পাটের নীল নকশা বদলাবেন মাকসুদুল আলম | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 06.07.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

পাটের নীল নকশা বদলাবেন মাকসুদুল আলম

বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট -- ছোটবেলা থেকেই একথা জানা আমাদের সবার৷ পাঠ্যবইয়ের কল্যাণেই আমাদের জানা হয়ে গিয়েছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে পাটের নিবিড় সম্পর্কের কথা৷

default

ফাইল ফটো

তাছাড়া পাট ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যায়নি কিংবা পাট কাঠি নিয়ে ছোটাছুটি করেনি এমন বাঙালিও কী খুঁজে পাওয়া যাবে!

পাটের সঙ্গে বাঙালির সেই সখ্যতা এবার আরো খানিকটা বাড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশের এক কৃতী বিজ্ঞানী৷ নাম মাকসুদুল আলম৷ বেশ নীরবেই তিনি আবিষ্কার করলেন পাটের জিনোম সিকোয়েন্স৷ তাঁকে অবশ্য সহায়তায় ছিলেন আরো অনেকে৷ কিন্তু তারপরও এমন আবিষ্কার সহজ কথা নয়!

জিনোম সিকোয়েন্স

খটকা লাগছে নাতে? জিনোম সিকোয়েন্স আবার কী? সহজ করে বললে, জিনোম হচ্ছে জীবনের নীল নকশা৷ আমাদের চারপাশের জীবন্ত জগতের সব বাসিন্দারই রয়েছে এই নীল নকশা৷ এই নকশার আলাদা আলাদা গঠনের কারণেই কোনটি বাঘ কোনটি ভাল্লুক কিংবা কোনটি আম গাছ আবার কোনটি কাঠাল গাছ৷ হতাশার বিষয় হচ্ছে, নীল নকশার গঠন প্রণালী ভয়ঙ্কর জটিল৷ পাট জিনোমের সেই জটিল সিকোয়েন্সটি আবিষ্কার করে ফেলেছেন আমাদের মাকসুদুল আলম৷

নীল নকশা

অনেকের মনে হতে পারে, পাটের নীল নকশা দিয়ে আমরা কী করবো! এটা কিইবা এমন আবিস্কার৷ আছে, এই নীল নকশার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক হিসেবে৷ নকশায় খানিকটা বদলে দিতে পারলেই শীতকালেও পাট চাষ যেমন সম্ভব, তেমনি সম্ভব নোনাজলে পাট গাছকে বাঁচিয়ে রাখা৷ একইসঙ্গে চাইলে সম্ভব সহজে এর উৎপাদন বাড়ানো কিংবা পাট পচানোর সমস্যাসঙ্কুল প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়া৷

Welttag gegen Kinderarbeit - Kinderarbeit in Indien Flash-Galerie

পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ পরিবেশ বান্ধব

বিশেষ পাট

এরপরও যারা এর গুরুত্ব বুঝতে পারছেননা, তাদেরকে বলি৷ পৃথিবীর লাখ লাখ উদ্ভিদের মধ্যে জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করা গেছে হাতেগোনা কয়েকটির৷ এর মধ্যে একটি হচ্ছে পাট৷ এই আবিস্কার সম্পর্কে প্রখ্যাত লেখক, অধ্যাপক এবং গবেষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের দেশের জন্য বিশেষ ধরণের পাট উৎপাদনের একটা দিক এখন উম্মুক্ত হয়ে গেল৷

জিনোম আবিষ্কারের মতো এমন বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্যের খবর কিন্তু শোনা যায় খুব কমই৷ তাছাড়া এসব খবর আসে উন্নত বিশ্বের সর্বাধুনিক ল্যাবরেটরিগুলো থেকে৷ সেখানে বাংলাদেশে এমন আবিষ্কারের খবরে অবাকই হয়েছেন অনেকে৷ যদিও জাফর ইকবাল এতে অবাক নন৷ তাঁর মতে, প্রতিবন্ধকতা কিংবা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশেই এই কাজ হয়েছে৷ তাই এই যাত্রার বাকি পথও বাংলাদেশে বসেই পাড়ি দেয়া সম্ভব৷ তিনি বলেন, যেহেতু আমরা করে দেখিয়েছি, এখন পরবর্তী কাজটা সহজ৷

প্রয়োজন সময় এবং অর্থ সহায়তা

তবে, জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের পরও আসল কাজ কিন্তু এখনো রয়ে গেছে৷ বিশেষ করে, এই সিকোয়েন্সে পরিবর্তন আনা এখন বড় কাজ৷ এজন্য প্রয়োজন সময় এবং আর্থিক সহায়তা৷ প্রফেসর মাকসুদুল আলম নিজেই বললেন সেকথা, আমাদের গবেষণা জিনোম থেকে বীজ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগবে৷

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ৷ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে সেখানে৷ পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়৷ তাই, এমন পরির্তনশীল পরিবেশের জন্য মানানসই উদ্ভিদ তৈরি করতে জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ পাটের ক্ষেত্রে সেই সাফল্য সাধারণ মানুষকে আশার আলোই দেখাচ্ছে৷ এভাবে আরো উদ্ভিদের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার সম্ভব হলে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই অনেকটা সহজ হবে - এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

বিজ্ঞাপন