পাটের পাতা থেকে ‘সবুজ চা’ | বিশ্ব | DW | 22.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পাটের পাতা থেকে ‘সবুজ চা’

বাংলাদেশে পাটের পাতা থেকে ‘সবুজ চা’ উৎপাদন শুরু হয়েছে৷ এরইমধ্যে তা রপ্তানি হচ্ছে জার্মানিতে৷ তবে বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু করতে আরো সময় লাগবে৷ সেজন্য জামালপুরে একটি কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে৷

বাংলাদেশে পাট ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত৷ এক সময় পাটই ছিল বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের প্রধান পণ্য৷ পাটের আঁশের  সেই সোনালি অতীত না থাকলেও পাটের পাতা তৈরি করেছে এক নতুন সম্ভাবনা৷ পাট পাতা শাক হিসেবে খাবার প্রচলন বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই৷ কিন্তু এই পাট পাতা থেকে ‘চা’, অর্থাৎ এক ধরনের পানীয় উৎপাদন শুরু হয়েছে৷ এখন ছোট অল্প করে এই উৎপাদন চললেও বড় আঙ্গিকে উৎপাদনের জন্য কারাখানা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷

২০১৬ সালে বাংলাদেশে পাট পাতা থেকে এই অর্গ্যানিক চা উৎপাদনে সাফল্য লাভের প্রথম দাবি করে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট৷ এরপর ঢাকায় গুয়ার্ছি অ্যাকুয়া অ্যাগ্রো টেক নামক একটি প্রতিষ্ঠান পাটের পাতা দিয়ে তৈরি অর্গ্যানিক চা জার্মানিতে রপ্তানি শুরু করে৷ এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ইসমাইল হোসেন খান৷ এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে গেছে৷ আর ইসমাইল হোসেন খানকে করা হয়েছে সরকারে নতুন পাট পাতা থেকে চা তৈরি প্রকল্পের উপদেষ্টা৷

শুক্রবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলকায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে৷ উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম৷ এখানে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কারখানা নির্মাণ করা হবে৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন,‘‘চা শিল্পে যোগ হচ্ছে পাটের পাতা থেকে চা৷ এতে পাট ও চা শিল্প সমৃদ্ধ হবে৷ এই এলাকার বহু মানুষের বাড়তি কর্মসংস্থান হবে৷ পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে পাটকে নানাভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে৷ নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হচ্ছে৷ এরই ধারাবাহিকতায় নতুন উদ্ভাবন এই সবুজ চা৷ ফলে সোনালি আঁশের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে৷’’

অডিও শুনুন 01:50

জার্মানির এক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় চা উৎপাদন করছি: মন্ত্রী

এ প্রসঙ্গে সোমবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ডয়চে ভেলেকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘আমরা এরইমধ্যে ছোট পরিসরে উৎপাদনে চলে গেছি৷ করিম জুট মিল এবং প্রকল্পের উদ্ভাবক ইসমাইল হোসেন খানের ঢাকার উত্তরায় ছোট একটি কারখানায় আমরা এই পাট পাতার চা উৎপাদন করছি জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায়৷ এরইমধ্যে আমরা ৮ থেকে ১০ টন পাট পাতার চা উৎপাদন করেছি এবং তা জার্মানিতেই ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি করা হয়েছে৷ সরিষাবাড়ীতে আমাদের কারখানা হলে আমরা বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাব৷ দেশের বাজারে এই চা বিক্রি হবে আর বিদেশে তো রপ্তানি করা হবেই৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এই চায়ের স্বাদ একদম গ্রিণ টি'র মতো৷ আর দামও হবে সাধারণ চায়ের মতোই৷’’

চায়ের গুনাগুন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ছোট বেলায় দেখেছি কোনো রোগ বালাই হলে শিশুদের পাটের পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে খাওয়ানো হতো৷ পাট পাতার ভেষজ গুণ আছে৷ এই চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিষেশ উপকারী হবে৷ আমরা এরই মধ্যে এটা বাজারজাত করার সব ধরনের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদন পেয়েছি৷’’

অডিও শুনুন 01:09

আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পে কাজ করছি: ইসমাইল হোসেন

প্রকল্পের উপদেষ্টা ইসমাইল হোসেন খান শুক্রবার সরিষাবাড়ীতে বলেন, ‘‘পাটের পাতা থেকে পানীয় (সবুজ চা) উৎপাদনের এই উদ্যোগ সরিষাবাড়ী থেকে শুরু হলো৷ এখানকার চা শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে৷ চলতি বছরের শেষদিকে ভবন নির্মাণ শেষ হলে সবুজ চা উৎপাদন শুরু হবে৷’’

তবে সোমবার তিনি ডয়চে ভেলের সঙ্গে টেলিফোনে এই চা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজী হননি৷ প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি না পেলে বিস্তারিত কিছু বলবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের মধ্যে পাট পাতার চা বাংলাদেশেই প্রথম উৎপাদন হচ্ছে৷ নতুন কারখানায় বড় আকারে উৎপাদনে যেতে কমপক্ষে দু'বছর লাগতে পারে৷ আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পে কাজ করছি৷ আমিই এর উদ্ভাবক৷’’

জানা গেছে, তোষা পাটের পাতা থেকে এই চা স্বাদে ভালো৷ তবে দুধ মিশিয়ে এই চা পান করা যাবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন