পাকিস্তানে যেভাবে অনলাইন ডেটিং করছেন নারীরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.08.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান

পাকিস্তানে যেভাবে অনলাইন ডেটিং করছেন নারীরা

পাকিস্তানের সমাজে নারী-পুরুষের মেলামেশা বিষয়ে রয়েছে নানা ধরনের বিতর্ক৷ অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ‘টিন্ডার' কীভাবে বদলাচ্ছে এই চিত্র?

পুরুষনিয়ন্ত্রিত পাকিস্তানি সমাজ এখনও নারীপুরুষের মধ্যে ক্যাসুয়াল ডেটিংকে সহজভাবে নেয় না৷ কিন্তু ৩২ বছর বয়েসি ফায়কার মতো আরো অনেক কমবয়েসিরা আজকাল ‘টিন্ডার’ অ্যাপ ব্যবহার করে ডেটিং জগতে পা রাখছেন৷ যদিও পাকিস্তানি সমাজ এখনও এবিষয়ে যথেষ্ট রক্ষণশীল, তাও এই অ্যাপ নতুনভাবে সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ করছে৷

ফায়কা গত দু'বছর ধরে টিন্ডারের নিয়মিত ব্যবহারকারী৷ তাঁর মতে, এই অ্যাপ পাকিস্তানে নারীদের নিজের পছন্দের সঙ্গী বাছাই করার সুযোগ দিচ্ছে৷ তারপরেও, পুরুষরা এখনও নারীদের এতটা স্বাধীনতার সাথে অভ্যস্ত নন৷ এবিষয়ে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি টিন্ডারের মাধ্যমে এমন অনেক পুরুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যারা নিজেদের খোলামনের নারীবাদী বলেন৷ কিন্তু তবুও অনেকে আমায় প্রশ্ন করেন যে আমার মতো তথাকথিত ভদ্র, শিক্ষিত মেয়ে কেন টিন্ডার ব্যবহার করছে৷’’

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে অনলাইন ডেটিং

এখন পর্যন্ত ভারতেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে টিন্ডার৷ কিন্তু আস্তে আস্তে এই বাজারে বাড়ছে পাকিস্তানের আগ্রহও৷ ইন্দোনেশিয়ান জার্নাল অফ কমিউনিকেশন স্টাডিজের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিন্ডার ব্যবহারকারীরা৷

কিন্তু টিন্ডারের বাজারে ভাগ বসাচ্ছে আরেকটি ডেটিং অ্যাপ ‘মুজম্যাচ’, যার মূল আকর্ষণ হলো ক্যাসুয়াল ডেটিং করতে আগ্রহী ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একে অন্যের সাথে পরিচিত করানো৷ রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নারীবাদী অ্যাপ ‘বাম্বল’৷

অ্যাপের বৈচিত্র্যের প্রশ্নে লাহোরের শিক্ষার্থী নিমরা বলেন, ‘‘বাম্বল ব্যবহারকারীদের মধ্যে পুরুষ সংখ্যায় খুব কম৷ তাই সেটা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি৷ টিন্ডার তুলনায় অনেক বেশি পরিচিত, তাই সেখানে হঠাৎ করে পরিচিত কেউ আমায় খুঁজে বের করেনিতে পারেন, তাই কিছুটা অস্বস্তিতে থাকি৷’’

শিখদের শ্মশানঘাট পাহারায় পাকিস্তানের মুসলিম পরিবার

সমাজ কীভাবে দেখছে?

পাকিস্তানে ক্রমশ নতুন প্রজন্মের পছন্দ অনলাইন ডেটিঙের দিকে ঝুঁকছে, কারণ এতে সামাজিক হস্তক্ষেপ অনেকটাই কম৷

লাহোরের নারী অধিকারকর্মী নাবিহা মেহের শেখ বলেন, ‘‘একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপ নারীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়৷ সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে অপরপ্রান্তের মানুষের কাছে তার কী চাওয়া-পাওয়া৷ আমাদের সমাজে এটা জনসমক্ষে করার স্বাধীনতা না থাকায় নারীদের পক্ষে নিজেদের মতো করে সম্পর্ক গড়া কঠিন হয়ে পড়ে৷''

তবুও কিছু নারীরা এখনও খোলামনে টিন্ডার ব্যবহার করা নিয়ে সংশয়ে ভোগেন৷ ২৫ বছরের আলিশবা লাহোরের বাসিন্দা৷ তাঁর মত, ‘‘আমাদের আসল নাম বা ছবি দিলে অনেক সময় পুরুষরা আমাদের পিছু নেয়, আমাদের ধাওয়া করে৷ আমরা পাত্তা না দিলে সোশাল মিডিয়ায় আমাদের খুঁজে বের করে নানা কুপ্রস্তাব দেয়৷’’

২৮ বছরের ফারিহা জানান, ‘‘আমি সব সময় কোনো পাবলিক জায়গায় দেখা করতে পছন্দ করি৷ তাতে নিরাপদ বোধ করি৷ কারণ মাঝেমাঝে আমি দেখি যে কিছু পুরুষ শুধু আমাকে তাদের বাসায় ডাকেন৷ তারা মনে করেন যেহেতু আমি অনলাইন ডেটিং করছি, সুতরাং আমি সব প্রস্তাবেই রাজি হব৷''

পাকিস্তানে সমাজের কিছু অংশ এই ধরনের অ্যাপের জনপ্রিয়তাকে নারীর ক্ষমতায়নের চিহ্ন হিসাবে দেখেন৷ কিন্তু কেউ কেউ মনে করেন, এইসব অ্যাপ লুকিয়ে ব্যবহার করা আসলে লুকিয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত হবার সমান৷

সেহির মির্জা/এসএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়