পানির অপর নাম ‘জীবন′ কি শুধু উন্নত দেশেই? | আলাপ | DW | 13.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

পানির অপর নাম ‘জীবন' কি শুধু উন্নত দেশেই?

পানির অপর নাম ‘জীবন' হলেও বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ নাকি এখনো সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত৷ জার্মানির যে কোনো অঞ্চলের পানি সুপেয় হওয়া সত্ত্বেও অনেক জার্মান বোতলের পানি কিনে খান৷এটা কি শুধুই বিত্তের কারণে?

পানির গুণগত মান জার্মানিতে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়৷ অর্থাৎ, পানিতে রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ, জীবাণু, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ,সোডিয়াম, ক্লোরিন, পিএইচ-এর মাত্রা, নাইট্রিক অ্যাসিড ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা হয় প্রতি বছর৷ তবে সব অঞ্চলের পানি নিরাপদ ও সুপেয় হলেও জায়গা বিশেষে পানির মানের তারতম্য অবশ্যই হয়ে থাকে৷ যেমন, কোলন শহরের পানির চেয়ে বন শহরের পানির মান ভালো৷ আমি তা প্রতিদিনই টের পাই৷ থাকি কোলনে আর অফিস বন-এ হওয়ায় খুব সহজেই চা বা কফির স্বাদ, গন্ধ এবং রং দেখে বুঝতে পারি পার্থক্যটুকু৷

জার্মানির প্রতিটি অঞ্চলের পানি জীবাণুমুক্ত, নিশ্চিন্তে পান করা যায় সেকথা জোর দিয়ে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা৷

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জার্মানিতে চারজনের একটি পরিবার বছরে এক থেকে দেড় হাজার ইউরো পানির পেছনে ব্যয় করে৷ তবে তা নির্ভর করে বোতলের পানির মূল্য অনুযায়ী৷ কারণ, এক লিটার পানির মূল্য ৫০ সেন্ট থেকে দেড় বা দুই ইউরোও হয়ে থাকে৷ স্বাভাবিকভাবেই প্লাস্টিকের বোতলের চেয়ে কাচের বোতলের মূল্য কিছুটা বেশি৷

Nurunnahar Sattar, DW-Mitarbeiterin Bengali Programm (DW/A. Islam)

নুরুননাহার সাত্তার, ডয়চে ভেলে

এ দেশের মানুষ যে শুধু পান করার জন্য আলাদাভাবে পানি কেনেন, তাই নয়৷ স্বাস্থ্য সচেতন অনেক জার্মান বাড়ির ট্যাপের নিরাপদ পানিকে আরো পরিষ্কার বা পরিশোধন করতে, অর্থাৎ শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে রান্নাবান্নার জন্য পানি ফিল্টার করে নেন সাধারণ ফিল্টারের মাধ্যমে৷ তা আমরাও অনেক বছর যাবতই করে আসছি৷ তবে বলাই বাহুল্য যে, বাড়তি ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধিত পানির রান্না এবং চা, কফির স্বাদও কিছুটা হলেও বোঝা যায়৷ পানি হয় নরম আর স্বচ্ছ৷ হাজার হলেও পানির আরেক নাম ‘জীবন' তো! তাছাড়া এসব বাড়তি সচেতনতা যে জার্মানদের দেখেই শেখা৷

শুধু সুস্থ থাকার জন্য স্বচ্ছ পানি নয়, পানি বাড়াতে পারে আমাদের জীবনীশক্তিও৷ হ্যাঁ, পরিষ্কার পানির গুণাগুণ, গুরুত্ব এবং ট্যাপের পানি ফিল্টার করে পান করার নানা উপকারিতা নিয়ে জার্মানির বিভিন্ন শহরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঝে মাঝে সেমিনার হয়ে থাকে৷ সেমিনারের মূল লক্ষ্য পানির ফিল্টার মেশিন বিক্রি করা হলেও তা বাধ্যতামূলক নয়৷ তাছাড়া কিছুদিন বিনা পয়সায় সেসব ফিল্টার টেস্ট করারও সুযোগ থাকে৷

আমি এখানে এক ধরনের বিশেষ ফিল্টারের কথা বলছিলাম৷ কারণ, বিষয়টি আমার কাছেও একদম নতুন৷ আমাদের জার্মান প্রতিবেশীরা আবার খুবই স্বাস্থ্য সচেতন৷ তাঁদেরই অনুরোধে এক সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই মিলে ‘হ্যাপি ওয়াটার' শীর্ষক পানি বিষয়ক বিশেষ এক সেমিনারে অংশ নেই৷ সেখানে পরিচয় করানো হলো ছোট্ট একটি ফিল্টার মেশিনের সাথে, যার বেশ কয়েকটি বাটন রয়েছে এবং প্রতিটি বাটনের পানির পিএইচের মাত্রা যেমন ভিন্ন, তেমনি সেসবের কার্যকারিতাও আলাদা৷ কোনো বাটনের পানি শরীরে জীবাণু ধ্বংস করে, কোনোটা শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গের জন্য উপকারী৷ আবার রান্না বা খাবারের জন্য হয়তো অন্য বাটন, ইত্যাদি৷ 

প্রিয় পাঠক, পানির ফিল্টার মেশিনের মার্কেটিং করার জন্য কিন্তু আমার এ লেখা নয়৷ আসলে পানি নিয়ে আগে কখনো এমনটা ভাবিনি বলেই হয়তো বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে এবং বলা যায়, পানি সম্পর্কে জানতে আরো আগ্রহী করে তুলেছে৷ যা-ই হোক, সেমিনার শেষে আমার মনে হলো, হিরের টুকরোকে পরিষ্কার বা ঘষামাজার পর যখন আরো বেশি চকচক করে দ্যুতি ছড়ায়, তখন সেটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে বলে তার মূল্য বেড়ে যায় অনেকগুণ৷ হয়তো ঠিক তেমনি পানি যত স্বচ্ছ, পরিষ্কার আর জীবাণুমুক্ত হয়ে শরীরের ভেতরে ঢোকে, শরীরটাও ঠিক ততটাই জীবাণুমুক্ত ও তরতাজা থাকে৷ আর সেই সাথে বাড়াতে পারে মানুষের জীবনীশক্তি৷

বিশ্বের বহু গরিব দেশের হাজারো মানুষ এক ফোটা খাবার পানির জন্য কত হাহাকার করেআর জার্মানির মতো উন্নত দেশে নিরাপদ পানিকে আরো পরিশোধন করার জন্য কত গবেষণা, কত আয়োজন! আমাদের প্রতিবেশী রিটা এরই মধ্যে পানির মেশিনটি কিনে নিজেই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে৷ আমাকেও তার ফলাফল জানাচ্ছে৷

জার্মানিতে বছরে গড়ে ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পানির প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ মাত্র একজন মানুষ বছরে গড়ে ২০০ প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করে থাকে৷ আমরা অনেকেই হয়তো জানি একটি প্লাস্টিক বোতল ধ্বংস হতে চার থেকে পাঁচশ' বছর সময় লাগে৷ তাই কেউ যদি প্লাস্টিকের বোতলের পানি না খেয়ে ট্যাপের পানি ফিল্টার করে খান, তাহলে তার পরিবেশ রক্ষায় অবদান অনেকটাই রাখা হবে৷ আর হ্যাঁ, এ বিষয়টিও ‘হ্যাপি ওয়াটার' সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব পায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন