পাজল তৈরি করে বিশ্ব মাতাচ্ছেন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী | অন্বেষণ | DW | 06.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পাজল তৈরি করে বিশ্ব মাতাচ্ছেন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী

রুবিক্স কিউবের রং মেলানোর চ্যালেঞ্জ অনেকেই গ্রহণ করেছেন৷ নেদারল্যান্ডসের এক উদ্ভাবক তার আরো জটিল সংস্করণসহ নিত্যনতুন পাজল সৃষ্টি করে চলেছেন৷ এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও তাঁর তৈরি পাজল ব্যবহার করা হচ্ছে৷

অস্কার ফান ডেফেন্টার জটিল খেলা পছন্দ করেন৷ তিনি পাজল ডিজাইন ও তৈরি করেন৷ যেমন, এক বন্ধুর জন্য অভিনব একটি পাজল তৈরি করেছেন তিনি৷ অস্কার বলেন, ‘‘সে তার বান্ধবী মিন্ডিকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চেয়েছিল৷ আমাকে সে এমন এক রুবিক্স কিউব ডিজাইন করতে বলল, যা সমাধান করলে খুলে যায়৷ ভাবুন, কিউবের ভেতরে কী থাকবে? অবশ্যই আংটি৷ অবশ্যই সে তখন প্রশ্ন করল, আমাকে বিয়ে করবে? মেয়েটি ‘হ্যাঁ’ বলল৷’’

পাজল সমাধান করলে তবেই সেই আংটি হাতে আসে৷ ১৯৭৮ সাল থেকে ওলন্দাজ এই ডিজাইনার পাঁচশ'রও বেশি পাজল সৃষ্টি করেছেন৷ পেশায় তিনি এক গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী৷ পাজল তৈরি তাঁর শখ৷ বেশ কম বয়সেই তার সূচনা ঘটেছিল৷ অস্কার ফান ডেফেন্টার বলেন, ‘‘তখন আমার ১২ বছর বয়স৷ ‘পাজলস অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি বই হাতে এসেছিল৷ তাতে পাজল তৈরির কৌশল দেখানো হয়েছিল৷ বই দেখে তখন থেকেই অনেকগুলি পাজল তৈরি করেছিলাম৷ তারপর নিজেই ডিজাইন শুরু করলাম৷’’

একটি পাজলের প্রোটোটাইপের জন্য কাঠ চেঁচে অংশগুলি তৈরি করছেন তিনি৷ কখনো তিনি দেশলাইয়ের বাক্সও ব্যবহার করেন৷ ২০০৩ সালে তিনি থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি কাজে লাগাতে শুরু করেন৷ এখন একটি কোম্পানি তাঁর বায়না অনুযায়ী পলিঅ্যামিড দিয়ে তাঁর ডিজাইন অনুযায়ী অংশগুলি তৈরি করে৷

বাকি সব কাজ বাড়িতেই করেন অস্কার৷ অংশগুলিকে রং করে সেগুলি জোড়া দেন৷ বেশ কিছু ডিজাইনের ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে আঠা লাগাতে হয়৷ এমন শখের জন্য অনেক সময় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন৷ অনেক বছর ধরে তা থেকে কোনো আয়ও হয়নি৷ অস্কার বলেন, ‘‘প্রথম বিশ-পঁচিশ বছরে আমি একটি পাজলও বিক্রি করিনি৷ অতএব সেটা কঠিন সময় ছিল৷’’

২০০৮ সালে ইন্টারনেটের কল্যাণে প্রথম সাফল্য আসে৷ প্রতি সপ্তাহে তিনি ইউটিউবে ‘অস্কারপাজল’ চ্যানেলে একটি করে পাজল তুলে ধরেন৷ কিছু ভিডিও ৩০ লক্ষ ক্লিকও পায়৷

ভিডিও দেখুন 04:24

পাজল দিয়ে বিশ্ব মাত

নেদারল্যান্ডসের লাইডশেনডাম শহরে নিজের বাড়িতেই ভিডিওগুলি তৈরি হয়৷ স্ত্রী ইয়োসে তাঁকে সাহায্য করেন৷ ৩০ বছরেরও বেশি আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল৷ ২০০৮ সাল থেকে তাঁরা একসঙ্গে ভিডিও তৈরি করেন৷ ইউটিউবে আচমকা সাফল্য এসেছিল৷ অস্কার বলেন, ‘‘ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার পেছনে একটি কারণ ছিল৷ আমি জাপানে এক নির্মাতাকে আমার তৈরি একটি পাজল দেখাতে চেয়েছিলাম৷ প্রোটোটাইপ পাঠাতে চাইনি, কারণ, তাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেত৷ ২০০৮ সাল নাগাদ ইউটিউব সবে শুরু হয়েছে৷ আমি ভিডিও তৈরি করে জাপানে তার লিংক পাঠিয়ে দিলাম৷’’

এভাবে প্রায় ৫০টি প্রোটোটাইপ খেলনা প্রস্তুতকারকদের কাছে পাঠানো হয়েছে৷ তারপর বড় আকারে তার উৎপাদন শুরু হয়েছে৷ যেমন, বিয়ের উপহারের বাক্সটি৷

২০১১ সালে তাঁর নাম গিনেস বুকে স্থান পায়৷ সেটাই এ পর্যন্ত সবচেয়ে জটিল প্রকল্প৷ ১,৫৩৯টি অংশ দিয়ে তৈরি এক ম্যাজিক কিউব৷ সেটি সমাধান করা সম্ভব হলেও তাতে অনেক সময় লাগে৷

এত উদ্ভাবন রাখার জন্য ঘরে আর জায়গা হচ্ছে না৷ অস্কার ফান ডেফেন্টার নিশ্চয় তারও সমাধান খুঁজে বার করবেন৷

ফ্রানৎসিক্সা ভার্টেনব্যার্গ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন