পাকিস্তান ও লিবিয়ায় মুন্নি সাহার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.07.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

পাকিস্তান ও লিবিয়ায় মুন্নি সাহার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

সাংবাদিকতা জীবনের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে প্রথমেই পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কথা বলেন এটিএন নিউজের বার্তা বিভাগের প্রধান মুন্নি সাহা৷ এছাড়া লিবিয়ায় গাদ্দাফি বিরোধী গণবিক্ষোভের খবর পরিবেশনার কথাও জানান তিনি৷

পাকিস্তানের নির্বাচনের খবর পরিবেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা স্মরণ করে মুন্নি সাহা বলেন, ‘‘২০০৮ সালে আমি পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম৷ সেটা ছিল যেন অনেকটা অজানার উদ্দেশ্যে যাওয়া৷ দেশের নির্বাচনের খবর পরিবেশনের কাজটা একরকম৷ কারণ দেশে আমাকে সবাই চেনে৷ কোথাও কোনো বিপদ হলে আমার লাশটা অন্তত বাড়িতে পৌঁছাবে৷ কিন্তু পাকিস্তানের পরিস্থিতিটা এরকম ছিল যে, কোথাকার কোন মুন্নি সাহা৷ সেখানে একটা বোমা ফুটলে হয়তো নিজের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না৷ কিন্তু তারপরেও কি যেন একটা নেশা ছিল যে, সবচেয়ে ভালো করতে হবে৷ বেনজির ভুট্টো মারা গেছেন৷ তার এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সেখানে যাই৷ কোথায় কোথায় দূর-দুরান্তে চলে গিয়েছি৷ নওয়াজ শরিফের একটি নির্বাচনি জনসভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছি৷ আমরা যখন রাস্তায় তখন শুনলাম যে, জনসভার স্থলে বোমা হামলা হয়েছে৷ পাকিস্তানের বোমা হামলা তো বুঝতেই পারছেন কেমন হতে পারে৷ এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতি যে, ডানে-বামের সব গাড়িকেই সন্দেহ করা হচ্ছে৷ এমনকি আমাদের গাড়ির চালকও ভাবছে যে, ডানের গাড়ি থেকে বোমা ফাটবে নাকি বামের গাড়ি থেকে ফাটবে - এ রকম একটা অবস্থা৷ আমি ঠিক বোঝাতে পারবো না যে, সেটা কেমন পরিস্থিতি ছিল৷ আমার চিত্রগ্রাহক বলছেন যে, ‘দিদি, সেখানে না গেলেই নয়? কী দরকার? এটা তো ওদের দেশ৷' আমি বললাম, ওদের দেশ, ঠিক আছে৷ কিন্তু আমি তো কাজ করতে গিয়েছি৷ আমাকে ঠিক পেশাদারিত্বের সাথেই কাজ করতে হবে৷ আমি আমার পরিশ্রম দিয়ে সেরা জিনিসটা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবো৷ তারপরও আমি জানিনা কতটুকু পেরেছি৷''

Rückkehr Bangladesh Arbeiter

সংকটের সেই দিনে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক-কর্মী

সম্প্রতি লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ এবং পরবর্তী যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন মুন্নি সাহা এবং তাঁর সহকর্মীরা৷ সেখানকার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘লিবিয়ায় কাজ করাটা আমার বড় একটা তৃপ্তির বিষয় ছিল৷ অনেক পরিশ্রমও হয়েছে৷ কিন্তু এতগুলো মানুষ, প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি যারা লিবিয়ায় ছিলেন, তাদের অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি৷ আমরা তিনটা দেশের সীমান্তে কাজ করেছি৷ একদিকে তিউনিসিয়ায় কোনো সরকার ছিল না৷ আবার মিশরেও কোনো সরকার ছিল না, কারণ তখন তাহরির চত্বরের আন্দোলন মাত্র শেষ হয়৷ এ রকম একটা সংকটজনক পরিস্থিতিতে মিশরের সীমান্তে এবং তিউনিসিয়ার সীমান্তে কাজ করতে হয়েছে৷ সেখানে আমি এবং এটিএন নিউজ'এর তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিশুক মনীর সঙ্গে গিয়েছিলাম৷ আপনারা জানেন, তিনি পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন৷ আমরা একসঙ্গে অনেক জায়গা থেকে সংবাদ পরিবেশনের কাজ করেছি৷ লিবিয়াতেও আমরা একসাথেই গিয়েছিলাম৷

অডিও শুনুন 05:05

মুন্নি সাহার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক পরিবেশনাটির তৃতীয় পর্ব এখানে

লিবিয়ায় একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ অবস্থার মধ্যে বেশ রোমাঞ্চিত অনুভব করেছি৷ সেখানে আমার খবর পরিবেশনের অবস্থাটা এমন ছিল যে, যতক্ষণ আমার মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক চালু ছিল এবং আমার কথা শোনা যাচ্ছিল, ততক্ষণই আমি কথা বলেছি এবং সেটা লাইভ সম্প্রচার হয়েছে৷ যেমন আমি ফোনে বলেছি যে, সে মুহূর্তে আমরা সালোম সীমান্ত পার হয়ে লিবিয়ায় ঢুকেছি৷ এখন এই শহরে পৌঁছেছি৷ আমাদের হাতে আর কোনো ফোনকার্ড নেই৷ আমরা তা পাওয়ার চেষ্টা করছি - এরকম৷ মানে শুধু ধারা বর্ণনা৷ আমি পরে ঢাকায় এসে শুনলাম যে, মানুষ তো মন্ত্রমুগ্ধের মতো টিভিতে ঐ বর্ণনাগুলো শুনেছে৷ এমনকি অনেকে আমাদের টিভি কার্যালয়ে এসে এগুলো দেখতে চেয়েছেন৷ অবস্থাটা এমন যে, টিভি কার্যালয়ে এসে দেখলে যেন আরো কাছে দেখা যায়৷ আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন যে, সেসময় আমাদের অভ্যর্থনা কক্ষ লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল৷ তাদের কথা, তারা এখানে দাঁড়িয়ে টিভি দেখবে যে, মুন্নি সাহা কী করছে? কোথায় যাচ্ছে? যখন আমার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই এবং আমি জানি না যে কোথায় যাচ্ছি কিংবা আবার কখন কথা বলতে পারবো, তখন অনেক লোক কান্নাকাটি শুরু করেছে যে, মেয়েটার কী হলো? ফিরে এসে আমার ভালো লেগেছে যে, আসলে জীবনে সবসময় এমন অভিজ্ঞতা হয় না৷ তাই আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয় যে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছেন৷''

সাংবাদিক হতে আগ্রহী মেয়েদের উদ্দেশ্যে মুন্নি সাহা বলেন, ‘‘আমি চাই যে, যারা যে কাজ করে, তারা সে কাজটিকে ভালোবেসে করুক৷ আমার কাছে মনে হয় যে, অনেকের শখ থাকে বাগান করার৷ এখন সেই শখের কাজটি করেই যদি কেউ অর্থ উপার্জন করতে পারে - এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না৷ আমার শখ হচ্ছে এরকম সৃষ্টিশীল কিছু করা৷ প্রতিদিন টানটান উত্তেজনার মধ্যে থাকবো৷ হাজার হাজার মানুষ মাথার উপরে চিৎকার, চেঁচামেচি করছে৷ অথচ তার মধ্যেই প্রতিবেদন লিখে ফেলছি, বৈঠক করছি, তার মধ্যেই সংবাদ সম্প্রচার হচ্ছে৷ মানে অনেক কিছু একসাথে চালিয়ে যাচ্ছি৷ সেগুলো করতেই ভালো লাগছে৷ আবার এগুলো করেই মাস গেলে বেতন পাচ্ছি৷ এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ আর কী হতে পারে? তাই আমি মনে করি, যারা এই কাজ করবেন, তারা যদি ভালোবেসে করেন, তাহলেই মোক্ষ সাধন সম্ভব হবে৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন