পাঠ্যপুস্তকে নারীর মর্যাদা, নারীকে রক্ষা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 12.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পাঠ্যপুস্তকে নারীর মর্যাদা, নারীকে রক্ষা

দেশে ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পাঠ্যপুস্তকে নারী অধিকার সুরক্ষা ও নারী নির্যাতন রোধে পাঠ প্রণয়নের কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ কিন্তু নতুন এ বিষয় ২০২২ সালের আগে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না৷

জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-র চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন৷ তবে পাঠ্যপুস্তকে ২০১৪ সাল থেকেই এ বিষয়গুলো যুক্ত আছে৷ এটিকে কীভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায় সে বিষয়ে ভাবছেন তারা৷

ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে জেন্ডার ও প্রজনন স্বাস্থ্য অন্তর্ভূক্ত আছে৷ আর স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই পাঠ রয়েছে৷ এজন্য শিক্ষকদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে৷ এর বাইরে ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু' নামে একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে চারশ' স্কুল ও মাদ্রাসায় গেম, ফিল্ম ক্লাবসহ নানা পদ্ধতিতে একই ধরনের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে৷

নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘‘আমরা এবার হয়তো এ সংক্রান্ত আইন, সচেতনতা, করণীয় এইসব বিষয় নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে আলাদা অধ্যায় যুক্ত করবো৷''
২০২১ সালের জন্য নতুন বইয়ের ছাপার কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে৷ এখন ২০২২ সালের জন্য নতুন পাঠক্রম তৈরি হচ্ছে৷ সেই পাঠক্রম তৈরি হলে নারী অধিকার রক্ষা এবং নারী নির্যাতন রোধে নতুন পাঠ যুক্ত করা হবে৷

অডিও শুনুন 04:20

’শুধু পাঠক্রম নয়, আরো অনেক কাজ করার আছে’


জাতীয় পাঠক্রম কমিটির সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান জানান, ‘‘নতুন পাঠক্রম তৈরির সময় আমরা অনেক সাজেশন পাই৷ মন্ত্রণালয় থেকেও পাই৷ তখন দেখা যায় আমাদের পাঠক্রমে বিষয়গুলো আছে৷ তাই এখন শুধু পাঠক্রম নয়, আরো অনেক কাজ করার আছে৷ শিক্ষার্থীরা নারীর অধিকার নিয়ে পড়ছেন৷ তারা নারীকে সম্মান করার বিষয় নিয়ে পড়ছেন৷ কিন্তু তার পরিবার বা সমাজে আলাদা বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে৷ তখন এই শিক্ষা আর কাজে আসে না৷''

তাই এবার মূলত অ্যাপ্রোচের দিকে জোর দেয়া হবে৷ নতুন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় হয়তো অ্যাপ্রোচের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিলে তা করা হবে বলে জানান তিনি৷ যে শিক্ষক এই বিষয়গুলো পড়ান, তিনি যদি নিজের মধ্যে তা ধারণ না করেন তাহলে এই শিক্ষা তো কোনো কাজে আসবে না বলে তার অভিমত৷

শুধু পাঠ্যপুস্তকে নতুন বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা নয়, টিচার্স গাইডও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পাঠক্রম কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক রিয়াজুল হাসান, ‘‘এ ধরনের শিক্ষা বইয়ের বাইরেও টিচার্স গাইডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়৷ বইয়ে থাকবে  প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা খেলা বা গল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানাবেন৷''

কিছু টিচার্স গাইড আগেই প্রণয়ন করা হয়েছে৷ এটা প্রয়োজনে আরো উন্নত করা হবে৷আরো বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে বলে জানান তিনি৷

তিনি বলেন, প্রয়োজনে স্কুলে স্কুলে ক্লাব করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়গুলো শিখবে৷ তাঁর মতে, নারীর প্রতি সম্মান, সহপাঠীর প্রতি সম্মান, নারী-পুরুষ সমানাধিকার এবং সহজ ভাষায় এই বিষয়ে করনীয়-বর্জনীয় বিষয় ও আইন তুলে ধরা যায়৷

তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি, অভিভাবকদের জন্যও কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন৷ সেটা পাঠক্রমের সাথে মিলিয়ে কীভাবে করা যায় তা আমরা ভাবছি৷''

অডিও শুনুন 06:47

‘পাঠ্যপুস্তকে এখন যে জেন্ডার এডুকেশন আছে তা অনেক গবেষণার ফল’


নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ প্রতিরোধ পাঠক্রমে থাকবে৷ কিন্তু সেগুলো কীভাবে থাকবে তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী৷ তিনি বলেন, বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় শব্দগুলো সরাসরি পাঠ্যপুস্তকে রাখা যাবে না৷  

তিনি বলেন, ‘‘পাঠ্যপুস্তকে এখন যে জেন্ডার এডুকেশন আছে তা অনেক গবেষণার ফল৷ নতুন বিষয়গুলো আনার জন্য শুধু শিক্ষাবিদ নয়, শিশু মনস্তত্ববিদদের সঙ্গেও আলোচনা প্রয়োজন৷ বিষয়গুলো যেন চাপিয়ে না দেয়া হয়৷''

তবে এ বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু আইন বা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না৷ এর জন্য সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে৷

 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন