয়েই চিকিৎসার স্বার্থে শরীরের মধ্যে ন্যানো গাড়িপ্রচণ্ড গরম কোনো স্পট নেই, কাজেই চোখে আলো লাগে অনেক কম৷ যেমন দেখুন, আমি সাদা কাচের গগলস পরে আছি৷''

চাপ থাকে, কাজেই সেগুলো বিপজ্জনক ও ভারী৷ যে সব জায়গায় গ্যাস লিক হলে বিপদ ঘটতে পারে, সেখানে অ্যাসিটিলিন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ৷ অ্যালুমিনিয়ামের মতো নরম ধাতু নিয়ে কাজ করার সময় খুব সন্তর্পণে অক্সিঅ্যাসিটিলিন ব্যবহার করতে হয়, কেননা আগুনটা খুবই গরম৷''

প্রকল্প সমন্বয়কারী স্টিভেন বেন্স জানালেন, ‘‘উচ্চ তাপ আর উচ্চ গতিবেগ থাকায় যা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তা খুব তাড়াতাড়ি গলে যায়, সেটাই হল অক্সিঅ্যাসিটিলিনের সমস্যা৷''ওয়েলডিং 

হাইড্রোজেন ভিত্তিক অগ্নিশিখা অনেক বেশি নরম, এবং পরিষ্কারও বটে, কেননা পোড়ার সময় শুধু পানি তৈরি হয়৷

মেটিরিয়াল সায়েন্টিস্ট নিক লাডফোর্ড বললেন, ‘‘এই নতুন ইউনিটে গ্যাসের দাম পড়বে অ্যাসিটিলিনের বিশ ভাগের এক ভাগ বলে আমাদের ধারণা – কেননা গ্যাস রাখার ব্যবস্থা, বিমা ও পরিবহণের খরচ ইত্যাদি বাদ পড়বে৷''

ছোট ও মাঝারি আকারের কলকারখানাগুলি আগামীতে এর সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে, কেননা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে৷

আপাতত যুক্তরাজ্যের পেশাদার ওয়েল্ডাররা নতুন ইলেক্ট্রোলাইজার প্রণালীর প্রোটোটাইপটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন৷

ওয়েল্ডিং বিশেষজ্ঞ রোরি অলনি বললেন, ‘‘এই প্রণালীর একটা বিশেষ সুবিধা হল, টর্চটা সব সময়ে ঠান্ডা থাকে, কেননা শিখাটা টর্চের বাইরে জ্বলে৷ আমি যখন টর্চটা ব্যবহার করছি, তখন সেটা গরম হয় না৷ কাজ শেষ হবার পরেও টর্চটা ঠান্ডা থাকে, কাজেই সেটা যে কোনো জায়গায় রাখা চলে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক