পাখিদের বাঁচাতে কীটনাশকে লাগামের প্রয়োজন | অন্বেষণ | DW | 24.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পাখিদের বাঁচাতে কীটনাশকে লাগামের প্রয়োজন

পোকামাকড়, বীজদানা পাখিদের খাবার৷ অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করা হলে পাখিরা না খেয়ে মরবে – বলছেন পক্ষিবিজ্ঞানীরা৷

ডেভ গুলসন তাঁর পরীক্ষাগারে ভোমরাদের একটা নিউট্রিয়েন্ট সলিউশান বা দ্রবীভূত পুষ্টিকর পদার্থ খেতে দিলেন, যাতে নিওনিক্স মেশানো রয়েছে – ঠিক সেই অনুপাতে, পোকামাকড়রা মুক্ত প্রকৃতিতে যেভাবে এই বিশেষ কীটনাশকটির সংস্পর্শে আসে৷ দেখা গেল, ভোমরারা তাদের দিকনির্ণয়ের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে, সাধারণভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে ও তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমছে৷ মৌমাছিদের ক্ষেত্রেও একই প্রতিক্রিয়া৷ নিওনিক্স প্রস্তুতকারকরা কিন্তু বলছেন যে, পরীক্ষাগারের পরিস্থিতির সঙ্গে মুক্ত প্রকৃতির অনেক ফারাক; কাজেই এই সব ফলাফল বা পর্যবেক্ষণের কোনো দাম নেই৷

অপরদিকে গবেষকদের ধারণা যে, যে সব মাঠে এই ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা হয়, সেখান থেকে অনেক দূর পর্যন্ত সেই বিষ ছড়িয়ে পড়ে৷ যে কারণে গুলসনের এক সহযোগী নিওনিক্স স্প্রে করা মাঠের চারপাশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করে দেখছেন৷ দেখা যাচ্ছে, বুনো গুল্ম-লতাপাতাতেও নিওনিক্সের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে৷ আর সেটা শুধু ভোমরাদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বললেন ডেভ গুলসন৷ 

‘‘বহু পাখি শুধু পোকামাকড় খেয়েই বেঁচে থাকে৷ কাজেই আমরা যদি খোলা মাঠে এমন সব কীটনাশক ব্যবহার করি, যেগুলো খুবই বিষাক্ত আর সহজে বিনষ্ট হয় না, আর যা পোকামাকড় মারার পক্ষে খুবই কার্যকরি, তাহলে আমরা অনিবার্যভাবে পাখিদের সংখ্যা কমিয়ে ফেলব, কেননা পাখিরা পোকামাকড় খেয়েই বেঁচে থাকে৷''

ব্রিটেনে ইতিমধ্যেই যা পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ লেক কনস্টানৎস-এর রাডল্ফসেল পক্ষিবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক পেটার ব্যার্টল্ড-ও লক্ষ্য করেছেন, কীটপতঙ্গের সংখ্যা কীভাবে কমে আসছে৷ তিনি শোনালেন, ‘‘আগে দিনে কিংবা রাতে, বিশেষ সময় গরমের সময় রাত্রে গাড়ি চালালে এতো বেশি পোকামাকড় এসে সামনের কাচে ধাক্কা খেতো যে, একাধিকবার কোনো পেট্রোল পাম্পে থেমে গাড়ির কাচ পরিষ্কার করতে হত৷ শুধু ডাঁশ নয়, বড় বড় গুবরে পোকা যেন বন্দুকের গুলির মতো এসে আছড়ে পড়তো৷''

যেখানে পোকা ওড়ে না, সেখানে পাখিদেরও খাবার কিছু থাকে না৷ একদিকে পোকামাকড় জুটছে না; অন্যদিকে গাছপালার বীজ বা দানা, যা পাখিদের খাবার, তাও কমে আসছে৷ ব্যার্টল্ড জানালেন, ‘‘যে সব বিষ স্প্রে করা হয়, তার ফলে পাখিরা পপি কিংবা কর্নফ্লাওয়ারের মতো যে সব ফুলগাছের বীজ খায়, তেমন প্রায় ২০০টি প্রজাতির ফুলগাছ বিনষ্ট হয়৷ আগে চাষের খেতে বা তার পাশে এই সব ফুল ফুটে থাকত৷ পঞ্চাশের দশকে এই ধরনের বুনোফুল থেকে বছরে দশ লক্ষ টন বীজ সৃষ্টি হত, ভাবুন, দশ লাখ টন বীজদানা৷''

আর আজ ক্রমেই আরো বেশি পাখিকে ক্ষুধার্ত থাকতে হচ্ছে৷ পেটার ব্যার্টল্ড-এর মতে এর একমাত্র সমাধান হল, শুধু শীতকালে পাখিদের জন্য দানা ছড়ালে চলবে না – সারা বছর ধরে দানা ছড়াতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন