পানির নীচের জগত যখন হাতের নাগালে | অন্বেষণ | DW | 13.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পানির নীচের জগত যখন হাতের নাগালে

চিড়িয়াখানা সংলগ্ন বা অন্যান্য অ্যাকোয়েরিয়ামে গেলে পানির নীচের জগত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়৷ ফ্রান্সের এক শহরে এক জলাধারে এক কোটি লিটার পানির মধ্যে বিস্ময়কর এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে৷

ফ্রান্সের জাতীয় সামুদ্রিক কেন্দ্রের মূল আকর্ষণ হলো ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়ারিয়াম৷ সেটির বিশাল জলাধারে প্রায় এক কোটি লিটার পানি রয়েছে৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রে প্রজাতির মান্টা রে এই জলাধারের তারকা৷ সমুদ্রের তীরে অ্যাকোয়ারিয়াম ভবনের স্থাপত্যও এই প্রাণীর আদলে সৃষ্টি করা হয়েছে৷

ফ্রান্সের উত্তরে ইংলিশ চ্যানেলের তীরে ছোট্ট শহর বুলোন-স্যুর-ম্যার৷ সেখানেই প্রায় ১,৬০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা পাওয়া যায়৷ আক্ষরিক অর্থেই সেই জগতে ডুব দেওয়া যায়৷ অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা স্টেফান এনার-এর মাথায় এমন আইডিয়া এসেছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন৷ এই জলাধার সমুদ্রের সৌন্দর্য ও সেই জগতের ভঙ্গুর প্রকৃতি তুলে ধরছে৷ এমন অসাধারণ স্থাপনা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করে দিচ্ছে৷''

পানির নীচের জীবজগতের বৈচিত্র্য সেখানে দেখা যায়৷ এটি শুধু অ্যাকোয়ারিয়ামই নয়, একাধারে শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রও বটে৷ সেখানে মোট ৬০,০০০ প্রাণী দেখা যায়, কয়েকটিকে এমনকি ছোঁয়াও যায়৷ বিশাল এই জলাধারের ইকোসিস্টেম প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বদিকে কলম্বিয়া উপকূলের মতো৷ সেখানেই মান্টা রে বিচরণ করে৷

এখানে অবশ্য সেই প্রাণীকে হাতে করে খাইয়ে দিতে হয়৷ যেমন একটি প্রাণীকে তিন কিলোগ্রাম চিংড়ির মিশ্রণ খাওয়ানো হচ্ছে৷ অ্যাকোয়েরিয়ামের কর্মী বলেন, ‘‘এই প্রাণীর সাঁতার কাটা দেখতে দারুণ লাগে৷ এমনিতে খুব শান্তিপূর্ণ হলেও এটি খুবই শক্তিশালী৷ এখানে এমন সুন্দর এক প্রাণীকে রাখার সুযোগ আমরা পেয়েছি৷''

মান্টা প্রজাতির প্রাণী আট মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে৷ এই প্রাণীটির বয়স কম হলেও এরই মধ্যে সেটি দুই মিটার দীর্ঘ হয়ে উঠেছে৷ অ্যাকোয়েরিয়ামের কর্মীরা এমন প্রাণীর খুব কাছে যেতে পারেন৷ পানিতে ডুব দিলে তাঁরা এই প্রাণীর অবস্থা ভালো করে পরীক্ষা করতে পারেন৷

এই জলাধার পরিষ্কার রাখাও বড় কাজ৷ সেইসঙ্গে দর্শকদের মনোরঞ্জনও করতে হয়৷ অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা স্টেফান এনার মনে করেন, ‘‘প্রত্যেক দর্শকের কাছে বিশাল মান্টা রে আসছে৷ এমন অভিজ্ঞতার জন্য ডুবুরিদের প্রায় সারা জীবন ধরে অপেক্ষা করতে হয়৷ প্রত্যেক দর্শকেরই এমন দুর্লভ অভিজ্ঞতা ঘটে৷ প্রতিদিন এত মানুষ এমন জাদুময় পরিবেশের স্বাদ পাচ্ছে৷''

ডিডাব্লিউ রিপোর্টার হিসেবে হেন্ড্রিক ভেলিং এই অভিজ্ঞতার ফলে অভিভূত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এই বিশাল জলাধার৷ কখনো ভাবি নি, পানির নীচের জীবজগত সম্পর্কে এত সুন্দর ধারণা পাবো৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আমি এই অসাধারণ দৃশ্য দেখতে পারি৷''

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়েরিয়াম যেন স্বপ্নের এক জগত৷

হেন্ড্রিক ভেলিং/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন