পাক আদালতে হত্যা, ক্ষুব্ধ অ্যামেরিকা | বিশ্ব | DW | 31.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

পাক আদালতে হত্যা, ক্ষুব্ধ অ্যামেরিকা

ধর্মনিন্দার দায়ে যে অভিযুক্তকে পাকিস্তানে গুলি করে মারা হয়েছে, তিনি ছিলেন মার্কিন নাগরিক। এই ঘটনার পর তাই প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ অ্যামেরিকা।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে তাহির নামিসকে আদালতকক্ষের ভিতরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। ধর্মনিন্দার অভিযোগে তাঁর বিচার হচ্ছিল। সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তাহির নাসিম ছিলেন মার্কিন নাগরিক। তাঁকে এই ভাবে হত্যা করা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যামেরিকা। বিদেশ দফতর বলেছে, এই ধরনের লজ্জাজনক ঘটনা যাতে আর না হয়, তা নিশ্চিত করতে  অবিলম্বে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিতে হবে পাকিস্তানকে। আর তাহিরকে মারার পিছনে যারা আছে, সকলের শাস্তি হওয়া দরকার।

ধর্মনিন্দার দায়ে তাহিরের যখন বিচার চলছিল, তখনই আদালতকক্ষের মধ্যে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীকে ধরেছে পুলিশ। তারপর মার্কিন বিদেশ দফতর বিবৃতিতে জানিয়েছে, ''আমরা ব্যথিত, আতঙ্কিত এবং ক্ষুব্ধ। নাসিমকে প্রলোভন দেখিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর তাঁকে ফাঁদে ফেলে ধর্মনিন্দার আইনে বিচার শুরু হয়।'' 

বিদেশ দফতর বলেছে,  ''পাকিস্তানে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রায়ই অপব্যবহার করা হয়। তাই আমাদের আবেদন, পাকিস্তান অবিলম্বে ব্যবস্থার সংস্কার করুক। আর তাহিরকে যে বা যারা গুলি করে হত্যা করেছে, তাঁদের যেন আইনানুযায়ী শাস্তি হয়।'' 

নাসিমের বিরুদ্ধে ধর্মনিন্দার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি একটি ইসলামিক স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের বলেছিলেন, তিনিও নবী।  তাই পয়গম্বরকে অপমান করা সহ একাধিক অভিযোগে তাঁর বিচার হচ্ছিল।  একটি কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী বৃহস্পতিবারই তাহিরের হত্যাকারীর মুক্তি দাবি করেছে।

তাহিরকে হত্যার পর প্রশ্ন উঠছে, কী করে হত্যাকারী রিভলভার নিয়ে আদালতকক্ষে ঢুকল? কারণ, বাইরে থেকে আদালতকক্ষে ঢোকা পর্যন্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি করা হয়। 

পাকিস্তানে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত কঠোর আইন চালু হয় প্রাক্তন সেনা শাসক জিয়াউল হকের সময় থেকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই আইনের ফলে দাঙ্গা ও হত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানে এই আইনে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। অবশ্য ধর্মনিন্দার অভিযোগে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে ৫০ জনেরও বেশি অভিযুক্তকে মারা হয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাবের এক গভর্নরকে তাঁর দেহরক্ষী হত্যা করে, কারণ, তিনি একজন ক্রিশ্চান মহিলাকে সমর্থন করেছিলেন। আসিয়া বিবিকে ধর্মনিন্দার অভিযোগে আট বছর জেলে কাটাতে হয়েছিল। তারপর তিনি আদালতে অভিযোগমুক্ত হন। তাঁকেও হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি তখন কানাডায় চলে যান।

 

জিএইচ/এসজি(রয়টার্স, ডিপিএ)

বিজ্ঞাপন