পানি ছাড়াও গোসল করা যায় | মিডিয়া সেন্টার | DW | 11.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

পানি ছাড়াও গোসল করা যায়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি নীতির একটা বড় অঙ্গ হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ৷ কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটুকু ঘটেছে? পানি ছাড়া গোসল করার একটি ভাইরাল ভিডিও-তে ঠিক যেন সেই ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে৷

কালো টাকা ও অর্থ সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদী, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার সময়েই  তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ বলতে কি, কর ফাঁকি দেওয়া ও কালো টাকা সাদা করার জন্য যে ধরণের ‘খোলস' কোম্পানিগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেগুলিকে শনাক্ত করার ব্যাপারে সরকার লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন৷ কিন্তু এই শনাক্তকরণে কী ধরণের শর্তাবলী প্রয়োগ করা হয়েছে, তা ঠিক স্পষ্ট নয়৷ ওদিকে একাধিক রাষ্ট্রীয় মালিকানার কোম্পানিকে ‘খোলস' কোম্পানি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে৷

বহুল প্রচারিত ও বহু সমালোচিত ‘ডিমনিটাইজেশন' প্রধানত অপরাধী মহল ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের তাদের কালো টাকা সাদা করতে সাহায্য করেছে, এ অভিযোগ নতুন নয়৷ তথাকথিত নন-ট্রেডিং কোম্পানিগুলি যে ডিমনিটাইজেশন চলাকালীন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়, তা-ও সরকারি কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি৷

অথচ একাধিক পাবলিক কোম্পানি সরকারের শনাক্তকৃত ৩৩১টি ‘খোলস' কোম্পানির তালিকা থেকে তাদের নাম সরাতে সফল হয়েছে৷ রিজার্ভ ব্যাংকের স্বকীয় বিবৃতি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর যেসব ৫০০ ও ১,০০০ রুপির নোট বাতিল করা হয়, তার ৯৯ শতাংশই ৩০শে ডিসেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যে ব্যাংকে জমা পড়ে৷ বস্তুত ডেমনিটাইজেশনকেই অংশত কালো টাকা সাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয়, যে কারণে একজন উচ্চপদস্থ বিরোধী রাজনীতিক মোদীর ডিমনিটাইজেশনকে ভারতের বৃহত্তম ‘স্ক্যাম' বলে বর্ণনা করেছেন৷

এখন প্রশ্ন হলো, রাজনীতি-অর্থনীতির এইসব চোখা চোখা প্রশ্নের সঙ্গে আমাদের ভাইরাল ভিডিওর সম্পর্ক কী? ভাইরাল ভিডিও হলো হাল আমলের প্রবচন৷ ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি' যাঁরা বোঝেন, তাঁরা ঠিকই বুঝবেন, পানি ছাড়া গোসল করার অর্থ কী: লোক দেখানো ভড়ং, রীতিনীতি, আচার-আচরণ – বা সরকারি কর্মসূচি – যাতে সাপও মরে না, আবার লাঠিও ভাঙে না; ঝড়ে কাক না পড়লেও, ফকিরের কেরামতি ঠিকই বাড়ে৷

ভিডিওটা দেখে বাকি অঙ্কটা আপনারা নিজেরাই কষে নিন৷
 

এসি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন